📌 সাতক্ষীরার বাঁকাল এলাকায় মেডিকেল হাসপাতালের পাশে অবস্থিত ‘গরীবে নেওয়াজ’ নামের ছোট হোটেলের মালিক আবদুর রশীদ সরদার (৬৮) পয়সা ছাড়াই খাবার দিচ্ছেন ক্ষুধার্তদের। তিনি বলেছেন, ‘আপনার পয়সা আছে কি না, সেটা আমার ব্যাপার নয়, আপনি খাইতে চাইলে আমি খাওয়াইতে পারব’
সাতক্ষীরার বাঁকাল এলাকায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে অবস্থিত একটি ছোট হোটেলে ‘পয়সা থাকলেও খাবেন, না থাকলেও খাবেন’ শ্লোগান দিয়ে ক্ষুধার্তদের জন্য খোলা দরজা। ‘গরীবে নেওয়াজ’ নামের এই হোটেলের মালিক আবদুর রশীদ সরদার (৬৮) নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারেন যে, ক্ষুধার কষ্ট কতটা ভয়াবহ। তিনি বলেন, ‘গরিব মানুষের কষ্ট আমি বুঝি। ক্ষুধার যে কী কষ্ট, সেইটা আমি জানি’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাতক্ষীরার বাঁকাল এলাকায় মেডিকেল হাসপাতালের পাশে অবস্থিত ‘গরীবে নেওয়াজ’ হোটেলে পয়সা ছাড়াই খাবার দেওয়া হয়
- 📌 মালিক আবদুর রশীদ সরদার (৬৮) বলেন, ‘আপনার পয়সা আছে কি না, সেটা আমার ব্যাপার নয়, আপনি খাইতে চাইলে আমি খাওয়াইতে পারব’
- 📌 প্রতিদিন ৭-৮ ধরনের খাবার রান্না হয়, কেউ ২০ টাকা দেন, কেউ ৫০ টাকা, আবার কেউ টাকা ছাড়াই খেয়ে যায়
- 📌 হোটেলের পাশে পুকুরে গোসলের সুযোগও দেওয়া হয় এবং মাথায় তৈল দিতে গামছা প্রদান করা হয়
- 📌 ৩৫০ টাকা পুঁজিতে শুরু করা এই হোটেলের ব্যবসা এখনও ঋণে চলে, কিন্তু রশীদ সরদার হোটেল বন্ধ করেননি
📰 বিস্তারিত
সাতক্ষীরার বাঁকাল এলাকায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে অবস্থিত ‘গরীবে নেওয়াজ’ হোটেলের মালিক আবদুর রশীদ সরদার (৬৮) নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারেন যে, ক্ষুধার কষ্ট কতটা ভয়াবহ। তিনি বলেন, ‘আমি ছোটবেলায় মা-বাবাকে হারিয়ে অভাবের সঙ্গে বড় হই। ডাবের খোসায় লেগে থাকা শাঁস, কাঁঠালের বীজ ও আলু সেদ্ধ খেয়ে দিন পারতাম। নিজের পরিচয় দিতে হয়েছিল টোকাই হিসেবে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমি বুঝতে পারি, গরিব মানুষের কষ্ট কতটা ভয়াবহ’।
রশীদ সরদারের হোটেলের দরজা সবসময় খোলা। হোটেলের সামনে সাইনবোর্ডে লেখা আছে—‘মাথায় তৈল দেন, গামছা নিন, গোসল করুন, ভাত খান। পয়সা থাকলেও খাবেন, না থাকলেও খাবেন’। প্রতিদিন সাত থেকে আট ধরনের খাবার রান্না হয় এই হোটেলে। মাছ, ডিম, পুঁইশাক, কচুশাক, আলু ভর্তা—এই সবই রান্না হয়। কেউ সামর্থ্য অনুযায়ী ২০ টাকা দেন, কেউ ৫০ টাকা, আবার কেউ টাকা ছাড়াই খেয়ে যায়। রশীদ সরদার বলেন, ‘আমি কাউকে ফিরাই না। আমার দ্বারা যদি কেউ কিঞ্চিৎ পরিমাণ উপকার পায়, তাতেই আমি খুশি’।
হোটেলের পাশে পুকুরে গোসলের সুযোগও দেওয়া হয়। রশীদ সরদার বলেন, ‘গরিব রোগী যে কতটা অসহায়, তা আমি এই মেডিকেলের পাশে বসে দেখতে পাই। আমার কাছে মানুষের পকেটের হিসাবের চেয়ে ক্ষুধাটাই বড়’।
রশীদ সরদারের স্ত্রী ফজিলা খাতুন (৫৯) প্রতিদিন রাত তিনটার সময় উঠে রান্নাবান্না শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘শরীর আর আগের মতো নেই, তবু হোটেলের নিয়মিত ক্রেতারা আমার রান্না ছাড়া খেতে চায় না। কষ্ট হলেও রান্না করি, মানুষকে খাওয়াই’।
"আপনার পয়সা আছে কি না, সেটা আপনার ব্যাপার। ওটা তো আর আমার কোনো ব্যাপার না। আপনি খাইতে চাইলে আমি খাওয়াইতে পারব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাতক্ষীরার বাঁকাল এলাকা, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুর রশীদ সরদার (৬৮), ফজিলা খাতুন (৫৯)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫০ টাকা (পুঁজি), ২০-৫০ টাকা (খাবারের মূল্য), ৭-৮ ধরনের খাবার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!