📌 নাটোরের লালপুর থানায় সাইবার প্রতারণায় ৩ জন আটক। তারা ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করে প্রবাসীদের ভিসা মেয়াদ ও ভিডিও চাপ দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিত। এক মাসে ২০ জনেরও বেশি প্রতারক আটক হলেও জামিনে বেরিয়ে আবার কাজে জড়িয়ে পড়ছে।
নাটোরের লালপুর উপজেলায় সাইবার প্রতারণায় জড়িত তিনজনকে আটক করে পুলিশ। তারা ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে প্রবাসীদের ভিসা মেয়াদ বাড়ানোর অজুহাতে এবং গোপন ভিডিও চাপ দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিত। আজ শুক্রবার দুপুরে আটক ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩ জন প্রতারক আটক: কাউসার আলী (২০), সোহাগ আলী (২৩) ও ইমন আলী (১৯) — সবাই লালপুরের মোহরকয়া গ্রামের বাসিন্দা
- 📌 প্রতারণার পদ্ধতি: নারী কণ্ঠে কথা বলে প্রবাসীদের সাথে যোগাযোগ, পরে তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ভিসা মেয়াদ বা দুর্ঘটনা ভয়ে টাকা চাওয়া
- 📌 গোপন ভিডিও চাপ: অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিত
- 📌 সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা: আটকদের বিরুদ্ধে লালপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম পলাশের নেতৃত্বে মামলা দায়ের করা হয়েছে
- 📌 ২০ জনেরও বেশি প্রতারক আটক: গত এক মাসে উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যাক ও প্রতারণায় ২০ জনের অধিককে আটক করা হলেও তারা জামিনে বেরিয়ে আবার কাজে জড়িয়ে পড়ছে
📰 বিস্তারিত
নাটোরের লালপুর উপজেলার মোহরকয়া গ্রামের প্রতারক চক্র গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি প্রথমে নারী কণ্ঠে কথা বলে প্রবাসীদের সাথে যোগাযোগ শুরু করত। এরপর তারা কৌশলে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিত। এরপর তারা প্রবাসী সেজে তাদের স্ত্রী, ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের ফোন করত। ফোনে তারা বলতো, “আপনার ভিসা মেয়াদ শেষ হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে হবে”। কখনো তারা প্রবাসীকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বা পুলিশের হাতে আটক হওয়ার খবর দিত এবং টাকা চাওয়া হতো।
এছাড়া প্রতারকরা ব্যাংক রসিদ জালিয়াতি করে বা নারী সেজে প্রবাসীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে গোপন ভিডিও ধারণ করত। পরে সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিত। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ জানান, এই ঘটনায় আটকদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে নিয়মিত মামলা করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত এক মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যাক ও প্রতারণা চক্রের ২০ জনের অধিক সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে লালপুর থানা-পুলিশ। তবে স্থানীয়রা জানান, তারা জামিনে বেরিয়ে আবারও একই কাজে জড়িয়ে পড়ছে। ২০১৬ সাল থেকে উপজেলায় ইমো হ্যাকিং শুরু হয়ে বর্তমানে পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।
"এ ঘটনায় আটকদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে নিয়মিত মামলা করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লালপুর উপজেলা, নাটোর; মোহরকয়া গ্রাম, ভাঙাপাড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওসি মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ, কাউসার আলী (২০), সোহাগ আলী (২৩), ইমন আলী (১৯)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ জন আটক, ২০ জনেরও বেশি প্রতারক আটক (গত এক মাসে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!