📌 সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশের ব্যাংক খাত ২০১০ সালের পর 'লুটপাটের সংস্কৃতি' তৈরি হয়েছে, যা আর্থিক খাতের বর্তমান খারাপ অবস্থার মূল কারণ। তিনি শিক্ষকদের পেনশন তহবিল আটকে পড়ার ঘটনাও উল্লেখ করেছেন
ব্যাংক খাতের সংস্কার ও লুটপাটের সংস্কৃতির বিপদসূচক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ঋণখেলাপির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেও পরবর্তীতে ব্যাংক খাতে 'লুটপাটের সংস্কৃতি' গড়ে উঠেছে, যা আর্থিক খাতের বর্তমান দুর্বল অবস্থার মূল কারণ। বুধবার সকালে ঢাকার মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২০১০ সালের পর ব্যাংক খাতে 'লুটপাটের সংস্কৃতি' গড়ে উঠেছে** — যা ঋণখেলাপির সংস্কৃতি থেকে আরও মারাত্মক, বলেছেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
- 📌 **শিক্ষকদের পেনশন ও কল্যাণ তহবিল আটকে পড়েছে** — তাদের বেতন-ভাতা নিয়ে খোলা ব্যাংকগুলো সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে।
- 📌 **৩৫ শতাংশ আমানত ঋণে পরিণত হয়েছিল** — ২০০০-এর দশকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে উদ্যোক্তারা মোট আমানতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঋণ হিসেবে তুলে নিয়েছিলেন।
- 📌 **অ্যান্টি-ট্রাস্ট আইন অনুপস্থিত** — কোনো গোষ্ঠী বা পরিবার একাধিক ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, এমন নিয়মের অভাব রয়েছে।
- 📌 **রাজনৈতিক প্রভাবপুষ্ট সুযোগ-সুবিধা বিতরণের কারণে ব্যাংক খাত ক্ষতিগ্রস্ত** — সরকারি ব্যাংকগুলোকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
- 📌 **১৫ বছরে বিধিবিধান অতিরিক্ত শিথিল** — দুর্বল ব্যাংক উদ্ধারের জন্য নিয়মকানুন শিথিল করা হয়েছে, যা অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি।
📰 বিস্তারিত
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, ঋণখেলাপির সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার জন্য কষ্টসাধ্য নিয়মকানুন তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১০ সালের পর ব্যাংক খাতে 'লুটপাটের সংস্কৃতি' গড়ে উঠেছে, যা নিয়মকানুন ছাড়াই ব্যাংক থেকে টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া। তিনি উল্লেখ করেছেন, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, কল্যাণ তহবিল ও পেনশনের তহবিল নিয়ে ব্যাংক খোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হয়ে গেছে এবং দরিদ্র শিক্ষকদের কোটি কোটি টাকার পেনশন আটকে পড়েছে।
তিনি অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অতীতে আমরা উদ্যোক্তা পরিচালকদের মোট আমানতের প্রায় ৩৫ শতাংশ ঋণ হিসেবে তুলে নেওয়ার ঘটনা দেখেছি। এখনও অ্যান্টি-ট্রাস্ট বা অ্যান্টিমনোপলি আইন নেই, যা একাধিক ব্যাংক নিয়ন্ত্রণে গোষ্ঠী বা পরিবারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে কাজ করতে পারে।’
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ রাজনৈতিক সরকারের প্রভাবপুষ্ট ব্যক্তিদের সরকারি ব্যাংকগুলোকে সুযোগ-সুবিধা বিতরণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সরকার যদি রাজনৈতিক কারণে সুযোগ-সুবিধা বিতরণ করতে চায়, তবে তারা এমন খাত বেছে নিক যাতে দেশের অর্থনীতির বড় কোনো ক্ষতি না হয়। কিন্তু ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা করা অনুচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০১০ সালের পর কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার কারণে সেগুলো দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। এমনকি শিক্ষকদের পেনশন তহবিল নিয়ে খোলা ব্যাংকগুলো সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে এবং সেই তহবিলের টাকা এখনো আটকে আছে। গত ১৫ বছরে বিধিবিধান অতিরিক্ত শিথিল করার কারণে বর্তমান অবস্থা হয়েছে।’
"এখন দুর্বল ব্যাংককে উদ্ধার করতে হলে নিয়মকানুন আবার কিছুটা শিথিল করতেই হবে। কিন্তু অতীতে যেভাবে নিয়মকানুন শিথিল করেও আমরা আজকের এই খারাপ অবস্থায় এসে পৌঁছালাম, আবার সেটার পুনরাবৃত্তি হবে না, সেই গ্যারান্টি কোথায়?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (মিরপুর, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ (সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫ শতাংশ (আমানতের ঋণে পরিণত), ১৫ বছর (বিধিবিধান শিথিলের সময়কাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!