📌 চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪৭ কোটি ডলারে। জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি ও রফতানি আয় বৃদ্ধির অপূর্ণতা এই ঘাটতির মূল কারণ। রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও চলতি হিসাবের ঘাটতি ১৩৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে
বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনে নতুন চাপ সৃষ্টি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪৭ কোটি ডলারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, এই সময়ে পণ্য আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৯৩৩ কোটি ডলারের মাত্রে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে পণ্য রফতানি হয়েছে মাত্র ৮৩৮ কোটি ডলারে, যা ৭ শতাংশ বেশি। এই ব্যবধানের ফলেই বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ৭৪৭ কোটি ডলারে — জুলাই-সেপ্টেম্বরে আমদানি ১ হাজার ৯৩৩ কোটি ডলার, রফতানি ৮৩৮ কোটি ডলার
- 📌 জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ১০৫ শতাংশ — অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে ৪২২ কোটি ডলার ব্যয়, আগের বছরের তুলনায় ২০৫ কোটি ডলার বেশি
- 📌 চলতি হিসাবের ঘাটতি ১৩৩ কোটি ডলারে — আগের মাসে উদ্বৃত্ত থাকলেও সেপ্টেম্বর শেষে ঘাটতি সৃষ্টি
- 📌 সামগ্রিক লেনদেনে ঘাটতি ১১৬ কোটি ডলারে — বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ প্রত্যাশিত হারে না বাড়ায় পরিস্থিতি জটিল
- 📌 রেমিট্যান্সে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও — বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের চাপ আমদানি ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি
📰 বিস্তারিত
বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও ভোগ্যপণ্যের দামবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ১০৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও লুব্রিকেন্ট আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৪২২ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে ব্যয় ছিল মাত্র ২০৫ কোটি ডলার। অন্যদিকে, শিল্প খাতের স্থবিরতা ও জ্বালানি সংকটের কারণে রফতানি আয় বৃদ্ধির প্রত্যাশিত গতি পূরণ হয়নি। ফলে আমদানি ও রফতানির মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে।
বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশের চলতি হিসাবের ভারসাম্যেও। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) চলতি হিসাবে ৫৯ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল। তবে সেপ্টেম্বর শেষে তা ঘাটতিতে পরিণত হয়েছে। তিন মাস শেষে চলতি হিসাবের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩৩ কোটি ডলারে। অথচ এই সময়ে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে ১৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ছিল। তবে আমদানি ব্যয়ের চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, রফতানি ও রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আসছে, আমদানির বিপরীতে তার চেয়ে বেশি ডলার ব্যয় হচ্ছে। ফলে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
"রফতানি ও রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আসছে, আমদানির বিপরীতে তার চেয়ে বেশি ডলার ব্যয় হচ্ছে। ফলে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।"
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রফতানি ও রেমিট্যান্সের পাশাপাশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এবং বিদেশি ঋণপ্রবাহ বাড়ানো জরুরি। কিন্তু বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে বৈদেশিক লেনদেনের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আর্থিক হিসাবে ঘাটতি থাকলেও সেপ্টেম্বর শেষে তা আবার উদ্বৃত্ত ধারায় ফিরেছে। তিন মাস শেষে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ডলার। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ উদ্বৃত্ত অনেক কম।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৪৭ কোটি ডলার (বাণিজ্য ঘাটতি), ১৩৩ কোটি ডলার (চলতি হিসাবের ঘাটতি), ১১৬ কোটি ডলার (সামগ্রিক লেনদেনের ঘাটতি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!