📌 পাবনার আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া গরুর হাটে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলিবর্ষণে দুজন শ্রমিক নেতা নিহত হন। হত্যাকাণ্ডের পিছনে হাটের ইজারা বা রাজনৈতিক কোন্দল জড়িত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে ভিড়ের মধ্যে রক্তের লাগদাগ দেখা যায়
পাবনার আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া গরুর হাটে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অজ্ঞাতদর্শীদের গুলিবর্ষণে দুজন শ্রমিক নেতা নিহত হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি মুখ কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় গুলি চালিয়ে দুজনকে হত্যা করে। এরপর তারা যেতে যেতে বলতে লাগল, ‘আজ পুষ্পপাড়া স্বাধীন’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাবনার আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া গরুর হাটে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলিবর্ষণে নিহত হন শ্রমিক লীগের সদর উপজেলা আহ্বায়ক আবদুস সালাম (৫৬) ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি রিপন হোসেন (৫০)।
- 📌 দুজনই জেলা সদরের ধর্মগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আবদুস সালাম প্রায় ৩০ বছর ধরে পুষ্পপাড়া গরুর হাটের ইজারাদার ছিলেন এবং কোরআন হাফেজ ছিলেন।
- 📌 ঘটনাস্থলে মেঝেতে রক্তের লাগদাগ দেখা যায়। নিহতদের বাড়িতে মৃতদেহ গোসল দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। জানাজা শেষে আজ বাদ আসরে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।
- 📌 হত্যাকাণ্ডের পিছনে হাটের ইজারা বা রাজনৈতিক কোন্দল জড়িত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ দুটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করছে।
- 📌 পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকেরা দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি পুষ্পপাড়া গরুর হাটের কার্যালয়ে উপস্থিত দুজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহত দুজনের মধ্যে একজন ছিলেন শ্রমিক লীগের সদর উপজেলা আহ্বায়ক আবদুস সালাম (৫৬)। তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে পুষ্পপাড়া গরুর হাটের ইজারাদার ছিলেন এবং কোরআন হাফেজ ছিলেন। তার ভাগন রিপন হোসেন (৫০) ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি।
আবদুস সালামের বাড়িতে কথা হয় ফজলুল হক নামের এক প্রবীণের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বেটাডা খুব ভালো ছিল। দান-খয়রাত করত। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, বুঝতে পারছি না’। আবদুস সালামের বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ জানান, তাঁর ভাই প্রায় ৩০ বছর হাটের ইজারাদার ছিলেন এবং হাটের আয়ের অধিকাংশ টাকা মসজিদ ও মাদ্রাসায় দান করতেন। তিনি বলেন, ‘হাটের দখল নিতে হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করছি। খোঁজখবর নিচ্ছি। কারা ঘটনায় জড়িত, তা নিশ্চিত হলে মামলা করব’।
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে হাটের ইজারা বা পূর্বশত্রুতা থাকতে পারে। আমরা দুটি বিষয় গুরুত্ব দিয়েই ঘটনার তদন্ত করছি’। পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, ‘নিহত আবদুস সালামের ভাই আবুল কালাম চরমপন্থী নেতা ছিলেন। হাটের ইজারা অথবা চরমপন্থীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে’।
"জানি না কী কারণে আমার ভাই ও ভাগনেকে হত্যা করা হয়েছে। তবে হাটের দখল নিতে হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করছি। খোঁজখবর নিচ্ছি। কারা ঘটনায় জড়িত নিশ্চিত হলে মামলা করব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাবনার আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া গরুর হাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুস সালাম (৫৬), রিপন হোসেন (৫০), আবুল কালাম আজাদ, প্রদীপ কুমার (ওসি), আবু আশ্রাফ (পুলিশ সুপার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০-১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি, ৩০ বছর (আবদুস সালামের ইজারা), ৫৬ ও ৫০ বছর (নিহতদের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!