📌 কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে হামলা ও অবকাঠামো ক্ষতির কারণে রাশিয়া-ইউক্রেনের গম সরবরাহ বিলম্বিত হচ্ছে। এশিয়ার আমদানিকারকরা অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে অন্তত ৫ লাখ মেট্রিক টন গম কেনার চুক্তি করেছে। গমের দাম ৩৫% বেড়েছে এবং শিকাগো বাজারে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে
কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে চলমান হামলা ও অবকাঠামো ক্ষতির কারণে রাশিয়া ও ইউক্রেনের গম সরবরাহ বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে এশিয়ার গম আমদানিকারকরা বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে অন্তত ৫ লাখ মেট্রিক টন গম কেনার চুক্তি করেছে। বাণিজ্যিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনার গম আমদানি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানি চুক্তি করেছে অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে এশিয়ার আমদানিকারকরা
- 📌 ৩১৫ থেকে ৩৩০ ডলার প্রতি টন দামে অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়াম হোয়াইট গমের চুক্তি হয়েছে
- 📌 ৩১০ থেকে ৩১৫ ডলার প্রতি টন দামে আর্জেন্টিনার গমের চুক্তি হয়েছে
- 📌 ৩৫ শতাংশ বেড়েছে শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডের গমের দাম
- 📌 ২৬০ থেকে ২৮০ ডলার ছিল আগের গমের চালানের দাম, এখন তা ৩১৫-৩৩০ ডলারে পৌঁছেছে
- 📌 ২০ থেকে ২৫ লাখ টন গম বুক করেছে এশিয়ার শস্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
- 📌 বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে গম আমদানি করে
- 📌 কনটেইনারে গম আমদানি করছে কিছু ময়দা উৎপাদনকারী, কারণ তারা কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের চালান আরও দেরিতে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত
📰 বিস্তারিত
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম আমদানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়া সহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আমদানিকারকরা বিকল্প উৎস থেকে গম কিনতে আগের তুলনায় অনেক বেশি দাম দিচ্ছেন। কারণ, এসব দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে গম আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের এশিয়াভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, গত এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনার গম কেনার বেশ কিছু বড় আকারের চুক্তি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে যেসব চালান এখনো পৌঁছায়নি, সেগুলোর পরিবর্তে আমদানিকারকরা বিকল্প চালান নেওয়ার চেষ্টা করছেন।’
রাশিয়া ও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বন্দর ও জাহাজে হামলার কারণে শস্য টার্মিনালগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে গম আমদানিকারকরা সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কৃষিপণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এডিএম জানায়, ৩১ আগস্ট একটি ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর ওদেসায় তাদের ইউইপি শস্য টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শিকাগো বোর্ড অব ট্রেড বা সিবিওটি-তে গমের বেঞ্চমার্ক ফিউচার জুনের শেষ দিক থেকে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রধান কারণ কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে গম সরবরাহে ঘাটতি। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী রপ্তানিকারক দেশগুলোর গমের নগদ বাজারের দামও বেড়েছে। গত মঙ্গলবার সিবিওটির গমের দাম সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এর পেছনে ছিল মস্কো কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে হামলা বন্ধে একটি সাময়িক স্থগিতাদেশ প্রত্যাখ্যানের খবর এবং রাতভর ইউক্রেনের বন্দর অবকাঠামোয় হামলা চালানোর ঘটনা।
এশিয়ার শস্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরবরাহের জন্য প্রায় ২০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টন কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের গম বুক করেছে। এই পরিমাণ এশিয়ার মোট আমদানি চাহিদার প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। তবে ক্রমবর্ধমান জাহাজ চলাচলের বিলম্বের কারণে উদ্বেগ বাড়ছে যে, বুক করা গমের একটি অংশ হয়তো শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাবে না।
‘কিছু ময়দা উৎপাদনকারী কনটেইনারে গম আনা পছন্দ করছেন। কারণ তারা সরবরাহকারীদের সঙ্গে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের চালান আরও কিছুদিন দেরিতে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। তারা বেশি দামের গমের প্রতি অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে চান না। তাই তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে তারা কনটেইনারে করে গম আনছেন।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, কৃষ্ণসাগর অঞ্চল, শিকাগো, ইউক্রেনের ওদেসা বন্দর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এশিয়ার গম আমদানিকারকরা, অস্ট্রেলিয়া-আর্জেন্টিনার সরবরাহকারী ব্যবসায়ী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ লাখ মেট্রিক টন, ৩৫ শতাংশ, ৩১৫-৩৩০ ডলার, ২০-২৫ লাখ টন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!