📌 মাদারীপুরের বাহেরান্দী এলাকায় মসজিদ কমিটির সভাপতি দাবিতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৫টি বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়। ৩০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও ক্ষতিগ্রস্তরা পক্ষপাতের অভিযোগ করছেন।
মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দী এলাকায় মসজিদ কমিটির সভাপতি দাবিতে সংঘর্ষে বুধবার সকালে তাণ্ডব চালানো হয়। সংঘর্ষে অন্তত ৫টি বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয় এবং প্রায় ৩০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, বাহেরান্দী জামে মসজিদের কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মোশারফ ফকিরকে মনোনীত করা হয়। কিন্তু স্থানীয় বাচ্চু মোড়ল নিজেকে সভাপতি দাবি করে বিরোধের জন্ম দেয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহেরান্দী এলাকায় মসজিদ কমিটির সভাপতি দাবিতে সংঘর্ষে ৫টি বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়
- 📌 প্রায় ৩০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে, সংঘর্ষে দুই ঘণ্টা ধরে চলমান ছিল
- 📌 ক্ষতিগ্রস্ত তামিম মাতুব্বর পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করেন, বলেন: ‘বাচ্চু মোড়লের লোকজন আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালায়’
- 📌 বাচ্চু মোড়ল দাবি করেন, এমদাদ মাতুব্বরের লোকজন নিজেরা মারামারি করে দায় চাপাচ্ছে
- 📌 মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তারের কাজ শুরু করেছে
📰 বিস্তারিত
মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দী এলাকায় মসজিদ কমিটির সভাপতি দাবিতে সংঘর্ষে বুধবার সকালে তাণ্ডব চালানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে বাহেরান্দী জামে মসজিদের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মোশারফ ফকিরকে মনোনীত করা হয়। কিন্তু স্থানীয় বাচ্চু মোড়ল নিজেকে সভাপতি দাবি করে বিরোধের জন্ম দেয়। নিজেকে সভাপতি দাবি করে তিনি বিরোধে জড়ান। এরই ধারাবাহিকতায় বাচ্চু মোড়লের কর্মী-সমর্থকদেরা শতাধিক লোক নিয়ে এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংঘর্ষে অন্তত ৫টি বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয় এবং প্রায় ৩০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় সদর থানা পুলিশ। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত তামিম মাতুব্বর পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশ তাদের পক্ষ নিয়ে আমাদের বাড়িঘর থেকে বের করে দেয়। এরপর বাচ্চু মোড়লের লোকজন আমাদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।’
বাচ্চু মোড়ল দাবি করেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন এমদাদ ও তাঁর লোকজন। তিনি বলেন, ‘তাঁরা নিজেরা মারামারি করে আমার ওপর দায় চাপাচ্ছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’ এমদাদ মাতুব্বর বলেন, ‘বাচ্চু মোড়লের লোকজন আজ যে তাণ্ডব চালাল, তারপরও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে দুই পক্ষ প্রায়ই সংঘর্ষে জড়ায়। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের সংঘর্ষের আগেও গত সোমবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তখনও কয়েকটি ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পুলিশ দুই পক্ষকে বারবার শান্ত থাকার অনুরোধ করেছে।’ ওসি বলেন, ‘পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ সম্পর্কে আমি বলতে চাই, সবাই আধিপত্য বিস্তার করতে চান। তাঁদের কথা না শুনলেই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়।’
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা পক্ষপাতের অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"পুলিশ তাদের পক্ষ নিয়ে আমাদের বাড়িঘর থেকে বের করে দেয়। এরপর বাচ্চু মোড়লের লোকজন আমাদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাহেরান্দী, ঘটমাঝি ইউনিয়ন, মাদারীপুর সদর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাচ্চু মোড়ল, এমদাদ মাতুব্বর, তামিম মাতুব্বর, আবুল কালাম আজাদ (ওসি), জাহাঙ্গীর আলম (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫টি বাড়িঘরে আগুন, ৩০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!