📌 চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বন্য প্রাণী পাচার বন্ধে আইনি দুর্বলতা ও পুনরাবৃত্তি অপরাধীদের কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৩ হাজার ৬৫০টি প্রাণী উদ্ধার হলেও মাত্র দুটি মামলায় রায় হয়েছে
চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বন্য প্রাণী পাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও আইনি দুর্বলতা ও পুনরাবৃত্তি অপরাধীদের কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৯৬টি অভিযানে ৩ হাজার ৬৫০টি বন্য প্রাণী উদ্ধার করা হলেও অধিকাংশ মামলার বিচার শেষ হয়নি।
🔴 মূল তথ্য
- 📌 গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৯৬টি অভিযানে ৩ হাজার ৬৫০টি বন্য প্রাণী উদ্ধার।
- 📌 ৯৬টি মামলায় ৬৩ জনকে আসামি করা হলেও গ্রেপ্তার হয়েছে মাত্র ৩০ জন।
- 📌 ২০টি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও রায় হয়েছে মাত্র দুটি মামলায়। সাজা পেয়েছেন সাতজন আসামি।
- 📌 চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ঢাকায় ১৪৭টি অভিযানে ২ হাজার ৮০টি প্রাণী উদ্ধার।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্য প্রাণী পাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও আইনি দুর্বলতা ও পুনরাবৃত্তি অপরাধীদের কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ৯৬টি অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে ৩ হাজার ৬৫০টি বন্য প্রাণী উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে ৯৬টি মামলায় ৬৩ জনকে আসামি করা হলেও গ্রেপ্তার হয়েছে মাত্র ৩০ জন। ২০টি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও রায় হয়েছে মাত্র দুটি মামলায়। সাজা পেয়েছেন সাতজন আসামি। অধিকাংশ মামলাই এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে রয়েছে।
শুধু চট্টগ্রাম নয়, রাজধানী ঢাকাতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে রাজধানীকেন্দ্রিক ১৪৭টি উদ্ধার অভিযানে ২ হাজার ৮০টি বন্য প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া প্রাণীর মধ্যে রয়েছে চশমাপরা হনুমান, লজ্জাবতী বানর, হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ, গন্ধগোকুল, শজারু, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও কচ্ছপ এবং শত শত পাখি। উদ্ধার হয়েছে শিয়ালের কাটা মাথা ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গও। কর্মকর্তাদের মতে, উদ্ধার হওয়া প্রাণী পাচারের প্রকৃত চিত্রের সামান্য অংশমাত্র।
পাচারকারী এমরান হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের ৯ জুন চট্টগ্রাম নগরের কলাতলী এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালালে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই প্রাণী নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। পরে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। দুই মাস পর একই বছরের ১২ আগস্ট নগরের বাকলিয়ায় বাঁশভালুক পাচারের অভিযোগে আবার গ্রেপ্তার হন এমরান। ৩০ অক্টোবর হগ বেজার উদ্ধারের আরেক অভিযানে তাঁর নাম আসে। সেবারও তিনি পালিয়ে যান। প্রায় দেড় বছর পর ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মাতুয়াইল এলাকা থেকে ১১টি মুখপোড়া হনুমানসহ আবার গ্রেপ্তার হন তিনি।
"বর্তমান আইনে অধিকাংশ অপরাধের শাস্তি তুলনামূলক কম এবং দ্রুত বিচার না হওয়ায় পুনরাবৃত্তি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম ও ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এমরান হোসেন, মো. সাদ্দাম ওরফে জুয়েল, জগ্লু, হাদিসুর রহমান, শেখ ফরিদুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ হাজার ৬৫০টি, ৯৬টি মামলা, ৬৩ জন আসামি, ৩০ জন গ্রেপ্তার, ২ হাজার ৮০টি প্রাণী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!