📌 যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) তিন বছরের বেশি সময় পর নীতি সুদের হার বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশে নিয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতির উচ্চ হার ও ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতার মধ্যেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) তিন বছরের বেশি সময় পর মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সংযত পদক্ষেপ নেয়। বুধবার এক বৈঠকে ফেড সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে নীতি সুদের হার বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশের পরিসরে নিয়ে যায়। এই সিদ্ধান্তের পিছনে মূল্যস্ফীতির উচ্চ হার ও অর্থনীতিতে চাপের কারণে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ জানান, মূল্যস্ফীতির হার পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ২ শতাংশের চেয়ে বেশি রয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফেড তিন বছরের বেশি সময় পর নীতি সুদের হার বাড়িয়ে ৪ শতাংশে নিয়ে যায় (৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশ)।
- 📌 মূল্যস্ফীতির হার পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ২ শতাংশের উপরে রয়েছে বলে জানান ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ।
- 📌 ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও পণ্য দামে প্রভাব ফেলেছে।
- 📌 প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি সুদের হার কমানোর দাবি করছিলেন।
- 📌 ফেডের পরিচালনা পর্ষদকে ট্রাম্প ‘রাজনৈতিক’ ও ‘প্রতিকূল’ বলে সমালোচনা করেছেন।
- 📌 সুদের হার বাড়লে ব্যাংকঋণ, বাড়ির মর্টগেজ ও ক্রেডিট কার্ডের ঋণের খরচ বেড়ে যাবে।
- 📌 জেপি মরগান, কিকর্প ও বিএনওয়াই ব্যাংক তাদের মূল ঋণের সুদ বাড়িয়ে ৭ শতাংশে নিয়ে যায়।
- 📌 ফেডের সিদ্ধান্তের ফলে উন্নয়নশীল দেশের বন্ডের দাম ও সুদের হারেও প্রভাব পড়বে।
📰 বিস্তারিত
ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ বলেছেন, মূল্যস্ফীতির হার অনেক বেশি এবং অনেক দিন ধরে তা লক্ষ্যমাত্রার উপরে রয়েছে। তিনি জানান, সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ‘সংযত’ ও ‘দায়িত্বশীল’। তবে সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়ার্শের প্রতি সমর্থন জানালেও ফেডের পরিচালনা পর্ষদকে তিনি ‘খুবই প্রতিকূল’ ও ‘রাজনৈতিক’ বলে সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, পর্ষদ ‘খুব কঠিন’ পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘সুদের হার অনেক বেশি; এটা যথাযথ নয়’।
ফেডের সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকঋণ, বাড়ির মর্টগেজ ও ক্রেডিট কার্ডের ঋণের খরচ বাড়বে। তবে সঞ্চয়কারীদের তুলনামূলক বেশি সুদ লাভের সুযোগ পাবে। ফেডের সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ নয়; বিশ্বের অর্থনীতিতে তা ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। ফেডের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে এই লক্ষ্যমাত্রার উপরে রয়েছে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও পণ্য দামে প্রভাব ফেলেছে।
ফেডের সিদ্ধান্তের ফলে নতুন করে বাড়ি কিনতে যাঁরা ঋণ নেবেন, তাঁদের বন্ধকি ঋণের সুদহার বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ ব্যাংক জেপি মরগান, কিকর্প ও বিএনওয়াই বুধবার তাদের মূল ঋণের সুদ বাড়িয়ে ৭ শতাংশে নিয়ে যায়। ফলে ক্রেডিট কার্ড ও ব্যক্তিগত ঋণের সুদও বাড়তে পারে। ফেডের সিদ্ধান্তের ফলে উন্নয়নশীল দেশের বন্ডের দাম ও সুদের হারেও প্রভাব পড়বে।
"মূল্যস্ফীতির হার অনেক বেশি এবং অনেক দিন ধরেই তা বেশি। সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ‘সংযত’ ও ‘দায়িত্বশীল’।"
"সুদের হার অনেক বেশি; এটা যথাযথ নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কেভিন ওয়ার্শ (ফেডের চেয়ারম্যান), ডোনাল্ড ট্রাম্প (যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩.৭৫% → ৪%, ২%, ৫ বছর, ৭%
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!