📌 সন্দ্বীপে সরকারি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। দুটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের একটিও চালু নেই, ফলে স্পিডবোটে মৃত্যু ঘটছে। স্থানীয়রা সরকারি উদ্যোগের স্থায়ীত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন
সন্দ্বীপে সরকার প্রদত্ত দুটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের একটিও বর্তমানে রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে না। একটি ১৫ বছর ধরে অচল থাকলেও অন্যটি সমুদ্রপথে চলাচলের উপযোগী নয়। ফলে মুমূর্ষু রোগীদের স্পিডবোট, ট্রলার বা ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে করে চট্টগ্রামে নিতে হয়। গত সোমবার মুমূর্ষু ওসমান গণি স্পিডবোটে ওঠার আগেই গুপ্তছড়া ঘাটে মৃত্যুবরণ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সন্দ্বীপে সরকারি দুটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটিও চালু নেই — একটি ১৫ বছর ধরে অচল, অন্যটি সমুদ্রপথে অযোগ্য
- 📌 মুমূর্ষু ওসমান গণি স্পিডবোটে ওঠার আগেই গুপ্তছড়া ঘাটে মৃত্যুবরণ করেন
- 📌 স্থানীয় চিকিৎসকেরা প্রতি সপ্তাহে ২০ থেকে ২৫ জন মুমূর্ষু রোগীর দ্রুত পরিবহনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন
- 📌 ২০২২ সালে প্রসূতি কুলসুমা বেগমের মৃত্যু হয়েছিল নৌযানের সংকটে
- 📌 ২০১৫ সালে দেওয়া আরও একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সও চালক ও জ্বালানির অভাবে ব্যবহৃত হয়নি
📰 বিস্তারিত
সন্দ্বীপ উপজেলায় সরকারি উদ্যোগে প্রদত্ত দুটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটিও বর্তমানে রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে না। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ১৫ বছর ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। অন্যটি সমুদ্রপথে চলাচলের উপযোগী নয়। চালক ও জ্বালানির ব্যবস্থাও নেই। ফলে মুমূর্ষু রোগীদের স্পিডবোট, ট্রলার বা ঝুঁকিপূর্ণ ছোট নৌযানে করে চট্টগ্রামে নিতে হয়। এতে ঘাটে অপেক্ষার সময় বাড়ে এবং কখনো রোগীর মৃত্যু ঘটে।
গত সোমবার মুমূর্ষু ওসমান গণি স্পিডবোটে ওঠার আগেই গুপ্তছড়া ঘাটে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রামে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ছেলে মো. ইব্রাহীম তাই বাবাকে নিয়ে ঘাটে যান। কিন্তু আবহাওয়ার সতর্কতায় সন্দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের নিয়মিত নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে ঘাটে কোনো নৌযান পাওয়া যায়নি। পরে একটি স্পিডবোটের ব্যবস্থা হলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।
স্থানীয় চিকিৎসকেরা জানান, প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন মুমূর্ষু রোগীকে দ্রুত চ্যানেল পারাপারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে তাঁদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার চিঠি দেওয়া হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
২০২২ সালের মে মাসে প্রসূতি কুলসুমা বেগমকে জরুরি চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। তাঁকে গভীর রাতে চিকিৎসকের পরামর্শে চট্টগ্রামে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু নৌযানের সংকট ও ঘাটের অপেক্ষার কারণে যাত্রায় দেরি হয়। পরে চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
২০১৫ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আরও একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়। কিন্তু চালক ও জ্বালানির ব্যবস্থা না থাকায় এটি এক দিনের জন্যও রোগী পরিবহনে ব্যবহার করা যায়নি। পরে এটি গুপ্তছড়া ঘাটের কাছে কেওড়া বাগানে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।
"ঘাটে গিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও আমরা কোনো বোটের ব্যবস্থা করতে পারিনি। সি-অ্যাম্বুলেন্স থেকেও নাই, না হলে এভাবে আমার চাচাকে ঘাটে মৃত্যুবরণ করতে হতো না।" — রেজাউল করিম, ভ্রাতুষ্পুত্র
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ওসমান গণি, কুলসুমা বেগম, রেজাউল করিম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২টি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স অচল, প্রতি সপ্তাহে ২০-২৫ জন মুমূর্ষু রোগী, ১৫ বছর ধরে অচল একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!