📌 চট্টগ্রামের লালদিয়ার চরে বিদেশি বিনিয়োগে দেশের প্রথম কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের উদ্বোধন হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস ৭৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় লালদিয়ার চরে বিদেশি বিনিয়োগে দেশের প্রথম কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। আজ রোববার সকালে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেশের প্রথম বিদেশি বিনিয়োগে নির্মিত কনটেইনার টার্মিনাল লালদিয়ার চরে অবস্থিত
- 📌 অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন
- 📌 ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস ৭৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে, যা প্রায় ৯ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকার সমান
- 📌 সরকারের এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত
- 📌 টার্মিনালটির নির্মাণকাজ শেষ হবে ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ, চালু হবে ২০৩০ সালে
- 📌 টার্মিনালটির পরিচালনা করবে এপিএম টার্মিনালস, মেয়াদ ৩০ বছর যা আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে
- 📌 প্রকল্পে লোকাল পার্টনার হিসেবে রয়েছে দেশীয় কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেস লিমিটেড
- 📌 টার্মিনালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬১৩ মিটার, থাকবে ৭টি আধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ প্রায় ৮০ ধরনের যন্ত্রপাতি
- 📌 লালদিয়া টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার সক্ষমতা বছরে প্রায় ৪৪ লাখ এককে উন্নীত হবে
- 📌 টার্মিনালটির অবস্থান সাগর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে, যা বড় জাহাজ ভেড়ানোয় সুবিধা প্রদান করবে
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গায় অবস্থিত লালদিয়ার চরে বিদেশি বিনিয়োগে নির্মিত দেশের প্রথম কনটেইনার টার্মিনালের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস এই টার্মিনাল নির্মাণে ৭৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৯ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকার সমান।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের লালদিয়ায় নির্মিতব্য এপিএম টার্মিনাল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি উল্লেখ করেন, ‘চট্টগ্রাম শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব হয়ে উঠবে।’ তিনি আরও জানান, লালদিয়া প্রকল্প ছাড়াও বঙ্গোপসাগরের উপকূলরেখাজুড়ে আরও বেশ কয়েকটি বন্দর ও লজিস্টিক কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এপিএম টার্মিনালসের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় গত ২২ এপ্রিল লালদিয়ার ৪৯ দশমিক ১৫ একর জমি এপিএম টার্মিনালসকে হস্তান্তর করা হয়। নকশা প্রণয়নের পর এবার শুরু হয়েছে নির্মাণকাজ। সরকারি–বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ টার্মিনালটির নির্মাণ সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে। টার্মিনালটি চালু হবে ২০৩০ সালে। একটানা ৩০ বছর পরিচালনার পর চুক্তির শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরিচালনার মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
এপিএম টার্মিনালসের এই প্রকল্পে লোকাল পার্টনার হিসেবে রয়েছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেস লিমিটেড। প্রাথমিক চুক্তিতে লালদিয়া টার্মিনালে ৫৫ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের কথা জানানো হলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ কোটি ডলারে। এই বিনিয়োগে টার্মিনাল অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হবে। প্রায় ৬১৩ মিটার দীর্ঘ টার্মিনালে ৭টি আধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ প্রায় ৮০ ধরনের যন্ত্রপাতি থাকবে। যন্ত্রপাতির বেশিরভাগই বিদ্যুতের মাধ্যমে পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
জার্মানভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হামবুর্গ পোর্ট কনসাল্টিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ একক কনটেইনার ওঠানো–নামানোর সক্ষমতা রয়েছে। লালদিয়া টার্মিনাল চালু হলে আরও ৯ লাখ একক কনটেইনারের সক্ষমতা যুক্ত হবে। ফলে বন্দরের মোট সক্ষমতা বছরে প্রায় ৪৪ লাখ একক কনটেইনারে উন্নীত হবে।
লালদিয়া টার্মিনালের অবস্থান সাগর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে হওয়ায় বড় জাহাজ ভেড়ানোয় এটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা প্রদান করবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের মূল টার্মিনালগুলোতে সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফট এবং ২ হাজার ৮০০ একক কনটেইনার ধারণক্ষমতার জাহাজ ভেড়ানো যায়। এপিএম টার্মিনালসের তথ্য অনুযায়ী, লালদিয়ায় সাড়ে ১০ মিটার ড্রাফটের প্রায় ৬ হাজার একক কনটেইনার ধারণক্ষমতার জাহাজ ভেড়ানো যাবে। ৬১৩ মিটার দীর্ঘ জেটিতে একসঙ্গে তিনটি তুলনামূলক ছোট জাহাজ অথবা দুটি বড় জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক বলেন, ‘এতদিন বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনায় প্রতিযোগিতা ছিল না। বিশ্বখ্যাত একটি প্রতিষ্ঠান লালদিয়া টার্মিনাল পরিচালনায় এলে বন্দরের সেবায় প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।’ তিনি মনে করেন, বিদেশি বিনিয়োগে নির্মিত এই টার্মিনাল বন্দরের সেবা ও মান উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
‘চট্টগ্রাম শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য একটি লজিস্টিক হাব হয়ে উঠবে।’ — অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লালদিয়ার চর, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৬ কোটি ডলার, ৯ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা, ৪৯ দশমিক ১৫ একর, ৬১৩ মিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!