📅 ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

পশ্চিমবঙ্গে গরুর মাংসের সরবরাহ বন্ধে সংকট: মাদক বহনের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ব্যবসা

পশ্চিমবঙ্গে গরুর মাংসের সরবরাহ বন্ধে সংকট: মাদক বহনের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ব্যবসা

📷 ছবি: Ajker Patrika

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 আজকের পত্রিকা ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের গরুর মাংস জবাই নিয়ন্ত্রণ আইনের কারণে সরবরাহ কমে গেছে। দাম বেড়েছে, ব্যবসায়ীদের লোকসান হচ্ছে এবং মাদক বহনের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ব্যবসা। সংকটের কারণে অনেক রেস্তোরাঁ গরুর মাংসের পদ বাদ দিয়েছে

পশ্চিমবঙ্গে গরুর মাংসের সরবরাহ বন্ধের কারণে বাজারে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি সরকারের গরুর মাংস জবাই নিয়ন্ত্রণ আইনের কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে গ্রেপ্তার ও হয়রানির ভয় তৈরি হয়েছে। এতে মাদক বহনের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে গরুর মাংসের ব্যবসা।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 পশ্চিমবঙ্গে গরুর মাংসের সরবরাহ বন্ধের কারণে কলকাতার ট্যাংরা এলাকার একমাত্র জবাইখানা জনশূন্য হয়ে পড়েছে। স্কুলপড়ুয়া শিশুরা দেয়াল টপকে সেখানে খেলাধুলা করছে।
  • 📌 ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১৯৫০ সালের প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করার পর গরুর মাংসের সরবরাহ কমে গেছে।
  • 📌 গরুর মাংসের দাম বেড়েছে: কলকাতায় এক কেজি মাংসের দাম ৩৫০ থেকে ৫০০ রুপি হয়েছে, আগের দাম ছিল ২০০ থেকে ২৫০ রুপি।
  • 📌 গরুর মাংসের ব্যবসায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে এবং অনেক রেস্তোরাঁ গরুর মাংসের পদ বাদ দিয়েছে।
  • 📌 পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ ১০.৪ শতাংশ এবং শহুরে ৭.৯ শতাংশ পরিবার গরুর মাংস খায়।
  • 📌 ব্যবসায়ী মুস্তাকের লাইসেন্স নবায়ন আটকে আছে, তিন মাস ধরে তিনি কোনো আয় করতে পারেননি।
  • 📌 গরুর মাংসের ব্যবসায়ীরা মাদক বহনের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন।

📰 বিস্তারিত

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের ক্ষমতায় আসার পর গরুর মাংসের সরবরাহ কমে গেছে। কলকাতার ট্যাংরা এলাকায় অবস্থিত শহরের একমাত্র গরু জবাইখানা এখন প্রায় জনশূন্য। স্থানীয় খাবারের দোকানের ব্যবস্থাপক মেহমুদ আলম জানান, মে মাসে জবাইখানাটি কার্যত বন্ধ হওয়ার পর স্কুলপড়ুয়া শিশুরা দেয়াল টপকে সেখানে ঢুকে খেলাধুলা করছে।

১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার গবাদিপশু জবাই নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করলে গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর ও নির্দিষ্ট ধরনের মহিষ জবাই করা যাবে না। জবাইয়ের জন্য প্রাণীটির বয়স ১৪ বছরের বেশি হওয়া, কাজ বা প্রজননের অনুপযোগী হওয়া অথবা বয়স, আঘাত, বিকৃতি কিংবা নিরাময়-অযোগ্য রোগের কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হওয়ার মতো শর্ত রয়েছে। অনুমোদিত প্রাণীও কেবল নির্দিষ্ট পৌর বা অনুমোদিত কসাইখানায় জবাই করা যাবে।

বিজ্ঞপ্তির প্রভাব গত ঈদের সময় থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বাজার ও রেস্তোরাঁয় গরুর মাংসের সংকট দেখা দেয়। তিন মাসের বেশি সময় পরও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাংস ব্যবসার লাইসেন্স নবায়নের জটিলতা। ব্যবসায়ী মুস্তাক জানান, তাঁর লাইসেন্স নবায়ন হওয়ার কথা থাকলেও তা আটকে আছে। তিন মাসের বেশি সময় ধরে তিনি কোনো আয় করতে পারেননি।

গরুর মাংসের দামও বেড়েছে। কলকাতায় এক কেজি মাংস এখন ৩৫০ থেকে ৫০০ রুপি, যেখানে আগে দাম ছিল ২০০ থেকে ২৫০ রুপি। এক প্লেট ভুনা মাংসের দামও ১০০ থেকে বেড়ে ১২০ রুপি হয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিক্রি প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে।

পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিকভাবে উল্লেখযোগ্য গরুর মাংস ভোক্তা রাজ্যগুলোর একটি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটির গ্রামীণ ১০.৪ শতাংশ এবং শহুরে ৭.৯ শতাংশ পরিবার গরু বা মহিষের মাংস খায়। মুসলিমদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশও গরুর মাংস খান। খ্রিষ্টান, দলিত ও কিছু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যেও এর প্রচলন রয়েছে।

কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় কয়েকটি মাংসের দোকানের মালিক জানিয়েছেন, মে মাসের পর তাঁদের ব্যবসায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ লোকসান হয়েছে। সরবরাহ অনিয়মিত, দাম বেশি এবং মাংসের মানও আগের মতো নেই। শহরের অন্তত এক ডজন রেস্তোরাঁ গত তিন মাসে গরুর মাংসের পদ বন্ধ করেছে। জনপ্রিয় জমজম রেস্তোরাঁর তিন শাখাতেই পদটি বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শাদমান ফাইজ জানান, এতে গ্রাহক কমেছে এবং প্রায় ৪০ শতাংশ লোকসান হচ্ছে; কর্মীও ছাঁটাই করতে হয়েছে।

শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের অন্যান্য এলাকাতেও সংকট ছড়িয়েছে। বারুইপুরে বেলা ১১টার মধ্যেই অনেক দিন গরুর মাংস শেষ হয়ে যাচ্ছে। মালদায় আবার গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ী আলফাজ লায়েকের ভাষায়, পশ্চিমবঙ্গে এখন গরুর মাংস বহন করা মাদক বহনের চেয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। তাঁর আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যসংস্কৃতি থেকে গরুর মাংস একসময় অতীতের স্মৃতিতে পরিণত হতে পারে।

"মে মাসের পর আমাদের ব্যবসায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ লোকসান হয়েছে। সরবরাহ অনিয়মিত, দাম বেশি এবং মাংসের মানও আগের মতো নেই।"

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ট্যাংরা এলাকা, পার্ক সার্কাস, বারুইপুর, মালদা
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেহমুদ আলম, মুস্তাক, শাদমান ফাইজ, আলফাজ লায়েক
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৩ মে, ১৪ বছর, ৩৫০-৫০০ রুপি, ২০০-২৫০ রুপি, ১০০-১২০ রুপি, ৫০ শতাংশ, ৩০-৪০ শতাংশ, ১০.৪ শতাংশ, ৭.৯ শতাংশ

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖