📌 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকরা রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাইট্রোজেন সারের ব্যবহার ২২% সাশ্রয়ে করার একটি উদ্ভাবন করেছেন। এই প্রযুক্তি টেকসই কৃষিতে বিপ্লব আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উদ্ভিদবিজ্ঞান ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের যৌথ গবেষক দল একটি বিপ্লবী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন যা নাইট্রোজেন সারের ব্যবহার ২২ শতাংশ সাশ্রয়ে করতে পারে। এই প্রযুক্তি ‘N-FertiSmart’ নামে পরিচিত এবং এটি রিমোট সেন্সিংভিত্তিক নির্ভুল নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জবি গবেষকরা উদ্ভাবন করেছেন ‘N-FertiSmart’ প্রযুক্তি যা নাইট্রোজেন সারের ব্যবহার ২২ শতাংশ সাশ্রয়ে করতে পারে
- 📌 এই প্রযুক্তি রিমোট সেন্সিং ব্যবহার করে জমির অবস্থা বিশ্লেষণ করে স্থানভিত্তিক সার ব্যবস্থাপনা সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে
- 📌 গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি হেক্টর জমিতে ১৭৪ কেজি নাইট্রোজেন সারের পরিবর্তে ১৩৫ কেজি সার ব্যবহার করা সম্ভব
- 📌 প্রকল্পে জড়িত গবেষকদের মধ্যে রয়েছেন ড. এ এম এম গোলাম আদম, ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ড. মো. আতাউল গনি এবং তরুণ গবেষক বিপ্লব বিশ্বাস ও মো. নাজিম শরিফ
- 📌 ‘N-FertiSmart’ প্রযুক্তিটি ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ প্রদর্শিত হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের কৃষিপ্রধান অর্থনীতিতে নাইট্রোজেন সারের অপচয় একটি বড় সমস্যা। জবি উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এম এম গোলাম আদম জানান, “বাংলাদেশে ফসলে ব্যবহৃত ইউরিয়া সারের প্রায় ৬০ শতাংশই অপচয় হয়। এতে পরিবেশ, মাটি ও গাছের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে গবেষকরা ‘N-FertiSmart’ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। এই প্রযুক্তি স্যাটেলাইট ও রিমোট সেন্সিং ব্যবহার করে জমির অবস্থা বিশ্লেষণ করে সার প্রয়োগের পরিমাণ নির্ধারণ করে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতি হেক্টর জমিতে ১৭৪ কেজি নাইট্রোজেন সারের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ১৩৫ কেজি সার ব্যবহার করা সম্ভব। এতে কৃষকের সার বাবদ ব্যয় কমার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর সৃষ্ট চাপও হ্রাস পাবে। ড. গোলাম আদম বলেন, “প্রচলিত পদ্ধতিতে পুরো জমিতে একই মাত্রায় সার প্রয়োগ করা হলেও এই প্রযুক্তিতে রিমোট সেন্সিংয়ের মাধ্যমে জমির বিভিন্ন অংশের অবস্থা বিশ্লেষণ করে স্থানভিত্তিক সার ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব।”
প্রকল্পের ওয়ার্কফ্লো অনুযায়ী, রিমোট সেন্সিংয়ের মাধ্যমে কৃষিজমির বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ ক্ষেত্রে NDVI, B11 ও LULC-এর মতো র্যাস্টার ডেটা প্রি-প্রসেসিং, অ্যালাইনমেন্ট ও পুনঃশ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়। পরে PDR হিসাবের মাধ্যমে জমির নাইট্রোজেনের প্রয়োজনীয়তা ও ঝুঁকির মানচিত্র তৈরি করা হয়। গবেষকরা দাবি করেন, এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে প্রচলিত সুপারিশের তুলনায় হেক্টরপ্রতি গড়ে প্রায় ২২ শতাংশ নাইট্রোজেন সার কম ব্যবহার করা সম্ভব।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, “স্যাটেলাইটভিত্তিক তথ্য ও ডেটা ব্যবহার করে প্রতিবছর মাটির অবস্থা ও ডিনাইট্রিফিকেশন রেট অনুযায়ী সারের পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে। ফলে কৃষকরা অতিরিক্ত সার প্রয়োগ এড়াতে পারবেন এবং দেশের চলমান সার সংকট কমাতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।”
"বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। ফসলে ব্যবহৃত ইউরিয়া সারের প্রায় ৬০ শতাংশই অপচয় হয়, যা গাছের কোনো কাজে না এসে উল্টো পানির সঙ্গে মিশে পরিবেশ, মাটি ও গাছের শিকড়ের ক্ষতি করছে। আমাদের গবেষণায় রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতি বছর এলাকাভিত্তিক সারের সঠিক চাহিদা নির্ধারণ করা সম্ভব। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিদ্যমান সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে অন্তত ২২ শতাংশ সারের ব্যবহার কমানো সম্ভব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. এ এম এম গোলাম আদম, ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ড. মো. আতাউল গনি, বিপ্লব বিশ্বাস, মো. নাজিম শরিফ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ শতাংশ, ৬০ শতাংশ, ১৭৪ কেজি, ২৬-৩৪ নম্বর স্টল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!