📌 বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের শিল্প সংগঠন সিআইআই। দুই দেশের বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে
ঢাকা, ১৮ আগস্ট ২০২৬: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের শিল্প সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ (সিআইআই)। দুই দেশের বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে স্বাভাবিক বাণিজ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে সিআইআইয়ের নেতৃত্ব দেন ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি
- 📌 দুই দেশের মধ্যে ভিসা জটিলতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব
- 📌 অবকাঠামো ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দুটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সিআইআই
- 📌 স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে শিল্প খাতের সক্ষমতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব
- 📌 ভারতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ রয়েছে বলে মত সিআইআইয়ের
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের শিল্প সংগঠন সিআইআই। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন সিআইআইয়ের ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক, বিদ্যমান সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান পারস্পরিক সহযোগিতার বড় সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের বিষয়ে আলোচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যকে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে। বৈঠকে ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের ভিসা জটিলতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, চিকিৎসা, ব্যবসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য কয়েক মাস পরপর নতুন ভিসার আবেদন করা বাস্তবসম্মত নয়। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা ব্যবস্থার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন।
এদিকে বাংলাদেশের অবকাঠামো ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দুটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সিআইআই। এর একটি অবকাঠামো খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) উন্নয়নে এবং অন্যটি সেমিকন্ডাক্টর, গ্রিন হাইড্রোজেন, ব্যাটারি স্টোরেজ ও ডাটা সেন্টারের মতো ভবিষ্যৎমুখী শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করবে।
সিআইআইয়ের প্রতিনিধিরা জানান, ভারতে গত বছর অবকাঠামো খাতে প্রায় ২৫ লাখ কোটি রুপি বিনিয়োগ হয়েছে, যার উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে বেসরকারি খাত থেকে। ভারতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশেও দেশি-বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ রয়েছে বলে তারা মত দেন। বৈঠকে স্থানীয় উৎপাদনকারী শিল্পের সক্ষমতা কাজে লাগানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
"স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক পণ্য আমদানি করতে হয়। স্থলবন্দর দিয়ে এসব পণ্য আনতে ৪০ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। স্থানীয় শিল্প পুনরুজ্জীবিত হলে এ সমস্যা অনেকাংশে কমবে।"
এনার্জিপ্যাকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরে এক প্রতিনিধি বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক পণ্য আমদানি করতে হয়। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের তরুণদের ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের তৃতীয় দেশে কাজের ক্ষেত্রে ভিসা জটিলতা নিরসনে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে সিআইআই।
শিল্পে জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে শুল্ক কাঠামো সমন্বয়ের আহ্বান জানায় সিআইআই। প্রতিনিধিরা জানান, তাদের স্টিম-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক ও খাদ্য শিল্পে ১০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাস সাশ্রয় করা সম্ভব। তবে শুল্ক বৈষম্যের কারণে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (বাণিজ্যমন্ত্রী), চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি (সিআইআই ডিরেক্টর জেনারেল)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ লাখ কোটি রুপি (ভারতের অবকাঠামো বিনিয়োগ), ৪০-৪৫ দিন (স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আনতে সময়), ১০-৩৫ শতাংশ (গ্যাস সাশ্রয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!