📌 মোহনগঞ্জের শৈলজারঞ্জন মজুমদার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও দুই বছর ধরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। অব্যবস্থাপনা ও সরঞ্জাম লুটের কারণে কেন্দ্রটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সরকারি প্রকল্পের দীর্ঘস্থায়ী অসুখ হিসেবে এর পুনরাবৃত্তি ঘটেছে
মোহনগঞ্জের শৈলজারঞ্জন মজুমদার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে সরকারি অর্থে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে ব্যয় হয়েছে ৩৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা, ভূমি অধিগ্রহণে ৫ কোটি টাকা এবং সংযোগ সড়কে প্রায় ১০ কোটি টাকা। কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের মার্চে। পরিকল্পনা ছিল রবীন্দ্রসংগীতের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা, বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও হাওরাঞ্চলের লোকসংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা এবং নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজন। কিন্তু গত দুই বছর ধরে কেন্দ্রটিতে কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন পরিচালিত হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শৈলজারঞ্জন মজুমদার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র দুই বছর ধরে অব্যবহৃত রয়েছে
- 📌 নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে ব্যয় হয়েছে ৩৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা, ভূমি অধিগ্রহণে ৫ কোটি টাকা এবং সংযোগ সড়কে প্রায় ১০ কোটি টাকা
- 📌 কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের মার্চে
- 📌 কেন্দ্রটির পরিচালনা কমিটিতে রয়েছেন ২১ সদস্য, কিন্তু গত তিন বছরে কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি
- 📌 কেন্দ্রটিতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন কর্মী, যেখানে পদসংখ্যা ৩৪টি
- 📌 কেন্দ্রটির নিজস্ব তহবিলে প্রায় এক কোটি টাকা থাকলেও সরঞ্জাম লুট ও অব্যবস্থাপনার কারণে কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে
📰 বিস্তারিত
মোহনগঞ্জের শৈলজারঞ্জন মজুমদার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে সরকারি অর্থে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। কেন্দ্রটির নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে ব্যয় হয়েছে ৩৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা, ভূমি অধিগ্রহণে ৫ কোটি টাকা এবং সংযোগ সড়কে প্রায় ১০ কোটি টাকা। কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের মার্চে। পরিকল্পনা ছিল রবীন্দ্রসংগীতের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা, বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও হাওরাঞ্চলের লোকসংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা এবং নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজন।
কিন্তু গত দুই বছর ধরে কেন্দ্রটিতে কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন পরিচালিত হয়নি। কেন্দ্রটির ফটকে তালা ঝুলছে। দীর্ঘদিন পরিচর্যা না হওয়ায় ভেতরের হাঁটার পথ ও খোলা জায়গা আগাছায় ঢেকে গেছে। গ্রন্থাগার ও মহড়াকক্ষের ছাদের কিছু অংশ ভেঙে গেছে। লিফট অকেজো হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রটিতে থাকা ৫টি এসি অকার্যকর রয়েছে, অন্তত ৫৩টি বাতি নষ্ট হয়ে গেছে। মিলনায়তনের অনেক সরঞ্জাম অনুপস্থিত।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্র থেকে পাখা, চেয়ার-টেবিল, সিসিটিভি ক্যামেরা, সাউন্ড বক্স, কম্পিউটার, বাদ্যযন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট হয়েছে। কেন্দ্রটিতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন কর্মী, যেখানে পদসংখ্যা ৩৪টি। কেন্দ্রটির পরিচালনা কমিটিতে রয়েছেন ২১ সদস্য, কিন্তু গত তিন বছরে কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। কেন্দ্রটির নিজস্ব তহবিলে প্রায় এক কোটি টাকা থাকলেও সরঞ্জাম লুট ও অব্যবস্থাপনার কারণে কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
"সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো একসময় অনাথ হয়ে পড়ে। প্রকল্পের সাফল্য তখন তার সামাজিক ফলাফলে নয়, ব্যয়ের অঙ্কেই সীমাবদ্ধ থাকে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শৈলজারঞ্জন মজুমদার
- 🔢 নির্মাণ ব্যয়: ৫০ কোটি টাকা
- 🔢 কর্মী সংখ্যা: ২ জন (৩৪টি পদ)
- 🔢 পরিচালনা কমিটির সদস্য: ২১ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!