📌 দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় মহেশখালী উপকূলে চীনের সহায়তায় নির্মাণ করা হবে চতুর্থ এলএনজি টার্মিনাল। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮ থেকে ৩০ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে
দেশে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মহেশখালী উপকূলে চতুর্থ এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে সরকার। ইতোমধ্যে চীনের চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানির (সিএনইই) সঙ্গে প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সূত্রমতে, নতুন এই টার্মিনাল নির্মাণ সম্পন্ন হলে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মহেশখালী উপকূলে নির্মিত হবে চতুর্থ এলএনজি টার্মিনাল, যা পরিচালনা করবে চীনের সিএনইই কোম্পানি
- 📌 প্রকল্পটি সম্পন্ন হতে সময় লাগবে ১৮ থেকে ৩০ মাস পর্যন্ত
- 📌 বর্তমানে দেশে দৈনিক ১৬১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় কম
- 📌 সামিট পাওয়ারের বিরুদ্ধে আদালতে বিচারাধীন থাকা প্রকল্পটি স্থগিত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার
- 📌 দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এলএনজি আমদানি নির্ভরতা বেড়েছে
📰 বিস্তারিত
দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ায় মহেশখালী উপকূলে চতুর্থ এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে চীনের চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানির (সিএনইই) সঙ্গে প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, দেশের গ্যাস সংকট নিরসনে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমানে মহেশখালী উপকূলে দুটি এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে—একটি যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি এবং অপরটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট পাওয়ারের। এই দুই টার্মিনাল থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। তবে সাম্প্রতিক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দেশজুড়ে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন দৈনিক ১৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসায় এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।
সামিট পাওয়ারের বিরুদ্ধে আদালতে বিচারাধীন থাকা প্রকল্পটি স্থগিত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাসীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের অক্টোবরে সামিটের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় প্রতিষ্ঠানটি ৯০ দিনের মধ্যে পারফরম্যান্স বোনাস জমা দেয়নি। সামিট পাওয়ারের একজন মুখপাত্র জানান, দেশের গ্যাস সংকট নিরসনে এলএনজি আমদানি ও টার্মিনাল নির্মাণের বিকল্প নেই।
"দেশের এখন নতুন এলএনজি টার্মিনাল প্রয়োজন। বিষয়টি যাতে দ্রুত সম্পন্ন করা যায় সরকার তাই চাচ্ছে। সামিটের বিষয়টি যেহেতু বিচারাধীন সে বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করছি না।"
সরকারের লক্ষ্য হলো নতুন টার্মিনাল নির্মাণের মাধ্যমে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। প্রকল্পটি সরকারি ক্রয় আইন অনুসরণ করে সম্পন্ন হবে। ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে চুক্তি যাচাইয়ের জন্য সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি আইনি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়েছে। পেট্রোবাংলার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো ১৮ থেকে ৩০ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মহেশখালী উপকূল, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মনির হোসেন চৌধুরী (যুগ্ম সচিব, জ্বালানি বিভাগ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ মাস, ৩০ মাস, ১৬১০ মিলিয়ন ঘনফুট, ৯০ দিন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!