📌 পাঠ্যবই মুদ্রণের দরপত্রে প্রতিযোগিতা বাড়ায় সরকার ১৪ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পুনঃ দরপত্রে ৩৪টি লটে দর কমে ৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বাঁচেছে। এছাড়াও নতুন চার বইয়ের জন্য ৪ কোটি ৬০ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে
পাঠ্যবই মুদ্রণের দরপত্রে প্রতিযোগিতা বাড়ায় সরকার ১৪ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) পুনঃ দরপত্রে ৩৪টি লটে দর কমে ৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বাঁচেছে। এছাড়াও নতুন চার বইয়ের জন্য ৪ কোটি ৬০ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এনসিটিবির হিসাব অনুযায়ী, মূল দরপত্রে প্রতিযোগিতার ঘাটতি থাকলে মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপানোর কাজেই প্রায় ২৫৯ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৪ কোটি টাকা সাশ্রয়**: সিন্ডিকেট ভেঙে প্রতিযোগিতা বাড়ায় সরকার বাঁচায় ১৪ কোটি টাকা।
- 📌 **৩৪টি লটে ৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বাঁচে**: পুনঃ দরপত্রে প্রতিযোগিতা বাড়ায় প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় ১৩.৯৮ শতাংশ দর কমে।
- 📌 **৪টি নতুন বইয়ে ৪ কোটি ৬০ হাজার টাকা সাশ্রয়**: চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন বইয়ের জন্য দর কমে।
- 📌 **মাধ্যমিক বইয়ের সম্ভাব্য সাশ্রয়**: প্রতিযোগিতার ঘাটতি থাকলে মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপানোর কাজেই ২৫৯ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারত।
- 📌 **দুদক অভিযান**: পাঠ্যবই মুদ্রণের দুর্নীতির অভিযোগের পর এনসিটিবিতে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন।
📰 বিস্তারিত
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর পুনঃ দরপত্রে প্রতিযোগিতা বাড়ায় সরকারের মোট সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি টাকা। এনসিটিবির হিসাব অনুযায়ী, পুনঃ দরপত্রের ৩৪টি লটে বই ছাপানোর প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৬৭ কোটি ৩ লাখ টাকা। প্রতিযোগিতা বাড়ায় ঠিকাদারদের প্রস্তাবিত দর দাঁড়িয়েছে ৫৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এছাড়াও, নতুন চার বইয়ের জন্য ২৩টি লটে দর কমে ৪ কোটি ৬০ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলছেন, মূল দরপত্রেও প্রতিযোগিতা থাকলে সরকারের আরও অনেক টাকা সাশ্রয় হতো। পুনঃ দরপত্রে ব্যয় কমার হার মূল দরপত্রের মোট মূল্যের সঙ্গে তুলনা করে দেখা গেছে, শুধু মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপানোর কাজেই প্রায় ২৫৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা সাশ্রয় হতে পারত। বর্তমানে আগামী শিক্ষাবর্ষের প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপার কাজ চলছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের বই ২২ কোটির বেশি। বাকিগুলো প্রাথমিক স্তরের।
পুনঃ দরপত্রে প্রতিযোগিতার চিত্র স্পষ্ট। যেমন, ৭৪৫ নম্বর লটে ৩৪ জন ঠিকাদার দরপত্র কিনেছিলেন, কিন্তু মাত্র পাঁচজন দর জমা দেন। অন্যদিকে, ৯৪৭ নম্বর লটে ৩৭ জন দরপত্র কিনেছিলেন, কিন্তু ৩২টি দরপত্র জমা পড়ে। এনসিটিবির নথি অনুযায়ী, এসব লটে প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৬৭ কোটি ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৮ টাকা। দর কমে ৯ কোটি ৩৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫৯১ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
বাংলাদেশ মুদ্রণশিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান মনে করেন, সিন্ডিকেটের নেতারা নিজেদের সক্ষমতার চেয়ে বেশি কাজ পেয়েছেন। ফলে পরের দরপত্রে আগের সমঝোতা আর টেকেনি। এছাড়াও, এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) মোহাম্মদ আবু নাসের বলেন, পুনঃ দরপত্রে দর কমে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে মূল দরপত্রে যোগসাজশের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যবস্থা নেওয়ার মতো সুযোগ তাঁদের হাতে নেই।
"স্বাভাবিকভাবেই কোনো টেন্ডারে পুনঃ দরপত্র হলে দর কমে যায়। এটা পুরোনো প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে মূল দরপত্রের তুলনা করাটা ঠিক হবে না।"
দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে এই সাশ্রয়কে দেখছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাঠ্যবই মুদ্রণের দুর্নীতির অভিযোগের পর ৬ অক্টোবর এনসিটিবিতে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা (এনসিটিবি চেয়ারম্যান), মোহাম্মদ আবু নাসের (এনসিটিবি সদস্য), তোফায়েল খান (বাংলাদেশ মুদ্রণশিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ কোটি টাকা (সাশ্রয়), ৬৭ কোটি ৩ লাখ টাকা (প্রাক্কলিত ব্যয়), ৫৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা (প্রস্তাবিত দর), ২৫৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা (মাধ্যমিক বইয়ের সম্ভাব্য সাশ্রয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!