📌 রাঙামাটির সাজেকের কলাবুনিয়া এলাকায় জনসংহতি সমিতি ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সশস্ত্র কর্মীদের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে গোলাগুলির সংঘর্ষে পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে
রাঙামাটির সাজেক পর্যটন এলাকার দুর্গম পাহাড়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর সশস্ত্র কর্মীদের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে গোলাগুলির সংঘর্ষে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কলাবুনিয়া এলাকায় সংঘটিত এই সংঘর্ষে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩১ অক্টোবর দুপুর ১টায় সাজেকের কলাবুনিয়া এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের সশস্ত্র কর্মীদের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে গোলাগুলির সংঘর্ষ সংঘটিত হয়েছে।
- 📌 দুর্গম এলাকার কারণে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে পারেনি, তবে দূর থেকে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।
- 📌 রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, দুটি গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির খবর পেয়েছেন, তবে কাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
- 📌 সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
- 📌 ইউপিডিএফের দুই ছায়া সংগঠন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি এসোসিয়েশনের ডাকে সাজেক সড়কে অবরোধ চলছে। তারা দাবি করছে, সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জেএসএস সাজেকের বিভিন্ন গ্রামে সশস্ত্র অবস্থান নিয়েছে।
- 📌 গত ২৬ অক্টোবর সাজেকের উজোবাজারে সংগঠন দুটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি দুই সংসদ সদস্যসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা। তবে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি।
📰 বিস্তারিত
সাজেকের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সংঘটিত এই গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেএসএস ও ইউপিডিএফের মূল দলের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষ সংঘটিত হয়েছে। সংঘর্ষের সময়কাল ছিল প্রায় দুই ঘণ্টা। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে পারেনি। তবে তারা দূর থেকে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন।
রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, ‘দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির খবর পেয়েছি। তবে কাদের মধ্যে এই গোলাগুলি হচ্ছে সেটা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।’ তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দূর থেকে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘শনিবার দুপুর ১টা থেকে কলাবুনিয়ার দুর্গম এলাকায় দুই আঞ্চলিক দলের মধ্যে এই গোলাগুলি শুরু হয়। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।’ তিনি আরো জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এবং যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইউপিডিএফের দুই ছায়া সংগঠন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি এসোসিয়েশনের ডাকে বর্তমানে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে। এই সংগঠনের অভিযোগ, সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি সাজেকের বিভিন্ন গ্রামে সশস্ত্র অবস্থান নিয়েছেন। এতে গ্রামবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। সহসাই সংঘর্ষ এড়াতে গ্রাম থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরানোর দাবিতে সংগঠন দুটি অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ অক্টোবর সাজেকের উজোবাজারে সংগঠন দুটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি দুই সংসদ সদস্যসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা। সংলাপে পাঁচটি দাবির মধ্যে চারটির বিষয়ে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরানোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি নেতৃবৃন্দ। এতে সাজেকের সংকট এখনো কাটেনি।
"দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির খবর পেয়েছি। তবে কাদের মধ্যে এই গোলাগুলি হচ্ছে সেটা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।"
"শনিবার দুপুর ১টা থেকে কলাবুনিয়ার দুর্গম এলাকায় দুই আঞ্চলিক দলের মধ্যে এই গোলাগুলি শুরু হয়। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাজেক, কলাবুনিয়া, রাঙামাটি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুহম্মদ আব্দুর রকিব (পুলিশ সুপার), তোফাজ্জল হোসেন (ওসি), সন্তু লারমা (জেএসএস নেতা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১ অক্টোবর, ১২:০০ পিএম, ২ ঘণ্টা, ২৬ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!