📌 মহারাষ্ট্রের বীড জেলার আখ কাটার শ্রমিক নারীদের মধ্যে জরায়ু অপসারণের হার বেড়েছে। দৈনিক ১৪ ঘণ্টা কাজের চাপে ঋতুস্রাবের সময় ছুটি না পেলে অনেকেই অস্ত্রোপচার করিয়ে নিচ্ছেন। সরকারি জরিপে দেখা যায়, ৮২ হাজার ৩০৯ জন নারীর মধ্যে ১৩ হাজার ৮৬১ জনের জরায়ু অপসারণ করা হয়েছে
মহারাষ্ট্রের বীড জেলার আখ কাটার শ্রমিক নারীদের মধ্যে জরায়ু হারানোর বিপদ ক্রমাগত বাড়ছে। দিনে ১৪ ঘণ্টা কাজের চাপে এবং ঋতুস্রাবের সময় ছুটি না পেলে অনেক নারী জরায়ু অপসারণের মতো অস্ত্রোপচার করিয়ে নিচ্ছেন। এই বিপদজনক অবস্থার পেছনে রয়েছে শ্রমিকদের নিম্ন মজুরি, অস্থায়ী শিবিরে স্বাস্থ্যসেবার অভাব এবং ঠিকাদারদের অত্যাচার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৫ লাখেরও বেশি শ্রমিক** আখ কাটার কাজে জড়িত, এর মধ্যে **১৩ হাজার ৮৬১ জন নারী** জরায়ু অপসারণের শিকার হয়েছে
- 📌 **দৈনিক ৪০০ রুপি মজুরি** পেলেও শ্রমিকদের **১৪ ঘণ্টা কাজ** করতে হয়, ঋতুস্রাবের সময় ছুটি না পেলে অস্ত্রোপচার করিয়ে নিচ্ছেন
- 📌 **৫০০ কিলোমিটার দূর থেকে** মহারাষ্ট্রের বীড জেলার বাসিন্দা নারীরা আখ কাটার কাজে আসেন, নিজ এলাকায় কাজের সুযোগ না থাকায় বাধ্য হন
- 📌 **ঠিকাদারদের চাপে** কাজ থেকে ছুটি নিলে মজুরি কেটে নেওয়া হয়, ফলে অনেক নারী জরায়ু অপসারণের মতো অস্ত্রোপচার করিয়ে নিচ্ছেন
- 📌 **২০১৯ সালের সরকারি জরিপে** দেখা যায়, **৪৫ শতাংশেরও বেশি নারী** অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন
📰 বিস্তারিত
মহারাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় বীড জেলায় আখ কাটার শ্রমিক নারীদের জীবন বিপদে পড়েছে। পূর্ণিমা নামের একজন শ্রমিক বলেছেন, তিনি নিজ গ্রাম থেকে **৫০০ কিলোমিটার দূর থেকে** এসেছেন আখ কাটার কাজে। তিনি এবং অন্য **১৫ লাখেরও বেশি শ্রমিক** দিনে **১৪ ঘণ্টা কাজ** করে মাত্র **৪০০ রুপি** পান। কাজের চাপে ঋতুস্রাবের সময় ছুটি নেওয়ার সুযোগ না থাকায় অনেক নারী জরায়ু অপসারণের মতো অস্ত্রোপচার করিয়ে নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্যকর্মী সংগীতা চাভান বলেছেন, নারীদের সরকারি হাসপাতালে পাঠানোর পরিবর্তে কখনো কখনো অপেশাদার চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়, যেখানে যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই অস্ত্রোপচার করা হয়। ফলে অনেক নারী অস্ত্রোপচারের পরও জটিলতা ভোগছেন। সরকারি উদ্যোগ ‘আশা’ কর্মীদের মাধ্যমে নারীদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হলেও, অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের পরেও সমস্যা অব্যাহত থাকে।
ঠিকাদারদের বলা হয়, তারা কোনো নারীকে বাধ্য করেন না, কিন্তু কাজ থেকে ছুটি নিলে মজুরি দেওয়া হয় না। কারণ, শ্রমিক কম থাকলে আখ তোলার পরিমাণ কমে যায়। ফলে পরবর্তী মৌসুমে চিনিকলগুলো শ্রমিকদের আর কাজ দিতে চায় না।
"আমি অস্ত্রোপচারের পরও রক্তপাত ও ব্যথায় ভুগছি। অস্ত্রোপচারের প্রতিবেদন চাইলে তা দেওয়া হয়নি।"
— **সবিতা** (জরায়ু অপসারণের শিকার)
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মহারাষ্ট্রের বীড জেলা, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পূর্ণিমা, সংগীতা চাভান, গঙ্গা শেভান্তে, সবিতা, ঠিকাদাররা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ লাখ শ্রমিক, ১৩ হাজার ৮৬১ জন জরায়ু অপসারণের শিকার, ৮২ হাজার ৩০৯ জন নারী জরিপে অংশগ্রহণ, ৪৫ শতাংশ নারী শারীরিক ও মানসিক সমস্যায়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!