📌 কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের বাজার নামের বিরোধে এক মাসে পুড়ে যাওয়া শতাধিক বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। শতাধিক পরিবার ঘরছাড়া, ব্যবসা বন্ধ, লুটপাটের ঘটনা ঘটছে
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের বাজার নামের বিরোধে এক মাস ধরে সংঘর্ষ চলছে। এই বিরোধের জেরে এক মাস আগে আকবরনগর গ্রামের নয়াহাটি এলাকায় শতাধিক পরিবারের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৩০ আগস্ট আবার নতুন করে আগুন লাগানো হয় পোড়া বাড়িগুলোতে। এতে আরও কয়েকটি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **বাজার নামের বিরোধে এক মাসে পুড়ে যাওয়া শতাধিক বাড়ি** — আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের বাজার নামের বিরোধে এক মাস আগে শতাধিক বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৩০ আগস্ট আবার নতুন করে আগুন লাগানো হয়।
- 📌 **শতাধিক পরিবার ঘরছাড়া** — আকবরনগর গ্রামের নয়াহাটি এলাকায় শতাধিক পরিবারের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে অনেকের বাড়ি এখনো সংস্কার হয়নি।
- 📌 **ব্যবসা বন্ধ ও লুটপাট** — বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। গোলাপ মিষ্টান্ন ও মায়ের দোয়া অটোরিকশা গ্যারেজসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- 📌 **ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থনৈতিক ক্ষতি** — মায়ের দোয়া অটোরিকশা গ্যারেজের মালিক খোকন মিয়া বলেন, তাঁর প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
- 📌 **বাজারের অর্থনৈতিক অবনতি** — বাজারের বন্ধ দোকানগুলো আর খোলেনি। বাজারের সবচেয়ে পুরোনো দোকান গোলাপ মিষ্টান্নেরও লুটপাট হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের বাজার নামের বিরোধে এক মাস ধরে সংঘর্ষ চলছে। এই বিরোধের জেরে এক মাস আগে আকবরনগর গ্রামের নয়াহাটি এলাকায় শতাধিক পরিবারের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৩০ আগস্ট আবার নতুন করে আগুন লাগানো হয় পোড়া বাড়িগুলোতে। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি পোড়া বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়। নতুন করে আগুনে পুড়েছে মিরারচর গ্রামের কয়েকটি ঘরও।
এই সংঘর্ষে আকবরনগর গ্রামের নয়াহাটি পাড়ায় প্রায় কোনো ঘরই অক্ষত নেই। কোনো বাড়িতে শুধু সিমেন্টের খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে, কোনো বাড়িতে ভিটি ছাড়া কিছু নেই। গাছপালাতেও আগুনের চিহ্ন রয়েছে। আকবরনগর গ্রামের নয়াহাটি এলাকার মিজান মিয়ার ছেলে রোহান (১২) বলেন, ‘আমরার পোড়া ঘর আবার পুড়ছে।’ তার বন্ধু হুসাইন বলছিলেন, ‘মনে হয় আবার পুড়ব।’ আরেক বন্ধু তারেক রোহানের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘তোরা থাকলে তোদেরও পুড়িয়ে ফেলব।’
প্রথম দফার সংঘর্ষে আকবরনগরের নয়াহাটির শতাধিক মানুষ ঘর হারিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই অন্যত্র বসতি গড়েছেন। এক মাস পরও তাঁরা নিজেদের ঘরে ফিরতে পারেননি। পোড়া ঘর এখনো সংস্কার হয়নি। যাঁদের ঘর পুড়েছে, তাঁদের অনেকেই আয় হারিয়েছেন। কেউ ঢাকায় গিয়ে রিকশা চালাচ্ছেন, কেউ নিজের ব্যবসা ছেড়ে অন্যের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন।
বাজারের অর্থনৈতিক অবস্থাও খারাপ। বাজারের সবচেয়ে পুরোনো দোকান গোলাপ মিষ্টান্নেরও লুটপাট হয়েছে। দোকানের মালিক মানিক মিয়ার বোন রুনা আক্তার বলেন, ‘বাজারটির যেমন নামডাক, গোলাপ মিষ্টান্নেরও তেমন নামডাক। সব শেষ করে দিল।’ বাজারে খোলা থাকা অল্প কয়েকটি দোকানের একটি আল্লাহর দান ভ্যারাইটিজ স্টোর। দোকানটির কর্মচারী মো. রাজ বলেন, ‘এক মাস ধরে ব্যবসা নেই। কোনো দিন দোকান খোলেন, কোনো দিন খোলেন না। ভয় লাগে।’
মিরারচর গ্রামের মায়ের দোয়া অটোরিকশা গ্যারেজের মালিক খোকন মিয়া বলেন, ‘তাঁর ১২টি অটোরিকশা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অনেক ব্যাটারিও নিয়ে গেছে। ভাঙচুর করা হয়েছে গ্যারেজ। সব মিলিয়ে তাঁর প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
"আমরার পোড়া ঘর আবার পুড়ছে। মনে হয় আবার পুড়ব।"
"বাজারটির যেমন নামডাক, গোলাপ মিষ্টান্নেরও তেমন নামডাক। সব শেষ করে দিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আকবরনগর ও মিরারচর গ্রাম, ভৈরব উপজেলা, কিশোরগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিজান মিয়া, রোহান (১২), হুসাইন, তারেক, খোকন মিয়া, রুনা আক্তার, মো. রাজ, জাহের মিয়া, জসিম উদ্দিন, লিটন মিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ (বয়স), ১০ (চা ও শিঙাড়ার দোকান), ৮ (আকবরনগর বা মিরারচরের দোকান), ৪০ (লাখ টাকা), ১২ (অটোরিকশা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!