📌 কক্সবাজারের নাজিরারটেকের শুঁটকি বাজারে ৫ কোটি টাকার মজুত থাকলেও পর্যটকদের অভাব ও সড়ক বাধার কারণে বিক্রি কমে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণ পরিশোধে সংকটে পড়েছেন।
কক্সবাজারের নাজিরারটেকের শুঁটকি বাজারে ৪৫টি দোকানে মজুত রয়েছে কমপক্ষে পাঁচ কোটি টাকার শুঁটকি। কিন্তু পর্যটকদের অভাব ও সড়ক বাধার কারণে বিক্রি নেমে এসেছে অপারগ অবস্থায়। আগের মতো দিনে ৫০ হাজার টাকার শুঁটকি বিক্রি হতো, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণ নিয়ে মজুত করেছিলেন, কিন্তু বিক্রি না হওয়ায় ঋণ পরিশোধসহ ব্যবসার খরচ চালানোর জন্য তারা বিপদে পড়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কক্সবাজারের নাজিরারটেকের শুঁটকি বাজারে ৪৫টি দোকানে মজুত রয়েছে ৫ কোটি টাকার শুঁটকি
- 📌 আগের মতো দিনে ৫০ হাজার টাকার শুঁটকি বিক্রি হতো, এখন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩-৩.৫ হাজার টাকা
- 📌 পর্যটকদের অভাব ও সড়ক বাধার কারণে শুঁটকির বিক্রি নেমে এসেছে
- 📌 নাজিরারটেকে যাওয়ার পথে ২ কিলোমিটার সড়ক ভাঙাচোরা থাকায় পর্যটকরা সেখানে যেতে আগ্রহী হচ্ছেন না
- 📌 শুঁটকি উৎপাদন কমে যাওয়ায় ব্যবসায় মন্দা আরও বেড়েছে
- 📌 ব্যাংক ঋণ নিয়ে মজুত করা শুঁটকি বিক্রি না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ঋণ পরিশোধে সংকটে পড়েছেন
📰 বিস্তারিত
কক্সবাজারের নাজিরারটেকের শুঁটকি বাজারে ৪৫টি দোকানে বিভিন্ন প্রজাতির শুঁটকি মজুত রয়েছে। এই দোকানগুলোর মধ্যে ‘ফিশ মার্কেট’ নামের দোকানে প্রতি কেজি ছুরি শুঁটকি ৯০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, লইট্যা ৭০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা, মাইট্যা ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা, পোপা ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা, সুরমা ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা, লাক্ষ্যা ২ হাজার ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৫০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, কামিলা ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট মাছের শুঁটকি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
‘ফিশ মার্কেট’ দোকানের ব্যবস্থাপক মো. ফারুক (৩৮) জানান, তাঁর দোকানে প্রায় সাত লাখ টাকার শুঁটকি মজুত রয়েছে। কিন্তু বিক্রি খুব কম। আগের মতো দিনে ৫০ হাজার টাকার শুঁটকি বিক্রি হতো, এখন বিক্রি হচ্ছে মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। পর্যটক না এলে শুঁটকির বিক্রিও বাড়ে না।
পাশের ‘শুঁটকি মার্কেট’ নামের দোকানের মালিক মো. মজিবুর রহমান বলেন, বাজারে শুঁটকির সংকটের কথা বিবেচনা করে তিনি বিপুল পরিমাণ শুঁটকি সংরক্ষণ করেছিলেন। কিন্তু পর্যটকদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সাড়া পাচ্ছেন না। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাঁর দোকান থেকে পাইকারিতে শুঁটকি কিনে শহরের বিভিন্ন দোকানে খুচরা বিক্রি করেন। এতে প্রতি কেজিতে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে যায়।
ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, নাজিরারটেকে পর্যটকদের যাতায়াতের অন্যতম বাধা সড়কের বেহাল অবস্থা। শহর থেকে নাজিরারটেকে যাওয়ার পথে সমিতিপাড়া, কুতুববাজার ও পশ্চিম কুতুবদিয়াপাড়া এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক ভাঙাচোরা। পর্যটকদের অভাব ও সড়ক বাধার কারণে শুঁটকির বিক্রি নেমে এসেছে।
"পর্যটক না এলে শুঁটকির বিক্রিও বাড়ে না। ব্যাংক ঋণ নিয়ে মজুত করা শুঁটকি বিক্রি না হওয়ায় ঋণ পরিশোধসহ ব্যবসার খরচ চালানোর জন্য বিপদে পড়েছি"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নাজিরারটেক, কক্সবাজার
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: মো. ফারুক (৩৮), মো. মজিবুর রহমান, আজিজুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ কোটি টাকা (মজুত), ৪৫টি দোকান, ৫০ হাজার টাকা (আগের বিক্রি), ৩-৩.৫ হাজার টাকা (বর্তমান বিক্রি), ২ কিলোমিটার (ভাঙাচোরা সড়ক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!