📌 জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০২৫ সালে প্রায় দেড় কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তায় ভুগেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হিসেবে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও ফসলহানির কারণে দেশের খাদ্য উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে
সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটার প্রস্তুতি চলছিল এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে। হঠাৎ উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর টানা বৃষ্টিতে প্রায় ৪৬ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে যায়। জাতীয় চাল উৎপাদনে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন ঘাটতি দেখা দেয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির যৌথ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে প্রায় ১ দশমিক ৬ কোটি মানুষ সংকটকালীন বা তার চেয়ে খারাপ পর্যায়ের খাদ্য অনিরাপত্তায় ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৫ সালে বাংলাদেশে প্রায় ১ দশমিক ৬ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তায় ভুগেছেন
- 📌 এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হওয়ায় সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ৪৬ হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে যায়
- 📌 জুনে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৯ শতাংশ কম বৃষ্টি হওয়ায় আমনের বীজতলা তৈরিতে প্রভাব পড়ে
- 📌 উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ধানের ফলন ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ এবং গমের ফলন ৩১ থেকে ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে
- 📌 উপকূলীয় অঞ্চলে মাটির লবণাক্ততা ৪০ ডিএস/মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা দেশের মোট জমির প্রায় ৩০ শতাংশ
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির যৌথভাবে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস ২০২৬’ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে প্রায় ১ দশমিক ৬ কোটি মানুষ সংকটকালীন বা তার চেয়ে খারাপ পর্যায়ের খাদ্য অনিরাপত্তায় ছিলেন। যদিও দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি না থাকলেও উচ্চ মাত্রার তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের সংখ্যায় বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ দশে অবস্থান করছে।
২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় প্রায় ৭৬ লাখ মানুষ খাদ্য অনিরাপত্তার তালিকা থেকে বেরিয়ে এসেছেন। উন্নতির কারণ হিসেবে বড় দুর্যোগের অনুপস্থিতি, খাদ্য মূল্যস্ফীতির কিছুটা হ্রাস এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তুলনামূলক ভালো বছরেও বাংলাদেশ এই তালিকায় রয়ে গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হিসেবে এ বছর এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে জুনে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৯ শতাংশ কম বৃষ্টি হওয়ায় আমনের বীজতলা তৈরিতে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। জুলাইয়ে আবার বৃষ্টি বৃদ্ধি পেয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি হয়েছে।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে কৃষকেরা রোপণ ও কাটার উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করতে না পারায় ধানের ফলন ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ আর গমের ফলন ৩১ থেকে ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব আরও তীব্র, সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় বোরো ধানের ফলন ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কমার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
উপকূলীয় অঞ্চলে এই সংকট আরও প্রকট। খুলনা ও সাতক্ষীরায় মাটির লবণাক্ততা কিছু জায়গায় ৪০ ডিএস পার মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। দেশের মোট জমির প্রায় ৩০ শতাংশ যেখানে অবস্থিত। ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন আর দুর্বল বেড়িবাঁধের কারণে নোনা পানির বারবার আগ্রাসনে উপকূলের উর্বর পলিমাটি ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে।
জুলাইয়ের টানা বৃষ্টির পর ঢাকার বাজারে বেগুন, করলা, কাঁচা মরিচের দাম এক সপ্তাহের মধ্যেই দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়ে যায়। চালের বাজারও অস্থির থাকে, বোরো মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই কেজিতে দুই থেকে চার টাকা বাড়ে। এই দামের বোঝা সবচেয়ে বেশি বহন করতে হয় যাঁদের আয় সবচেয়ে কম।
"জলবায়ু পরিবর্তন আর খাদ্যনীতি এখন আর আলাদা দুটো ফাইল না, একই সংকটের দুই পিঠ। বৃষ্টির প্যাটার্ন যেভাবে একই বছরের মধ্যে দিক বদলাচ্ছে, লবণাক্ততা যেভাবে উপকূলে বাড়ছে, এসব বিচ্ছিন্ন দুর্যোগ না, বরং নিয়মিত বাস্তবতা হয়ে উঠছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুনামগঞ্জ, খুলনা, সাতক্ষীরা, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কৃষক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৬ হাজার হেক্টর, ২ লাখ মেট্রিক টন, ১ দশমিক ৬ কোটি মানুষ, ৭৫ শতাংশ, ২৯ শতাংশ, ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ, ৪০ ডিএস/মিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!