📌 বিশ্বখ্যাত ভূরাজনৈতিক কৌশলবিদ পরাগ খান্না দাবি করেছেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি বলেছেন, সংঘাতের বিস্তার অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাত পরস্পর সম্পর্কিত। আবুধাবিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ২০৬৫ সালের অপেক্ষায় থাকা বরং ইতিহাসবিদদের জন্য বর্তমান সংঘাতের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হবে
বিশ্বখ্যাত ভূরাজনৈতিক কৌশলবিদ ও লেখক পরাগ খান্না দাবি করেছেন যে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ইতিহাসবিদদের জন্য ২০৬৫ সালের অপেক্ষায় থাকা নয়, বরং বর্তমান সংঘাতের বিস্তারই এই দাবির প্রমাণ। খান্না মন্তব্য করেছেন, বর্তমান সংঘাত শুধু সামরিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং সামরিক তৎপরতার মধ্যেও এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পরাগ খান্না দাবি করেছেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ইতিহাসবিদদের ২০৬৫ সালের অপেক্ষায় থাকা বরং বর্তমান সংঘাতের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হবে।
- 📌 তিনি বলেছেন, বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বর্তমান সংঘাতে জড়িত এবং বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাত পরস্পর সম্পর্কিত।
- 📌 ইউক্রেনের সংঘাত এবং উত্তর কোরিয়ার সেনাদের অংশগ্রহণ খান্না উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- 📌 আবুধাবিকে তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ফোরামের কেন্দ্র হিসেবে দেখছেন এবং আসিয়ানকে মডেল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- 📌 খান্না মনে করেন, ২০৫০ সালের অর্থনৈতিক অবস্থা দেখলে দেখা যাবে, এশিয়ার নিজস্ব অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে।
📰 বিস্তারিত
আবুধাবিতে ‘দ্য ন্যাশনাল’ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরাগ খান্না বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা ইতিমধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যেই রয়েছি।’ তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, বর্তমান সংঘাতের বিস্তার অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ, সামরিক তৎপরতা এবং অর্থনৈতিক প্রবাহ বিশ্লেষণ করলেই এই সংঘাতের আন্তঃসংযোগ বোঝা যায়।
খান্না বলেছেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের অংশগ্রহণ এই সংঘাতের আন্তঃসংযোগের একটি উদাহরণ। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি বর্তমানে ভিন্ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি পরিবর্তিত হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি সরে যাবে না, বরং সাইবার সক্ষমতা এবং ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রভাব বজায় রাখবে।
২০০০-এর দশকের পণ্যবাজারের উত্থান থেকে শুরু হওয়া একটি পরিবর্তন এখন অপরিবর্তনীয় হয়ে উঠেছে। খান্না মনে করেন, ২০৫০ সালের অর্থনৈতিক অবস্থা দেখলে দেখা যাবে যে, এশিয়ার নিজস্ব অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমানটা ইতিমধ্যে এশিয়ার।’
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ফোরামের প্রস্তাব নিয়ে তিনি বলেছেন, ২০২৭ সালের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো সীমান্তবিরোধ। তিনি মনে করেন, আপাতত স্থগিত থাকা সংঘাতগুলো আসলে বিলুপ্ত হয়নি এবং যে কোনো সময় আবার মাথাচাড়া দিতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি ইসরায়েল, ইরান, তুরস্ক, মিসর এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোকে নিয়ে একটি স্বতন্ত্র আঞ্চলিক নিরাপত্তা ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
"আমার মনে হয়, আমরা ইতিমধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যেই রয়েছি। ২০৬৫ সালের অপেক্ষা করতে চাই না, যখন ইতিহাসবিদেরা বলবেন, হ্যাঁ, ২০২০-এর দশকের মাঝামাঝি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আবুধাবি, উপসাগরীয় অঞ্চল, ইউক্রেন, উত্তর কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পরাগ খান্না
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০৬৫, ২০৫০, ২০২৭
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!