📌 জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় পানিতে নিমজ্জিত পতিত জমিতে পানিফল চাষ করে কৃষকরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। কম খরচে উচ্চ ফলন ও বহুমুখী ব্যবহারে এই চাষের সম্ভাবনা বাড়ছে। স্থানীয় কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হচ্ছে
জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় পানিতে ডুবে থাকা পতিত জমিগুলি স্বাবলম্বী কৃষকদের নতুন আশার জন্ম দিচ্ছে। পানিফল চাষের মাধ্যমে এ জমিগুলি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। কৃষিবিদদের মতে, এই উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় পানিতে নিমজ্জিত জমিতে পানিফল চাষে কৃষকরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন
- 📌 পানিফল শুকিয়ে আটা তৈরি করে রুটি, গ্লুকোজ উৎপাদন সম্ভব বলে আশা কৃষিবিদদের
- 📌 স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে ফল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে
- 📌 কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, পানিফল চাষে লাভের সম্ভাবনা বেশি, খরচ কম
- 📌 উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া বলেছেন, জলাবদ্ধ জমিতে পানিফল চাষের সম্ভাবনা বেশি
📰 বিস্তারিত
জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় পানিতে ডুবে থাকা জমিগুলি এখন পানিফল চাষের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন পানিতে নিমজ্জিত থাকা এই জমিগুলোতে অন্যান্য ফসল চাষ করা সম্ভব নয়। কিন্তু পানিফল চাষের মাধ্যমে তারা স্বাবলম্বী হতে সক্ষম হচ্ছেন।
পানিফল, যা স্থানীয়ভাবে ‘শিঙাড়া’ নামে পরিচিত, পানিতে ভাসমান গাছে জন্মায়। এর গাঢ় সবুজ ও খয়েরি রংয়ের খোসা ছাড়িয়ে খেতে হয়। ভেতরের শাঁস দুধের মতো সাদা এবং খেতে খুবই সুস্বাদু। স্থানীয় মানুষ ‘শিঙাড়া’ সিদ্ধ করে সকালের নাস্তা হিসাবে খায়। পাকা ‘শিঙাড়া’ সবজি হিসাবেও ব্যবহৃত হয়। রোদে শুকিয়ে মেশিনে অথবা ঢেঁকিতে পানিফলের আটা তৈরি করে রুটি হিসাবেও খাওয়া হয়। কৃষিবিদরা আশা করছেন, উৎপাদিত ফল প্রক্রিয়াজাত করে গ্লুকোজ তৈরি করা যাবে।
কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আগে এই জমি পড়ে থাকতো। এখন পানিফল চাষ করে এখান থেকে ভালো আয় করতে পারছি। খরচ বাদ দিয়েও লাভ থাকে। বাজারে দাম ভালো থাকলে এ চাষ করে সংসার চালানো সম্ভব।’ পানিফল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। কৃষকের পাশাপাশি শ্রমিকরা ফল সংগ্রহ, বাছাই ও পরিবহণের কাজে যুক্ত হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া জানান, যেসব জমি দীর্ঘ সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকে, সেসব জমিতে পানিফল চাষের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘কৃষকদের এ চাষে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।’ কৃষকদের দাবি, উন্নত জাতের চারা সরবরাহ, সহজ শর্তে ঋণ, চাষাবাদে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং উৎপাদিত পানিফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ চাষ আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব।
"আগে এই জমি পড়ে থাকতো। এখন পানিফল চাষ করে এখান থেকে ভালো আয় করতে পারছি। খরচ বাদ দিয়েও লাভ থাকে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জামাল উদ্দিন, রতন মিয়া (উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ (পানিফল চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়া কৃষক সংখ্যা উল্লেখযোগ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!