📌 বাংলাদেশের পোশাক কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে সিপিডির সমীক্ষা। প্রায় ১ হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় ১৮৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়েছে
বাংলাদেশের তিন হাজার ৩২০টি পোশাক কারখানার ছাদে প্রায় এক হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। প্রতিষ্ঠানটির এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক সেমিনারে ‘পোশাক কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা’ শীর্ষক এই সমীক্ষার তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেশের তিন হাজার ৩২০টি পোশাক কারখানায় প্রায় এক হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব
- 📌 সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজন হবে ১৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ
- 📌 বর্তমানে পোশাক কারখানার বিদ্যুতের মাত্র তিন শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে
- 📌 লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বিদ্যুতের চাহিদার ১৪ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে সরবরাহ করা
- 📌 ইতোমধ্যে পাঁচশ কারখানা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রস্তুত, আরও এক হাজার তিনশ কারখানাকে দ্রুত উৎপাদনে আনা সম্ভব
- 📌 সৌরবিদ্যুৎ অবকাঠামো স্থাপনে শুল্ক জটিলতা ও উচ্চ ব্যয় প্রধান প্রতিবন্ধকতা
📰 বিস্তারিত
সিপিডির সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের পোশাক শিল্পের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তিন হাজার ৩২০টি কারখানার ছাদে প্রায় এক হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। সেমিনারে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, ইতোমধ্যে পাঁচশ কারখানা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও জানান, নীতিসহায়তা ও অন্যান্য সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে আরও এক হাজার তিনশ কারখানাকে দ্রুত এই উৎপাদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে দেশের পোশাক কারখানায় বিদ্যুতের চাহিদার মাত্র তিন শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। সিপিডির গবেষণা সহযোগী আবরার আহাম্মেদ ভূঁইয়া জানান, এই হার বৃদ্ধি করে ১৪ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অবকাঠামো স্থাপনের খরচ কমানো অত্যন্ত জরুরি।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীরা জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সরকার শুল্ক সুবিধা প্রদান করলেও এর সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির সহসভাপতি জাহিদুল আলম বলেন, বাণিজ্যিকভাবে সৌর প্যানেল আমদানিতে সরকারি শুল্কের হার সাড়ে ১৩ শতাংশ হলেও প্রকৃতপক্ষে প্রতি কেজিতে তিন ডলার শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত শুল্ক হার দাঁড়াচ্ছে ২৭ শতাংশের বেশি। তিনি জানান, এই উচ্চ শুল্কের কারণে ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি ব্যবহারকারীদের ওপর বিদ্যুৎ খরচের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব স্বীকার করলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গতি কম। তিনি আরও জানান, অবকাঠামো স্থাপনের খরচ কমিয়ে আনতে পারলে এই খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।
"সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অবকাঠামো স্থাপনের খরচ কমানো প্রয়োজন। শুল্কায়নে জটিলতার অভিযোগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে শুল্কসুবিধা দেওয়া হলেও এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, আবরার আহাম্মেদ ভূঁইয়া, জাহিদুল আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: তিন হাজার ৩২০টি কারখানা, এক হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াট, ১৮৮ মিলিয়ন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!