📌 বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অর্থনৈতিক ধীরগতির কারণে বাংলাদেশে গত অর্থবছরে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে ২১ লাখ মানুষ। প্রবৃদ্ধি ৩.৪% আটকে থাকা, ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ৩৩.২% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সংস্থাটি জ্বালানি খাত ও ব্যাংকিং সংস্কারের দাবি তুলেছে
বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার চিত্র খুবই উদ্বেগজনক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরে অর্থনীতির ধীরগতি, বিনিয়োগের কমে যাওয়া এবং জ্বালানি সংকটের কারণে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে প্রায় ২১ লাখ মানুষ। বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দারিদ্র্য হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০.১ শতাংশে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত অর্থবছরে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে ২১ লাখ মানুষ, জাতীয় দারিদ্র্য হার বেড়েছে ২২.৫ শতাংশে
- 📌 ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে আটকে থাকতে পারে, ২০২৮ সালে ৩.৯ শতাংশে উন্নতি সম্ভাব্য
- 📌 বেসরকারি বিনিয়োগ কমেছে ০.৫ শতাংশ, সরকারি বিনিয়োগ কমেছে ০.৭ শতাংশ
- 📌 শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ, তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্প উৎপাদন ০.৩ শতাংশ কমেছে
- 📌 খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩৩.২ শতাংশ, ইসলামি ব্যাংকগুলিতে ৫৮.৯ শতাংশ
- 📌 জাতীয় রাজস্ব জিডিপির মাত্র ৮.৩ শতাংশ, কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি
📰 বিস্তারিত
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেছেন, অর্থনীতির ধীরগতি, বিনিয়োগের কমে যাওয়া এবং জ্বালানি সংকটের কারণে দারিদ্র্য বাড়ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ৫.৮ শতাংশ। পরের দুই অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ৪.২ এবং ৩.৫ শতাংশে কমে যায়। গত অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি নেমে আসে ২.২ শতাংশে, যা করোনা পরের সর্বনিম্ন।
ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩৩.২ শতাংশে পৌঁছেছে। ইসলামি ব্যাংকগুলিতে এ হার ৫৮.৯ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে ৪৩.২ শতাংশ। ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক মূলধন পর্যাপ্ততার হার ঋণাত্মক ২.৬ শতাংশে নেমেছে, যা নিয়ন্ত্রক হার ১০ শতাংশের চেয়ে অনেক কম।
বিশ্বব্যাংক বলেছে, সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩০.৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বেসরকারি খাতের ঋণের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৮২.৬ শতাংশ কর আদায় করেছে, যা জিডিপির মাত্র ৮.৩ শতাংশ। সীমিত করভিত্তি, কর ফাঁকি এবং দুর্বল প্রশাসন রাজস্ব বৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
"অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জ্যঁ পেসমে (বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগীয় পরিচালক), নাজমুস সাদাত খান ও ধ্রুব শর্মা (বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ লাখ (দারিদ্র্যের মধ্যে পড়া মানুষ), ৩.৪ শতাংশ (প্রবৃদ্ধি), ৩৩.২ শতাংশ (খেলাপি ঋণ), ২২.৫ শতাংশ (জাতীয় দারিদ্র্য হার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!