📌 গাজীপুরের বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের বন্ধ কারখানার ৪০ হাজার শ্রমিকের মধ্যে অনেকেই চাকরি হারিয়ে চা বিক্রি, সবজি বিক্রি বা অটোরিকশা চালানোর মতো নতুন পেশায় নেমেছেন। কারখানার পুনরায় চালুর উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় শ্রমিকদের জীবিকা সংকটে পড়েছে
গাজীপুরের কাশিমপুরের সারাবো এলাকায় বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের বন্ধ কারখানার প্রাক্তন শ্রমিকদের জীবিকা সংকটের চিত্র আজও কষ্টসাধ্য। একসময় এই শিল্পপার্কের ৪০ হাজার শ্রমিকের নিয়মিত বেতন ও কর্মসংস্থান ছিল। কিন্তু বর্তমানে কারখানার বন্ধের কারণে তারা বাধ্য হয়ে চা বিক্রি, সবজি বিক্রি বা অটোরিকশা চালানোর মতো নতুন পেশায় নেমে পড়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ১৪টি কারখানা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়, যার ফলে ৩৩ হাজার ২৩৪ শ্রমিক কর্মহীন হন
- 📌 বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে কেউ চা বিক্রি করছেন, কেউ বাজারে সবজি বিক্রি করছেন, আবার কেউ অটোরিকশা চালাচ্ছেন
- 📌 ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শ্রমিকরা কারখানা খোলার দাবিতে বিক্ষোভ করেন, কিন্তু কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ ব্যর্থ হয়
- 📌 বেক্সিমকোর সংকটের পেছনে রয়েছে বিপুল ঋণ ও আইনি জটিলতা, যা কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে
- 📌 জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে ২৫ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি
📰 বিস্তারিত
গাজীপুরের কাশিমপুরের সারাবো এলাকায় অবস্থিত বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার পর শ্রমিকদের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। একসময় এই এলাকায় শ্রমিকদের ভিড় ছিল, কিন্তু বর্তমানে কারখানার ফটক বন্ধ এবং উৎপাদন লাইনে শ্রমিকের উপস্থিতি নেই। শিল্পপুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের বিভিন্ন কারখানায় একসময় প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। ২০২৪ সালের শেষ দিকে এবং ২০২৫ সালের শুরুতে দফায় দফায় ছাঁটাইয়ের পর অধিকাংশ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ১৪টি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বেড়েছে এবং তাদের আয় আগের চেয়ে কমেছে।
কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে একজন মো. সোলাইমান। তিনি বলেন, “বেক্সিমকোতে চাকরি করার সময় সংসার ভালোভাবে চলত। নিয়মিত বেতন পেতাম এবং বাড়তি কাজ করলে আয়ও বাড়ত। কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর চাকরি পাইনি। বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাজারে ফল বিক্রি করছি। এই আয় দিয়ে সংসার চালানো খুব কষ্টের। কারখানা আবার খুললে আগের কাজে ফিরতে চাই।”
অন্য একজন শ্রমিক ওসমান আলী বলেন, “কারখানা বন্ধ হওয়ার পর অনেক জায়গায় চাকরি খুঁজেছি, কিন্তু কোথাও পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে বাজারে সবজি বিক্রি করছি। আগের কাজের তুলনায় আয় অনেক কম। পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
সিরাজগঞ্জের খাইরুল ইসলামও একই অবস্থায়। তিনি বলেন, “কারখানা চালু থাকলে এখানে হাজার হাজার মানুষ আসা-যাওয়া করত। তখন আমাদেরও ভালো আয় হতো। কারখানা বন্ধ হওয়ার পর যাত্রী কমে গেছে, আয়ও কমেছে। নিজের চাকরিটাও হারিয়েছি। এখন অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছি।”
"কারখানা চালু থাকলে এখানে হাজার হাজার মানুষ আসা-যাওয়া করত। তখন আমাদেরও ভালো আয় হতো। কারখানা বন্ধ হওয়ার পর যাত্রী কমে গেছে, আয়ও কমেছে। নিজের চাকরিটাও হারিয়েছি।"
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কারখানা খোলার দাবিতে গাজীপুরে হাজারো শ্রমিক বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন। কারখানা বন্ধের সময় শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে তৎকালীন সরকার অর্থের ব্যবস্থাও করে। ২০২৫ সালের মার্চে ১৪টি বন্ধ কারখানার ৩৩ হাজার ২৩৪ শ্রমিক ও কর্মচারীর বকেয়া পরিশোধে ৫২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়। তবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হওয়ায় অনেক শ্রমিক বাধ্য হয়েছেন ছোট ব্যবসা, পরিবহন বা অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ নিতে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুরের কাশিমপুরের সারাবো এলাকা, বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. সোলাইমান, ওসমান আলী, খাইরুল ইসলাম, মো. আবদুল লতিফ (বেক্সিমকো মহাব্যবস্থাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ হাজার (শ্রমিক), ১৪টি (কারখানা), ৩৩ হাজার ২৩৪ (শ্রমিক), ৫২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা (পাওনা পরিশোধ), ২৫ হাজার (শ্রমিকের কর্মসংস্থান পরিকল্পনা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!