📌 ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান চালালেও এক ঘণ্টার মধ্যে আবার হকাররা দোকান বসানোর প্রস্তুতি নেয়। প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেছেন, উচ্ছেদের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঢাকার মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান চালানোর পরও এক ঘণ্টার মধ্যে আবার হকাররা দোকান বসানোর প্রস্তুতি নেয়। বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) উচ্ছেদ অভিযান চালায়। প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে কয়েকশ’ দোকান সরিয়ে দেওয়া হলেও, অভিযান শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফুটপাত দখলমুক্ত করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে পড়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ডিএনসিসি ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান চালায়; কয়েকশ’ দোকান সরানো হয়
- 📌 অভিযান শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে আবার হকাররা দোকান বসানোর প্রস্তুতি নেয়; কেউ কেউ কাঠ, বাঁশ ও সরঞ্জাম নিয়ে আসেন
- 📌 মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেট কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে ফুটপাতে দোকান বসানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে
- 📌 দুপুর পৌনে ৩টায় ডিএনসিসির অঞ্চল-২-এর দল আবার অভিযান চালায়; কাঠ, বাঁশ ও ইটসহ সরঞ্জাম ট্রাকে তুলে নেয়
- 📌 প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সকল এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান চালানো হবে
- 📌 হকারদের জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ; বিক্রেতা জানান, বিকল্প স্থানে ক্রেতা কম যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন
- 📌 হযরত শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী রিপন খান বলেন, নির্দিষ্ট জায়গায় হকারদের বসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে
- 📌 ডিএনসিসির পরিদর্শক জহুরুল আলম সুজন জানান, উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে; নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই
📰 বিস্তারিত
বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান চালায়। প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে কয়েকশ’ দোকান সরিয়ে দেওয়া হলেও, অভিযান শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে আবার হকাররা দোকান বসানোর প্রস্তুতি নেয়। কেউ কেউ দোকান সাজানোর জন্য কাঠ, বাঁশ ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে আসেন।
মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেট কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে ফুটপাতে দোকান বসানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং ব্যবসায়ীদের দ্রুত সরে যেতে নির্দেশ দেয়। পরে দুপুর পৌনে ৩টার দিকে ডিএনসিসির অঞ্চল-২-এর একটি দল এসে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা কাঠ, বাঁশ, ইটসহ দোকান বসানোর বিভিন্ন সরঞ্জাম ট্রাকে তুলে নেয়। কয়েকটি দোকান সরিয়ে দেওয়া হয় এবং অন্য হকাররা নিজেরাই দোকান গুটিয়ে নেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করেন।
ডিএনসিসির অঞ্চল-২-এর পরিদর্শক জহুরুল আলম সুজন জানান, উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। তিনি বলেন, যেকোনো সময় অভিযান পরিচালনা করা হবে। এছাড়া আরও দুটি দল মাঠে রয়েছে, যারা বিভিন্ন সময়ে এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।
সকালের অভিযান শেষে প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, শুধু মিরপুর নয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের যেসব এলাকায় ফুটপাত দখল হয়ে মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে, সেসব জায়গায়ও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। তিনি বলেন, নগরবাসীর হাঁটার পথ তাদের ফিরিয়ে দেওয়া প্রশাসক হিসেবে তার নৈতিক দায়িত্ব। দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়তে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
হকারদের জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রসাধনসামগ্রী বিক্রেতা জানান, মার্কেটের সামনে ফুটপাতে তার দোকান ছিল। উচ্ছেদের পর এক-দুই মাসও বসতে না পারলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। বিকল্প স্থানে পুনর্বাসনের বিষয়ে তার আপত্তি হলো, সেখানে ক্রেতা কম যেতে পারেন। মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা মানুষ সামনে দোকান দেখেই অনেক সময় পণ্য কেনেন। অন্যদিকে হযরত শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী রিপন খান বলেন, হকারদের এক জায়গা থেকে সরিয়ে দিলে তারা অন্য জায়গায় বসেন। তার মতে, নির্দিষ্ট জায়গায় তাদের বসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার জন্য নিয়মিত নজরদারি জরুরি।
"শুধু মিরপুর নয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সকল এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান চালানো হবে। নগরবাসীর হাঁটার পথ তাদের ফিরিয়ে দেওয়া প্রশাসক হিসেবে আমার নৈতিক দায়িত্ব"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরপুর-১ নম্বর, ঢাকা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, পরিদর্শক জহুরুল আলম সুজন, বিক্রেতা, ব্যবসায়ী রিপন খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১টা (অভিযানের শুরু), ১টা (অভিযানের শেষ), ৩টা (পৌনে, দ্বিতীয় অভিযান), ১ নম্বর (মিরপুর এলাকা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!