📌 গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে নির্মাণ সামগ্রীর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। টাইলস, রড ও সিমেন্ট কারখানাগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা কমে অর্ধেকে নেমেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই বছর ধরে চলা মন্দার মধ্যে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের নির্মাণ খাতের উৎপাদন ক্ষমতা অর্ধেকে নেমে গেছে। রড, সিমেন্ট, টাইলস ও কাচ উৎপাদনকারী কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই বছর ধরে চলা মন্দার মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সংকট আরও ঘনীভূত করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে নির্মাণ সামগ্রীর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে দেশজুড়ে
- 📌 টাইলস ও কাচশিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
- 📌 রড উৎপাদনকারী কারখানাগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা কমেছে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ
- 📌 সিরামিক কারখানাগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা নেমেছে মাত্র ৩০ শতাংশে
- 📌 এলএনজি সরবরাহে অগ্নিদুর্ঘটনার পর থেকে গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে
📰 বিস্তারিত
নির্মাণ খাত দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে এই খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংকটের কারণে রড, সিমেন্ট, টাইলস ও কাচ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক কারখানা চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না।
গত ২১ জুলাই এলএনজি সরবরাহকারী এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে দেশের শিল্পকারখানাগুলো তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছে। মাঝে সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়। ১৫ আগস্ট এক্সিলারেট আংশিকভাবে ও সামিট পুরোদমে চালু হলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি। কার্গো সংকটের কারণে আবারও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তিন দিন পর ২২ আগস্ট টার্মিনালটি চালু হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ইস্পাত খাতে স্বয়ংক্রিয় কারখানা প্রায় ৪০টি। এর মধ্যে বড় কারখানা মাত্র ৪-৫টি। এসব কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা এক কোটি টনের বেশি হলেও বার্ষিক চাহিদা রয়েছে ৬৫ থেকে ৭৫ লাখ টন। ঢাকার কোনাপাড়ার শাহরিয়ার স্টিল মিলসের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৩০০ থেকে ৪০০ টন হলেও গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশে।
সিরামিক খাতেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও ভোলায় অবস্থিত কারখানাগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই গ্যাস সংকটে ভুগছে। ভোলা ও হবিগঞ্জের কয়েকটি কারখানা ছাড়া অন্য এলাকার কারখানাগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা নেমেছে মাত্র ৩০ শতাংশে। গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত মীর সিরামিকসের চারটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইউনিটের উৎপাদন ১৭ দিন বন্ধ ছিল। গত সপ্তাহে একটি ইউনিট চালু হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
"গ্যাসের চাপ কম থাকায় আমরা সব ইউনিট চালাতে পারছি না। ফলে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী টাইলস সরবরাহ করতে পারছি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ভোলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ব্যবসায়ীরা, শেখ মাসাদুল আলম, মোহাম্মদ আশরাফুল হক, শহীদুজ্জামান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০টি কারখানা, ৪-৫টি বড় কারখানা, ৬৫-৭৫ লাখ টন চাহিদা, ৩০০-৪০০ টন উৎপাদন ক্ষমতা, ৪০-৫০ শতাংশ উৎপাদন হ্রাস, ৩০ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!