📌 আর্জেন্টিনার সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি ২১ বছরের জাতীয় দলের জীবনের শেষ ম্যাচে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আবেগের জ্বালা জ্বালিয়ে দিলেন। ৩৯ বছর বয়সে তিনি ১২৬তম জাতীয় দলের গোল করে বিদায় নিলেন
আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো ৭ অক্টোবর। লিওনেল মেসি ২১ বছরের জাতীয় দলের জীবনের শেষ ম্যাচে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আবেগের জ্বালা জ্বালিয়ে দিলেন। হাজার হাজার আর্জেন্টিনার হৃদয় ভেঙ্গে পড়লো যখন এই ‘ভিনগ্রহী’ তার জন্মদাতা দেশের পক্ষে সর্বশেষ মাঠে নামলেন। স্টেডিয়ামে কাঁদতে কাঁদতে মাঠে নামলেন তিনি, যিনি আর্জেন্টিনার ফুটবলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২১ বছরের জাতীয় দলের জীবনের শেষ ম্যাচে** লিওনেল মেসি ৩৯ বছর বয়সে ১২৬তম গোল করে বিদায় নিলেন আর্জেন্টিনার পক্ষে।
- 📌 **মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে** মেসি বাসে বসে কাঁদতে কাঁদতে মাঠে নামার আগেই চোখের পানি মুছছিলেন।
- 📌 **বিড়ালের মতো** মাঠে নামার সময় গ্যালারি থেকে উঠে দাঁড়িয়ে হাত তুলে সবাইকে অভিবাদন জানালেন।
- 📌 **৩-০ গোলে** আর্জেন্টিনা জয়লাভ করে, যেখানে মেসি নিজেই দুটি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট দিয়েছিলেন।
- 📌 **ছোটবেলা থেকে ফুটবল** ছিল মেসির একমাত্র স্বপ্ন, যা বাবা হোর্হের এবং দাদি সেলিয়ার অনুপ্রেরণা থেকে শুরু হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের সর্বশেষ ম্যাচে মেসির বিদায়ের মুহূর্তটি ছিল এক অপূর্ব আবেগের সমাবেশ। স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের গর্জন মেশে গিয়েছিল ‘মেসি... মেসি...’ শব্দে। শিশু থেকে বয়স্ক সবাই কাঁদছিলেন, কারণ এই ফুটবলার আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের সাথে জড়িত ছিলেন ২১ বছর। তিনি ছিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলের প্রতীক, যিনি দেশের প্রতিটি বড় ছেলের স্বপ্নের মতো হয়ে উঠেছিলেন।
মেসি বাসে বসে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিলেন। চোখের সামনে ভেসে উঠছিল জাতীয় দলের জার্সিতে কাটানো দুই দশকের বেশি সময়। তিনি বারবার চোখের পানি মুছছিলেন। মনুমেন্তালে পৌঁছার মুহূর্তে আবেগের আরেকটি ধাক্কা। সাজানো ড্রেসিংরুমে চারপাশে মেসিকে ঘিরে স্মৃতির আবহ। তিনি আগেই ফোন করে নিশ্চিত করেছিলেন যে স্ত্রী আন্তোনেলা এবং তিন ছেলে ভিআইপি বক্সে উপস্থিত। ওয়ার্মআপে নামার সময় গ্যালারি থেকে উঠে দাঁড়িয়ে তিনি কান্না চেপে রাখার চেষ্টা করলেন, কিন্তু পারলেন না। শুধু হাত তুললেন সব দিকে।
মাঠে নামার মুহূর্তে মেসি আকাশের দিকে তাকালেন। সঙ্গে ছিলেন তিন ছেলে। জাতীয় সংগীত বাজছিল, কিন্তু মেসি গাইতে পারলেন না। গলায় ছিল আবেগের বিশাল দলা। সেই মুহূর্তে মনে পড়লো ছোট্ট লিওর কথা, যিনি দাদি সেলিয়ার হাত ধরে মাঠে নিয়ে যেতেন খেলা দেখতে। মেসি তাঁর সাম্প্রতিক অ্যালবাম ‘লাস্ট ড্যান্স’ দাদি সেলিয়ার এবং বাবা হোর্হেরের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। ফুটবলের প্রতি তাঁর ভালোবাসার শুরু ছিল সেই দিনগুলোতে। আজ তার সবচেয়ে প্রিয় অধ্যায়ের শেষ হলো।
"ওকে নামান, ও ম্যাচ বাঁচিয়ে দেবে।" — মেসির প্রথম কোচ সালভাদর আপারিসিও
বিদায়ী ম্যাচে মেসি প্রতিটি আচার মানলেন। টসের পর বেনিনের অধিনায়কের হাতে তুলে দিলেন আর্জেন্টিনার পতাকা। বেনিনের অধিনায়কও তাঁর হাতে তুলে দিলেন বিশেষ উপহার। সতীর্থদের প্রত্যেককে আলিঙ্গন করলেন। ম্যাচের শুরুতে মেসি এবং দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আলিঙ্গন ও বিনিময় চলছিল। মিনিট দশেকের মধ্যে খেলাও একটু থেমে গেল। দ্বিতীয়ার্ধে মেসি খেলার দিকে মনোনিবেশ করলেন। নিকোলাস ওতামেন্দির গোলে তাঁর অ্যাসিস্ট দিয়েছিলেন। তারপর নিকো পাজকে গোলের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। শেষে পেনাল্টি থেকে গোল করে ৩-০ গোলে আর্জেন্টিনা জয়লাভ করে। সতীর্থরা তাঁকে ঘিরে গোল হয়ে দাঁড়ালেন, যেন জন্মদিনের কেকের চারপাশে সবাই।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম, আর্জেন্টিনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লিওনেল মেসি, আন্তোনেলা মেসি, থিয়াগো, সিরো, মাতেও মেসি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ বছর (জাতীয় দলের জীবন), ১২৬তম গোল, ৩৯ বছর বয়স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!