📌 রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পানিবন্দী হয়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাসকারী ১৫টি চর। নদীভাঙনে শতাধিক বাড়িঘর ও মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র ভাঙনে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এই বিপর্যয়ে পানিবন্দী হয়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাসকারী ১৫টি চরাঞ্চলের ১ হাজার ২০০ পরিবার। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, নদীভাঙনে শতাধিক বাড়িঘর ও কয়েকটি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক পরিবার বসতবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন তিনটি স্কুল**: পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া ও চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
- 📌 **পানিবন্দী ২০ হাজার মানুষ**: ১৫টি চরাঞ্চলে বসবাসকারী ১ হাজার ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত
- 📌 **১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু পানির বৃদ্ধি**: তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শতাধিক বাড়িঘর ও মসজিদ
- 📌 **স্কুলের মালামাল সরানো হলেও বিলীন**: আতারপাড়া স্কুলের মালামাল ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে নদীতে চলে যায়
- 📌 **গবাদিপশু ও বাসিন্দাদের বিপদ**: পানি ঢুকে পড়েছে বসতবাড়িতে, গবাদিপশুও বিপদে পড়েছে
📰 বিস্তারিত
পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলে শুরু হয় নদীভাঙন। এতে চকরাজাপুর, কালিদাসখালী, লক্ষ্মীনগর, দাদপুর, নিচ পলাশি, পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া, চৌমাদিয়া ও দিয়ারকাদিরপুরসহ ১৫টি চরের প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সোলেমান মোল্লা বলেন, ‘পদ্মায় ক্রমাগত পানি বাড়ছে। মানুষের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।’
আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম জানান, ‘ভাঙতে ভাঙতে শেষ পর্যন্ত স্কুলটিও নদীগর্ভে চলে গেল। একদিন স্কুল ভালো দেখে গেলাম, পরদিন এসে দেখলাম স্কুল নেই। মালামাল সরিয়ে নিতে নিতেই বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়ে গেল।’ তিনি বলেন, আতারপাড়া স্কুলে ৮৫ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে বিদ্যালয়ের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, ‘বিদ্যালয়ে যাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। এ কারণে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে ৯১ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক রয়েছেন।’ চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর চৌমাদিয়া ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আবদুর রহমান জানান, নদীভাঙনে অনেক বাড়িঘর ও স্থাপনা বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
"আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানিবন্দী ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, ‘আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানিবন্দী ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাঘা উপজেলা, রাজশাহী; চকরাজাপুর ইউনিয়ন, পদ্মা নদী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শফিকুল ইসলাম (প্রধান শিক্ষক), সোহেল রানা (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক), সোলেমান মোল্লা (বাসিন্দা), আবদুর রহমান (সাবেক ইউনিয়ন সদস্য), তকী ফয়সাল তালুকদার (ইউএনও)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩টি স্কুল, ২০ হাজার মানুষ, ১৫টি চর, ১ হাজার ২০০ পরিবার, ৮৫ জন শিক্ষার্থী (আতারপাড়া), ৯১ জন শিক্ষার্থী (চৌমাদিয়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!