📌 বিশ্বব্যাংকের ‘ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬’ অনুযায়ী, এআই বিপ্লবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি কম হলেও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সুযোগ বেশি। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত ইতিমধ্যেই এআই ব্যবহারের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিপ্লব নতুন কর্মসংস্থান তৈরির চেয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেশি সুযোগ সৃষ্টি করছে বলে বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬: দ্য প্রমিজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ আয়ের দেশগুলোর তুলনায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এআইয়ের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিদ্যমান চাকরির প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ জেনারেটিভ এআইয়ের কারণে স্বয়ংক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে
- 📌 উচ্চ আয়ের দেশগুলোর ক্ষেত্রে এ হার ১৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং এসব দেশের ১৬ দশমিক ২ শতাংশ চাকরিতে এআই মানুষের সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে
- 📌 বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে এআইনির্ভর মেডিকেল ইমেজিং ব্যবহারের ফলে ডায়াবেটিসজনিত চোখের জটিলতা শনাক্তের পরীক্ষার হার প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে
- 📌 উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মী ১০ জনের কম কর্মীসংখ্যা বিশিষ্ট ছোট ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন
📰 বিস্তারিত
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এআই বিপ্লবের ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পালে হাওয়া লাগতে পারে। যদিও এসব দেশের এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে ভূমিকা নগণ্য। প্রতিবেদন অনুসারে, উচ্চ আয়ের দেশগুলোর তুলনায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এআইয়ের প্রভাব অনেক কম। চীনে জেনারেটিভ এআই চালুর পর চাকরির বিজ্ঞপ্তি কমেছে। ভারতে জেনারেটিভ এআই চালুর পর যেসব শোভন কাজ এআই দিয়ে করার জন্য বেশি উপযোগী, সেসব চাকরির বিজ্ঞপ্তি কমেছে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকাংশ মানুষই খুব ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মী এমন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, যেখানে কর্মীসংখ্যা ১০ জনের কম। অর্ধেকের বেশি মানুষ নিজেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। এসব ছোট ব্যবসার বড় অংশ কৃষি, খুচরা বিক্রি ও আবাসন-খাদ্যসেবা খাতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছোট ব্যবসার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে এআই। তারা যেসব মেসেজিং অ্যাপ, ব্যবসায়িক সফটওয়্যার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে, এআই সেগুলো আরও কার্যকর করতে পারে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশটি এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একেবারে পিছিয়ে নেই। স্বাস্থ্যখাতে এআইনির্ভর মেডিকেল ইমেজিং ব্যবহারের ফলে ডায়াবেটিসজনিত চোখের জটিলতা শনাক্তের পরীক্ষা প্রতিদিন প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। দেশে সরকারি ডিজিটাল সেবার ভিত্তি আগেই তৈরি হয়েছে। সেই ভিত্তি এখন এআইয়ের ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো যায়। কৃষি, স্বাস্থ্য ও নাগরিকসেবায় এআই ব্যবহারের উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
"এআই বিপ্লব উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কর্মসংস্থান হারানোর চেয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেশি সুযোগ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলো এই পরিবর্তনের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি প্রস্তুত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্বব্যাপী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিশ্বব্যাংক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, ১৪ দশমিক ২ শতাংশ, ১৬ দশমিক ২ শতাংশ, ৪০ শতাংশ, ৯০ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!