📌 কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার নিচে চলে এসেছে। ৩৫টি গ্রামে ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী, ৩৫১ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে। বন্যা ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মা নদীর পানি ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামে অন্তত ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি ১৩ দশমিক ০৫ মিটার — বিপদসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার
- 📌 গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি ৩ সেন্টিমিটার (গত সপ্তাহে দৈনিক গড় ১০-১২ সেন্টিমিটার)
- 📌 ৩৫টি গ্রামে ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী, ৩০ হাজার মানুষের বাসস্থান প্লাবিত
- 📌 ৩৫১ হেক্টর আবাদি জমি প্লাবিত, মরিচ ও কলা চাষিদের ক্ষতি সর্বাধিক
- 📌 ২৮টি সরকারি প্রাথমিক ও ৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকর্ম বন্ধ
- 📌 পানি ওঠায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, গবাদিপশু বিপদে
- 📌 চরাঞ্চলে বিষধর সাপের উপদ্রব, দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা দাবি
📰 বিস্তারিত
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হাইড্রোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ১৩ দশমিক ০৫ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। গত শুক্রবার সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০২ মিটার। এর অর্থ, গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৩ সেন্টিমিটার। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছিল।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে পদ্মায় দ্রুত পানি বেড়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে ৩ সেন্টিমিটারে নেমেছে। এই বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করা যায় না।’
পানি বৃদ্ধির ফলে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এবং ফিলিপনগর ইউনিয়নের পদ্মার চরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত। চিলমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান জানান, ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭টি প্লাবিত হয়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী। রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, তাঁর ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামের চারপাশে পানি থইথই করছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নে ৩৫১ হেক্টর আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মরিচ ও কলা চাষিদের। পানি বাড়তে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। বন্যার পানিতে ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকর্ম বন্ধ রয়েছে। তবে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়।
বন্যার পানিতে রান্নার স্থান ও নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা। রামকৃষ্ণপুরের বাসিন্দা আবু বিশ্বাস (৬৫) বলেন, ‘ঘরের ভেতরে কোমরসমান পানি। পরিবারের অন্যরা উঁচু জায়গায় গেলেও আমি মাচা বেঁধে কোনোমতে টিকে আছি।’
চর সোনাতলা এলাকার জুলেখা খাতুন বলেন, ‘রাস্তা ভেঙে বন্যার পানি বাড়ির ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রান্নাবান্না বন্ধ। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রান্না ও খাওয়া নিয়ে বিপাকে রয়েছি।’ শেমল মণ্ডল বলেন, ‘বন্যার পানিতে আমার ৫ বিঘা মরিচ ডুবে গেছে। চলাচলে বেশ সমস্যা হচ্ছে। বাড়ির বৃদ্ধরা ঘরবন্দী হয়ে রয়েছেন। একবার রান্না করে তিনবার খেতে হচ্ছে। এখন সাপের ভয়টাই বড় ভয়।’
"উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে পদ্মায় দ্রুত পানি বেড়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে ৩ সেন্টিমিটারে নেমেছে। এই বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।"
— পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা (রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর ইউনিয়ন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইলিয়াস হোসেন (প্রকৌশলী), আবদুল মান্নান (চেয়ারম্যান), সিরাজ মণ্ডল (চেয়ারম্যান), রেহেনা পারভীন (কৃষি কর্মকর্তা), আবু বিশ্বাস (বাসিন্দা), জুলেখা খাতুন (বাসিন্দা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ সেন্টিমিটার (পানি বৃদ্ধি), ৬০ হাজার (পানিবন্দী), ৩৫১ হেক্টর (প্লাবিত জমি), ২৮টি (প্রাথমিক বিদ্যালয়), ৩টি (মাধ্যমিক বিদ্যালয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!