📌 সিঙ্গাপুরে অর্থপাচারের মাধ্যমে পাঁচ কোটি টাকা হারানোর পর অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়েন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার সানি সাহা। পরে তিনি দুই চিকিৎসককে টার্গেট করে হামলা পরিকল্পনা করেন, যা ধরা পড়ে ডিবির অভিযানে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি বিভাগের অভিযানে দুই চিকিৎসকের ওপর হামলা পরিকল্পনার মূল কারিগর হিসেবে ইন্টেরিয়র ডিজাইনার সানি সাহাকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই অভিযানে ফাতিন ইশরাক লাবিব (২০) নামের আরেক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম রোববার দুপুরে মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সানি সাহা সিঙ্গাপুরে কর্মরত অবস্থায় জান্নাত আলমগীর হোসেনের সঙ্গে পরিচিত হন এবং অর্থপাচারের ব্যবসায় পাঁচ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন
- 📌 সানি সাহা উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে দুই চিকিৎসককে টার্গেট করেন
- 📌 আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল হক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন সানি সাহা
- 📌 গত ২৭ জুলাই ধানমন্ডিতে ডা. আমিনুল হককে হুমকি দেওয়া হয় এবং ১৭ আগস্ট রাতে ডা. আসাদুর রহমানকে মারধর করা হয়
- 📌 অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ফাতিন ইশরাক লাবিব জানান, তিনি সানির কাছ থেকে অধ্যাপক ডা. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার দায়িত্ব পান
📰 বিস্তারিত
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, সানি সাহা ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের জেএনএস ইন্টেরিয়র ডিজাইনার প্রজেক্ট কোম্পানিতে প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তাঁর পরিচয় হয় জান্নাত আলমগীর হোসেনের সঙ্গে। আলমগীর তাঁকে অর্থপাচারের ব্যবসায় অংশগ্রহণের প্রস্তাব দেন। সানির ভাষ্যমতে, তিনি আলমগীরের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন সময়ে অর্থপাচারের ব্যবসায় পাঁচ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। এতে ক্ষতির মুখে পড়ে তিনি অপরাধজগতে প্রবেশ করেন।
সানির গ্রামের বাড়ি গাজীপুর জেলায়। মুসলিম নারী বিয়ে করার কারণে পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ২০২৪ সালের আগস্টে দেশে ফেরার পর তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আলমগীর হোসেনের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হন। তখন আলমগীর তাঁকে উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেন। সানি বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে ডা. এ কে এম আমিনুল হক ও ডা. মো. আসাদুর রহমানকে টার্গেট করেন।
ডিবির দাবি, সানি সাহা অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল হক ও অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করেন। ফাতিন ইশরাক লাবিবকে তিনি হামলায় অংশগ্রহণকারী সদস্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেন। গত ২৭ জুলাই ধানমন্ডির ৪ নম্বর সড়কে পাঁচজন দুষ্কৃতকারী গাড়ি থামিয়ে ডা. আমিনুল হককে হুমকি দেন। পরে গত ১৭ আগস্ট রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে মারধর করা হয়।
রাত পৌনে ১১টার দিকে শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে সিএনজি অটোরিকশায় ওঠার সময় জীবন ওরফে আদিলসহ কয়েকজন তাঁকে গতিরোধ করেন। পরে তাঁকে অটোরিকশা থেকে টেনে নামিয়ে মারধর করা হয়। এতে তাঁর ডান চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন পুলিশকে খবর দিলে পল্টন মডেল থানার সদস্যরা জীবন ওরফে আদিলকে আটক করেন। অন্যরা পালিয়ে যায়।
"ঘটনার কিছুদিন আগে একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে ফোনকল করে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করা হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা মহানগর, ধানমন্ডি, শান্তিনগর, যাত্রাবাড়ী, খিলক্ষেত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সানি সাহা, ফাতিন ইশরাক লাবিব, ডা. এ কে এম আমিনুল হক, ডা. মো. আসাদুর রহমান, শফিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ কোটি টাকা, ৩৮ বছর, ২০ বছর, ২৭ জুলাই, ১৭ আগস্ট, ১৫ হাজার মার্কিন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!