📌 নেত্রকোনার মদনে বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভাঙনরোধ প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দের টাকা সাগর চুরির অভিযোগে এলাকাবাসীরা মানববন্ধন করে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ও গোপন কাজের অভিযোগে তারা সরকারের তদন্ত দাবি করছে
নেত্রকোনার মদনে বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভাঙনরোধ প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দের টাকা সাগর চুরির অভিযোগে এলাকাবাসীরা বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে মানববন্ধন করে। মগড়া নদীর ভাঙন থেকে বিদ্যালয়টিকে রক্ষার জন্য বরাদ্দকৃত ১৯ লাখ ৮২ হাজার টাকার প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী, ভেজা বালু ব্যবহার এবং গোপন কাজের অভিযোগ তুলেছেন তারা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মদনে বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভাঙনরোধ প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দের টাকা সাগর চুরির অভিযোগে মানববন্ধন
- 📌 প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ও ভেজা বালু ব্যবহারের অভিযোগ
- 📌 বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে কাজের বিষয়ে অবহিত করা হয়নি, ঠিকাদার গোপনে কাজ শেষ করেছেন
- 📌 অভিযোগকারী হুসাইন কবিরের লিখিত অভিযোগের পরও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেনি
- 📌 জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
মগড়া নদীর ভাঙন থেকে বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হুমকির মুখে পড়ার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৯ লাখ ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। প্রকল্পের কাজ শুরুতে এলাকাবাসীর আশাবাদ ছিল, কিন্তু কাজের মান নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কাজের বিষয়ে অবহিত করা হয়নি। তদারকির অভাবে ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ও ভেজা বালু ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
অভিযোগকারী হুসাইন কবির পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমানের সাথে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে এলাকাবাসীর অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি লাভলী আক্তার, অভিযোগকারী হুসাইন কবির, স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম আকন্দ, জাকির হোসাইন রুবেল, মনু মিয়া, চান মিয়া ও সায়েম মিয়া।
সায়েম মিয়া বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঠিকমতো কাজ পরিদর্শন করেছেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। বরাদ্দের টাকা সঠিকভাবে খরচ হলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হতো।” আশরাফুল ইসলাম আকন্দ বলেন, “বিদ্যালয়টি রক্ষার খবরে আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু যেভাবে কাজ হচ্ছে, তাতে এক বর্ষাও টিকবে না। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
লাভলী আক্তার বলেন, “বিদ্যালয় রক্ষায় মগড়া নদীর ভাঙন রোধ প্রকল্প বরাদ্দ হওয়ায় আমরা আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু কাজের শুরু থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদার এলাকাবাসী এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে চোর-পুলিশ খেলা শুরু করেছে। কাজ শেষ হয়ে গেলেও প্রাক্কলন সম্পর্কে কাউকে কিছু জানানো হয়নি। এই প্রকল্পে সাগর চুরি হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। একজন ব্যক্তি অনিয়মের অভিযোগ দায়ের করলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমরা চাই সরকারের বরাদ্দকৃত টাকার যথাযথ ব্যবহারে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা হোক। ঠিকাদার অনিয়ম করে থাকলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা হোক।”
"পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঠিকমতো কাজ পরিদর্শন করেছেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। বরাদ্দের টাকা সঠিকভাবে খরচ হলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হতো।"
"বিদ্যালয়টি রক্ষার খবরে আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু যেভাবে কাজ হচ্ছে, তাতে এক বর্ষাও টিকবে না। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মদনে, নেত্রকোনা, বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লাভলী আক্তার, হুসাইন কবির, আশরাফুল ইসলাম আকন্দ, সায়েম মিয়া, মো. সাখাওয়াত হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ লাখ টাকা, ১৯ লাখ ৮২ হাজার টাকা, ৪ সদস্য তদন্ত কমিটি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!