📌 হাতীবান্ধা উপজেলায় সার বিতরণে অনিয়ম ও কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে ক্ষুব্ধ কৃষকরা লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে। প্রশাসনের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও সার সরবরাহের দাবি ত্যাগ করেননি তারা
হাতীবান্ধা উপজেলায় সার সরবরাহে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে ক্ষুব্ধ কৃষকরা লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে দিয়েছেন। সার ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারে সার বিক্রি ও গোপনে স্বজনদের কাছে বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। অবরোধে মহাসড়ক চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং শত শত যান আটকা পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হাতীবান্ধা উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পারুলিয়া বাজারে সার বিতরণে অনিয়মের কারণে কৃষকরা ঘণ্টাব্যাপী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
- 📌 মেসার্স মুন্না ট্রেডার্স প্রতিষ্ঠানের মালিক বগুড়া জেলার বাসিন্দা হলেও স্থানীয় জাদু মেম্বার ও ভুট্টু নামের দুই ব্যক্তি সার বিতরণের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কালোবাজারে সার বিক্রি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 ডিলারের লোকজন গভীর রাতে নিজেদের পছন্দের লোকদের ১০ থেকে ১২ বস্তা সার বিতরণ করছেন, সাধারণ কৃষকরা দিনের পর দিন সার পাচ্ছেন না।
- 📌 ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিলেও সার পাওয়ার অভাবের কারণে কৃষকরা অবরোধে নেমেছেন।
- 📌 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্বীপ জন মিত্র ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রশাসনের আশ্বাস দিয়েছেন। অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও সার সরবরাহের দাবি ত্যাগ করেননি কৃষকরা।
📰 বিস্তারিত
হাতীবান্ধা উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পারুলিয়া বাজার এলাকায় সার বিতরণে অনিয়মের কারণে কৃষকরা মঙ্গলবার সকালে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সার বিক্রির দায়িত্বে থাকা মেসার্স মুন্না ট্রেডার্স প্রতিষ্ঠানের মালিক বগুড়া জেলার বাসিন্দা হলেও স্থানীয় জাদু মেম্বার ও ভুট্টু নামের দুই ব্যক্তি সার বিতরণের দায়িত্বে রয়েছে। তারা গোপনে সার কালোবাজারে বিক্রি করছেন এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সার বিতরণ করছেন।
তিস্তাচরাঞ্চলের কৃষক মমিনুর ইসলাম বলেন, ‘সারের জন্য দিনের পর দিন ঘুরেও ন্যায্য দামে সার মিলছে না। ডিলাররা গোপনে সার কালোবাজারে বিক্রি করছে। দাম বেশি দিলে সার মেলে। সার পেতে বেশ হয়রানি হতে হচ্ছে। সার বিতরণে অনিয়ম বন্ধ করে প্রকৃত কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’
পাটিকাপাড়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক একরামুল বলেন, ‘যে সময়ে সারের প্রয়োজন, সেই সময়ে যদি সার না পাই, তাহলে কৃষক ও তাঁদের পরিবার কীভাবে বাঁচবে? প্রয়োজনে খোলাবাজারে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিয়েও সার কিনতে রাজি আছি। তবু যেন সঠিকভাবে চাষাবাদ করতে পারি।’
আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘ভুট্টার আগাম চাষের মৌসুমে সময়মতো সার না পেলে কীভাবে চাষাবাদ করব? সার ছাড়া জমিতে ঠিকমতো আবাদ করা যায় না। সময়মতো সার দিতে না পারলে ফসল লাল হয়ে যায়, ফলনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের সারা বছর সংসার চলে ভুট্টা চাষের আয়ের ওপর। এই ফসলের ওপর নির্ভর করেই পরিবারের ভরণপোষণ করতে হয়। তাই সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেছেন, ‘বিতরণের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। তবে বিতরণ সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় দিতে হবে। প্রয়োজনে আমরা আগামী মাসের বরাদ্দের সার দিতে পারব। বর্তমানে ছয়টি ওয়ার্ডে সার বিতরণ করা হচ্ছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সার বিতরণ শেষ হবে। কালোবাজারে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্বীপ জন মিত্র বলেন, ‘কৃষক ভাইদের আমরা ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়েছি। আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ সার আছে। সার কার্ড যেসব কৃষক ভাইদের কাছে আছে, তাঁরা সবাই সার পাবেন। এ বিষয়ে দুশ্চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। তাঁরা আমাদের কথাগুলো শুনে অবরোধ তুলে নিয়েছেন এবং কার্ডগুলো আমাদের দিয়েছেন। পরবর্তীতে কার্ডের মাধ্যমে সার বিতরণের চেষ্টা করব।’
"যে সময়ে সারের প্রয়োজন, সেই সময়ে যদি সার না পাই, তাহলে কৃষক ও তাঁদের পরিবার কীভাবে বাঁচবে? প্রয়োজনে খোলাবাজারে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিয়েও সার কিনতে রাজি আছি। তবু যেন সঠিকভাবে চাষাবাদ করতে পারি।"
"সারের জন্য দিনের পর দিন ঘুরেও ন্যায্য দামে সার মিলছে না। ডিলাররা গোপনে সার কালোবাজারে বিক্রি করছে। দাম বেশি দিলে সার মেলে। সার পেতে বেশ হয়রানি হতে হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হাতীবান্ধা উপজেলা, লালমনিরহাট, পারুলিয়া বাজার, পাটিকাপাড়া ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দ্বীপ জন মিত্র (ইউএনও), হারুন অর রশিদ (কৃষি কর্মকর্তা), মমিনুর ইসলাম, একরামুল, আজিজুল ইসলাম, জাদু মেম্বার, ভুট্টু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০-১২ বস্তা সার, ১০০-২০০ টাকা, ১ নম্বর ওয়ার্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!