📌 কৃষি ও পল্লি উন্নয়নে চলতি অর্থবছরে ব্যাংক খাতের ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি করে ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের অর্থবছরের তুলনায় লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধির হার ৫৩ শতাংশ। প্রকৃত কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি করে ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে। এর আগের অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর জন্য ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা
- 📌 ব্যাংক খাতের মোট ঋণের অন্তত ৪ শতাংশ কৃষি খাতে প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরে ছিল আড়াই শতাংশ
- 📌 নতুন কর্মসূচির আওতায় প্রকৃত কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে
- 📌 মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণে কোনো জামানত বা সেবা ফি গ্রহণ করা হবে না
- 📌 প্রকৃত কৃষক শনাক্ত করতে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যয়ন বা সরকারি কৃষক কার্ড ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে
📰 বিস্তারিত
কৃষি ও পল্লি উন্নয়নের জন্য ব্যাংক খাতের ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫৩ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান এবং মুখপাত্র ও কৃষিঋণ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। ডেপুটি গভর্নর জানান, লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধির মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করা।
নতুন কর্মসূচির আওতায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর জন্য ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যাংক খাতের মোট ঋণের অন্তত ৪ শতাংশ কৃষি খাতে প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরে ছিল আড়াই শতাংশ।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণে কোনো জামানত বা সেবা ফি গ্রহণ করা হবে না। এছাড়া, নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সামাজিক ও দলগত জামানতের সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন কর্মসূচিতে জৈব সার উৎপাদন, হ্যাচারিতে মাছ ও হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন এবং উট পালনের জন্য ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
"লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ তৈরি হলেও তা পূরণ সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী। তবে শুধু ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি করলেই হবে না, প্রকৃত কৃষকের কাছে সময়মতো অর্থ পৌঁছানো এবং উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।"
প্রকৃত কৃষক শনাক্ত করতে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যয়ন বা সরকারি কৃষক কার্ড ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কৃষক কার্ড না থাকলেও ব্যাংকগুলো যাচাই করে ঋণ প্রদান করতে পারবে। তবে যাচাই ছাড়া ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে দায় ব্যাংকের ওপর বর্তাবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ হাজার কোটি টাকা (লক্ষ্যমাত্রা), ৫৩ শতাংশ (বৃদ্ধির হার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!