📌 চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাতুনগঞ্জ বাজার দুই শতাব্দীর বাণিজ্য ঐতিহ্য হারাচ্ছে। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্য, অবৈধ পণ্য, ডলার মূল্যের বৈষম্য ও উৎপাদন কেন্দ্রের পরিবর্তনের কারণে ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। ২০০২-০৩ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তাদের অংশীদারি ৬২% থেকে নেমে এসেছে মাত্র ৩৩% এ
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাতুনগঞ্জ বাজার, যা দুই শতাব্দী ধরে দেশের নিত্যপণ্যের বাণিজ্যে নেতৃত্ব দিয়েছে, বর্তমানে ক্রমশ ধ্বংসের পথে। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্য, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, অবৈধ পণ্য প্রবেশ এবং ডলারের দরের বৈষম্যের কারণে এই বাজারের ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০০২-০৩ অর্থবছরে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা ৬২% নিত্যপণ্য আমদানি করতেন, যা ২০২৪-২৫ সালে নেমে এসেছে মাত্র ৩৩% এ।
- 📌 ২০০২-০৩ অর্থবছরে ২০ লাখ টন আমদানি ছিল, যা বেড়ে ২০২৪-২৫ সালে ৯৬ লাখ টনে পৌঁছেছে।
- 📌 কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্য, প্যাকেটজাত পণ্যের বাজার বৃদ্ধি এবং উৎপাদন কেন্দ্রের পরিবর্তনের কারণে খাতুনগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়িক কাঠামো ধ্বংসের পথে।
- 📌 ২০২৫ সালে ৪১৮টি প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ৪১ লাখ টন ভোগ্যপণ্য আমদানি করেছে, যার মূল্য ৭০৫ কোটি ডলার।
- 📌 স্মাইল ফুড প্রোডাক্টস ২০২৫ সালে ৬৯ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যা চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ বাজার, যা একসময় দেশের নিত্যপণ্যের বাণিজ্যে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করত, বর্তমানে তার ঐতিহ্যবাহী জৌলুস হারাচ্ছে। এই বাজারে চাল, ডাল, গম, চিনি ও ভোজ্যতেলের ব্যবসা মূলত আড়তদারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাজারের কাঠামো পরিবর্তিত হয়েছে। বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্য, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ আস্থার সংকট এবং অবৈধ পণ্যের প্রবেশের কারণে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, ২০০২-০৩ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চাল, ডাল, গম, সয়াবিন তেল, পাম তেল ও চিনি আমদানি ছিল প্রায় ২০ লাখ টন। এর মধ্যে ৬২% আমদানি করতেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই পণ্যগুলোর মোট আমদানি বেড়ে ৯৬ লাখ টনে পৌঁছেছে। যদিও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের আমদানি পরিমাণ বেড়ে ৩২ লাখ টনে পৌঁছেছে, তাদের বাজারে অংশীদারি কমে এসেছে মাত্র ৩৩% এ।
ব্যবসায়ীদের মতে, আশির দশকের মাঝামাঝি চট্টগ্রামে ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানা গড়ে উঠতে শুরু করে। পরবর্তীতে ঢাকাকেন্দ্রিক মেঘনা ও সিটি গ্রুপ পরিশোধনের পাশাপাশি মৌলিক শিল্পেও বিনিয়োগ বাড়ায়। চিনি, আটা-ময়দাসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের উৎপাদনে কারখানা গড়ে তোলা হয়। এতে উৎপাদন ও প্যাকেটজাত পণ্যের বাজার সমপ্রসারণের কারণে খাতুনগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়িক কাঠামো চাপে পড়ছে।
"আমদানির পরিমাণ বাড়লেও বাজারে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের অংশীদারি কমে যাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ নিত্যপণ্যের ব্যবসার ধরনে পরিবর্তন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম (খাতুনগঞ্জ বাজার), ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাহবুবুল আলম (ডেল্টা এগ্রোফুড ইন্ডাস্ট্রিজ সাবেক সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ লাখ টন (২০০২-০৩), ৯৬ লাখ টন (২০২৪-২৫), ৬২% (২০০২-০৩), ৩৩% (২০২৪-২৫)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!