📌 যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে দিয়েছে, ফলে ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাস জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে নিউইয়র্ক যেতে পারবেন না। ইসরায়েলি নেতাদের কোনো ভিসা বাধা নেই, এমনকি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কর্মকর্তা ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) সদস্যদের ওপর আরও কড়া ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাস আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নিউইয়র্কে ভাষণ দিতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের ফলে টানা দ্বিতীয় বছরে ফিলিস্তিনি নেতাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, ফলে মাহমুদ আব্বাস জাতিসংঘে ভাষণ দিতে পারবেন না
- 📌 মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অভিযোগ করেছে, পিএলও সরাসরি আলোচনার বাইরে গিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করছে
- 📌 ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো ভিসা নিষেধাজ্ঞা নেই, এমনকি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও
- 📌 জাতিসংঘের মিশন কর্মীদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবে, কিন্তু কিছু কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের ফলে ফিলিস্তিনি নেতাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি হয়েছে
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর একটি বিবৃতিতে বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে সংস্কারের ব্যর্থতা এবং শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ডের কারণে পিএলও সদস্যদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে’। মার্কিন দপ্তর পিএ–এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও করেছে। তারা দাবি করেছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সরাসরি আলোচনার বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করছে এবং ইসরায়েলের বিরোধকে আন্তর্জাতিক আদালতগুলোতে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যাদের হামলার দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তাদের পরিবারের সদস্যদের অর্থ প্রদানের অভিযোগও তুলেছে ওয়াশিংটন।
এই পদক্ষেপের ফলে ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাসের ভাষণে আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি আরও জোরালো হতে পারতো। পাশাপাশি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে নতুন করে গতি আনার আহ্বানও আসতে পারতো। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ভাষণে যেতে পারবেন না তিনি। গত মাসে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডাসহ বেশ কয়েকটি পশ্চিমা সরকার ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর এই বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। আব্বাসের ভাষণে গাজার মানবিক বিপর্যয় এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিষয়টিও তুলে ধরার কথা ছিল।
এদিকে, কোনো ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্কিন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নেই। যদিও গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। গত বছর ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্রের এই ভিসা নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, জাতিসংঘের আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে যেতে চাওয়া ব্যক্তিদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা তা লঙ্ঘন করে।
“যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিপরীতে সংস্কারে ব্যর্থতা এবং শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন চলমান কর্মকাণ্ডের কারণে পিএলও সদস্য ও পিএ কর্মকর্তাদের ভিসা না দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্র বাড়াবে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (জাতিসংঘ সদর দপ্তর), ওয়াশিংটন (যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাহমুদ আব্বাস (ফিলিস্তিনি নেতা), বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ (টানা দ্বিতীয় বছর ফিলিস্তিনি নেতাদের বাধা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!