📌 রাঙামাটির সাজেকে সাত দিন ধরে অবরোধ চলছে। কৃষকদের কৃষিপণ্য বিক্রি না পেরে নষ্ট হচ্ছে, গাড়িচালক ও সহকারীদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। জেলায় প্রতিদিন ৩০-৪০ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে
রাঙামাটির সাজেক এলাকায় টানা সাত দিন ধরে অবরোধ চলছে, যা স্থানীয় কৃষকদের কৃষিপণ্য বিক্রি থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে এবং গাড়িচালকদের সংসারকে বিপদে ফেলেছে। অবরোধের কারণে এলাকায় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা জাগ্রত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাত দিন ধরে অবরোধ: সাজেক সড়কে কোনো যান চলাচল নেই, যা পর্যটকদের ছেড়ে যেতে বাধ্য করেছে।
- 📌 কৃষকদের বিপদ: ২২টি পাড়ার জুমচাষিরা কৃষিপণ্য বিক্রি করতে না পেরে কলা, পেঁপে ও কচুর নষ্ট হচ্ছে।
- 📌 গাড়িচালকদের সংসার বিপন্ন: পিকআপ ভ্যান চালক ইসমাইল হোসেন ধারদেনায় সংসার চালাচ্ছেন, সহকারীরা মজুরি হারিয়েছেন।
- 📌 ৩০-৪০ লাখ টাকা লোকসান: জেলায় প্রতিদিন গাড়িচালক ও সহকারীদের আয় বন্ধের কারণে এই পরিমাণ অর্থ হারাচ্ছে।
- 📌 দাবি না পূরণে অবরোধ চলবে: সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন দাবি না পূরণ পর্যন্ত অবরোধ বজায় রাখবে।
📰 বিস্তারিত
রাঙামাটির সাজেকে গত বৃহস্পতিবার থেকে সাত দিন ধরে অবরোধ চলছে। এই অবরোধে সাজেক সড়কে কোনো যান চলাচল নেই, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট সৃষ্টি করেছে। সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য অনিত্য ত্রিপুরা বলেছেন, এলাকার বাসিন্দারা ঘরে মজুত থাকা খাবার দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। রুইলুই পাড়ার পাঁচটি দোকানে থাকা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও শেষের পথে। অবরোধ আরও দু-এক দিন চললে এলাকায় খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সাজেকের ১৬৯ নম্বর শিয়ালদাই মৌজার হেডম্যান জৌপেইথাং ত্রিপুরা জানান, তাঁর ওয়ার্ডের ২২টি পাড়ার অধিকাংশ বাসিন্দা জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল। অবরোধের কারণে তাঁরা মাচলং বাজারে যেতে পারছেন না। ফলে কলা, পেঁপে, আখ, মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়া ও কচুর মতো কৃষিপণ্য বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন। অনেক কৃষিপণ্য পেকে নষ্ট হচ্ছে। বাজারে নাপ্পি, শুঁটকি, প্রয়োজনীয় ওষুধসহ গৃহস্থালির পণ্যেরও ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
গাড়িচালক ও সহকারীদের সংসার বিপন্ন হয়েছে। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার তবলছড়ির বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন দৈনিক মজুরিতে পিকআপ ভ্যান চালান। গাড়ি চালিয়ে প্রতিদিন এক থেকে দুই হাজার টাকা আয় করতেন তিনি। কিন্তু টানা সাত দিন গাড়ি চালাতে না পেরে তিনি পরিচিত একজনের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ধার নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, এখন পর্যটনের মৌসুম। এ সময়ে প্রতিদিন গাড়ি চালানোর লাইন থাকত। বছরের এই কয়েক মাসই তাঁদের আয় করার সময়। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক দিন পর না খেয়ে থাকতে হবে।
সাজেক বন্ধ থাকায় গাড়ির মালিকেরাও বিপদে পড়েছেন। মালিক মুন্না বলেছেন, তিনি নিজের জমানো টাকা ও আট লাখ টাকা ঋণ নিয়ে গত বছর একটি পিকআপ কিনেছিলেন। প্রতি মাসে তাঁকে ঋণের ৩২ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়। তিনি বলেন, গাড়ি বন্ধ থাকলে ঋণের কিস্তি কীভাবে দেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। খাগড়াছড়ির যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমা জানান, তাঁদের সমিতিতে তালিকাভুক্ত গাড়ি রয়েছে ২৫০টি। জিপ মালিক সমিতির গাড়ি রয়েছে ৫০০টির বেশি। এ ছাড়া মাহিন্দ্র, চাঁদের গাড়ি, সিএনজিসহ প্রায় দেড় হাজারের বেশি যানবাহন সাজেকে চলাচল করে। অবরোধে এসব যানবাহনের চালক ও সহকারীদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক মালিক ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনায় তাঁরাও কিস্তি পরিশোধে সমস্যায় পড়েছেন। সব মিলিয়ে জেলায় প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে।
"দাবি না মানা পর্যন্ত অবরোধ চলবে। ১০ নম্বর হাজাছড়াসহ বিভিন্ন স্থানে অবরোধ সমর্থনে পিকেটাররা অবস্থান করছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাজেক, রাঙামাটি জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অনিত্য ত্রিপুরা, জৌপেইথাং ত্রিপুরা, ইসমাইল হোসেন, মুন্না, আয়ুস চাকমা, বিজয় কান্তি চাকমা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ দিন, ২২টি পাড়া, ৬০০ টাকা, ৩২ হাজার টাকা, ২৫০টি গাড়ি, ৫০০টি জিপ, ৩০-৪০ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!