📌 চট্টগ্রামের খুলশী থানায় একটি আটতলা ভবন থেকে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তারা সাইবার প্রতারণার একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। গ্রেপ্তারদের মধ্যে লাওস, পাকিস্তান, চীন, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছে
চট্টগ্রামের খুলশী থানার জালালাবাদ আবাসিক এলাকায় একটি আটতলা ভবন থেকে নগর পুলিশের অভিযানে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যক্তিরা দেড় মাস ধরে ভাড়া নিয়ে থাকা এই ভবনে সার্ভার, কম্পিউটার ও ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে অনলাইন প্রতারণার একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬৩ জন বিদেশি প্রতারক গ্রেপ্তার: লাওস (৩৪), পাকিস্তান (২১), চীন (৫), নেপাল (২), ভিয়েতনাম (১)
- 📌 ১৭০টি ডিভাইস উদ্ধার: ল্যাপটপ, মোবাইল, সার্ভারসহ সাইবার প্রতারণার সরঞ্জাম
- 📌 দেশীয় চক্রের সহায়তা পেয়েছিলেন প্রতারকরা; তাদের পাসপোর্ট ও ভিসা দেশীয়দের হাতে ছিল
- 📌 সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা খুলশী থানায় দায়ের; গ্রেপ্তারদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে
- 📌 ৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে ৬ জন চীনা-তাইওয়ানি প্রতারক গ্রেপ্তার; ১৯৩৮টি আইফোনসহ ডিভাইস উদ্ধার
📰 বিস্তারিত
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, গ্রেপ্তারকৃত ৬৩ জনের মধ্যে ৩৪ জন লাওসের, ২১ জন পাকিস্তানের, ৫ জন চীনের, ২ জন নেপালের ও ১ জন ভিয়েতনামের নাগরিক। পুলিশের তথ্য মতে, এই ব্যক্তিরা দেড় মাস আগে ভাড়া নিয়ে থাকা এই আটতলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাটে অবস্থান করতেন। ভবনটিতে সার্ভার, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস স্থাপন করা ছিল। পুলিশের অভিযোগ, তারা অনলাইন প্রতারণার একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের পাসপোর্ট ও ভিসা তাদের নিজস্ব হাতে ছিল না। এসব নথি দেশীয় একটি চক্রের সদস্যদের হাতে ছিল বলে জানানো হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের সহায়তায় তারা বাংলাদেশে এসেছিলেন। ভবনটির মালিক একজন দুবাইপ্রবাসী। ফয়সাল আহম্মদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা অনলাইন প্রতারণায় যুক্ত থাকার প্রমাণ দেখাতে পারেননি। তাদের মধ্যে কোনো বৈধ কর্মসংস্থানের প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রতারকরা বিভিন্ন উপায়ে প্রতারণা করতেন। কখনো নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করে, আবার কখনো চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। এছাড়াও ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের তথ্য হ্যাক করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে প্রতারণার পরিমাণ ও জড়িত ব্যক্তিরা কারা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার পর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।
"দেশীয় চক্রের সহায়তায় তারা বাংলাদেশে এসেছিলেন। ভবনটির ১৪টি ইউনিটে সার্ভার, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ প্রতারণায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা অন্য কোনো বৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ দেখাতে পারেননি।"
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ৬৩ জনকে চক্রের মাঠপর্যায়ের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৬ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন চীনের ও একজন তাইওয়ানের নাগরিক ছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে ১৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনাও অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার সাথে জড়িত ছিল। তবে কক্সবাজারের ঘটনাটি খুলশীর ঘটনার সাথে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা এখনো পরীক্ষা চলছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম, খুলশী থানা (জালালাবাদ আবাসিক এলাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফয়সাল আহম্মদ (নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার), আবদুর রহিম (ওসি, খুলশী থানা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৩ জন গ্রেপ্তার, ১৭০টি ডিভাইস উদ্ধার, ১৪টি ফ্ল্যাট, ৩৪ জন লাওসি, ২১ জন পাকিস্তানি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!