📌 বাংলাদেশে গাড়ি কেনার ঋণ সুদহার ৮.৯৯% থেকে ১০% পর্যন্ত কমেছে। ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির ঋণ বিতরণ দ্বিগুণ হয়েছে এবং ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে। সিটি ব্যাংক প্রতি মাসে ১২০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করছে
বাংলাদেশে গাড়ি কেনার ঋণ সুদহার উল্লেখযোগ্য হারে কমে ৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। এর ফলে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। ব্যাংকগুলো এখন একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এছাড়াও, গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার সুবিধা বাড়ছে, যেখানে কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি বন্ধক রাখার প্রয়োজন হয় না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাড়িঋণ সুদহার কমে ৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশে নেমে এসেছে।
- 📌 ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির ঋণ বিতরণ দ্বিগুণ হয়েছে এবং এগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া যাবে।
- 📌 সিটি ব্যাংক প্রতি মাসে ৩০০-৩৫০টি গাড়ির ঋণ দিচ্ছে, যা প্রায় ১২০ কোটি টাকা।
- 📌 ব্যবসায়ীরা, চাকরিজীবীরা, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীরা বেশি গাড়ি কেনার ঋণ নিচ্ছেন।
- 📌 ব্যাংকগুলো গ্রাহকের বর্তমান আর্থিক অবস্থা যাচাই করে ঋণ প্রদান করছে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংক গত মে মাসে একটি প্রজ্ঞাপনে জানায়, ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ি কেনার জন্য ব্যাংকগুলো একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে। অন্যদিকে, সাধারণ গাড়ির ক্ষেত্রে ঋণসীমা সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা। এই ঋণের অর্থায়ন সুবিধা সাধারণ গাড়ির ক্ষেত্রে ৬০:৪০ ঋণ-ইকুইটি অনুপাতে এবং হাইব্রিড বা ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০:২০ অনুপাতে প্রদান করা হয়। অর্থাৎ, এক কোটি টাকার গাড়ির ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহককে ৬০ লাখ টাকা ঋণ দিতে পারে, বাকি ৪০ লাখ টাকা গ্রাহক নিজে দিতে হবে। তবে একই দামের হাইব্রিড বা ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে ব্যাংক ৮০ লাখ টাকা দিতে পারে, গ্রাহককে দিতে হবে মাত্র ২০ লাখ টাকা।
সিটি ব্যাংক গাড়িঋণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখাচ্ছে। প্রতি মাসে ৩০০-৩৫০টি গাড়ির ঋণ দিচ্ছে ব্যাংকটি, যা প্রায় ১২০ কোটি টাকা। সিটি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক অরূপ হায়দার বলেন, “আমাদের গাড়িঋণের ২৫-৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ঋণ বিতরণ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। গাড়িঋণের অর্ধেকই হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ির।” তিনি আরও বলেন, সাধারণত ব্যবসায়ীরা গাড়ি কেনার জন্য বেশি ঋণ নিয়ে থাকেন। এরপর চাকরিজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও হিসাববিদেরা বেশি গাড়ি কেনেন।
ব্র্যাক ব্যাংকও প্রতি মাসে গাড়ি কিনতে ৫০-৬০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। এখানে গাড়িঋণের বেশিরভাগই ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির জন্য। ব্র্যাক ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং প্রধান মো. মাহীয়ুল ইসলাম বলেন, “গাড়ি কেনার ঋণের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। হাইব্রিড গাড়ি কিনতে এখন ঋণের আবেদন জমা পড়ছে। গ্রাহকেরা এখন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিচ্ছেন, যদিও ব্যাংক সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারে।”
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক প্রতি মাসে ১৩ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে, যা প্রায় ৪৫টি গাড়ির জন্য। এর মধ্যে ৬১ শতাংশ হাইব্রিড ও ইলেকট্রিক গাড়ি। প্রাইম ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকও ৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ সুদে গাড়ি কেনার জন্য ঋণ দিচ্ছে। আইএফআইসি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আকতার উদ্দীন আহমেদ বলেন, “আমরা নতুন করে গাড়ির ঋণ দেওয়া শুরু করেছি। এই ঋণে ঝুঁকি কম এবং নীতিমালা শিথিল করায় ঋণসীমা বেড়েছে। এ জন্য আমরা সুদের হার কমিয়ে গ্রাহক আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছি।”
"আমাদের গাড়িঋণের ২৫-৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ঋণ বিতরণ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। গাড়িঋণের অর্ধেকই হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ির।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অরূপ হায়দার (সিটি ব্যাংক), মো. মাহীয়ুল ইসলাম (ব্র্যাক ব্যাংক), শেখ আকতার উদ্দীন আহমেদ (আইএফআইসি ব্যাংক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮.৯৯%, ১০%, ৮০ লাখ টাকা, ৬০ লাখ টাকা, ২৫-৩০%, ৬১%, ১২০ কোটি টাকা, ৩০০-৩৫০টি গাড়ি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!