📌 ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় এক মিনিটের তীব্র ঝড়ে অর্ধশতাধিক বাড়ি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৩ জন আহত হন, যার মধ্যে একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। প্রশাসন পরিদর্শন করে সহায়তা আশ্বাস দেয়
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশতাধিক বাড়ি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এক মিনিটের তীব্র ঝড়ে গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শফিকুল ইসলামসহ বহু পরিবার। এলাকাবাসীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টায় ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় এক মিনিটের ঝড়ে অর্ধশতাধিক বাড়ি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
- 📌 গোরকপুর উত্তরপাড়া এলাকায় শফিকুল ইসলামের বাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। তার টিনের চালা ১০০ গজ দূরে উড়ে যায়।
- 📌 পশ্চিম পাবিয়াজুরী এলাকায় রুবেল নামের একজন বাসিন্দা ঘরের ভাঙা খুঁটির নিচে চাপা পড়ে আহত হন।
- 📌 গোরকপুর বাজারে হেলাল উদ্দিনের দোকানও ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়। আজি রহমানের বাড়ি ও গোয়ালঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তার দুই ছেলেও আহত হন।
- 📌 ৩টি ট্রান্সফরমার ও বেশ কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
- 📌 ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল দাবি করেন, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ টাকা।
- 📌 বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে সহায়তা আশ্বাস দেয়।
📰 বিস্তারিত
রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের পশ্চিম পাবিয়াজুরী ও গোরকপুর এলাকায় এবং শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মরিচপুরান ও মাথাফাটা এলাকায় আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশতাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ে গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়রা জানান, ঝড়ের সময় আকাশে বিদ্যুৎ চমকাতে দেখা যায়। এরপর শুরু হয় ঝোড়ো বাতাস ও বজ্রপাত। একপর্যায়ে প্রায় এক মিনিটের তীব্র ঝড়ে ছোট-বড় গাছ উপড়ে পড়ে।
গোরকপুর উত্তরপাড়া এলাকায় বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের বাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঝড়ে তার বাড়ির টিনের চালা উড়ে যায় এবং অন্তত ১০০ গজ দূরে পড়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেল। ঘরের চালা উড়ে গিয়ে অন্তত ১০০ গজ দূরে পড়ে আছে। বিদ্যুতের মিটারও এখনো খুঁজে পাইনি।’
পশ্চিম পাবিয়াজুরী এলাকায় রুবেল নামের একজন বাসিন্দা ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ ঝড়ে তার ঘরের চাল উড়ে যায়। এ সময় ঘরের ভাঙা খুঁটির নিচে চাপা পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁর স্ত্রী রেনুয়ারা জানান, রুবেলকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গোরকপুর বাজারে হেলাল উদ্দিনের দোকানও ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়। পশ্চিম পাবিয়াজুরী এলাকার বাসিন্দা আজি রহমানের বাড়ি ও গোয়ালঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার ঘরের চারটি চালা নষ্ট হয় এবং গোয়ালঘরে থাকা একটি গরুর পা কেটে যায়। এ ঘটনায় তার দুই ছেলেও আহত হন।
গোরকপুর উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিদ্যালয় চত্বরে বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়ে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভোরের ঝড়ে বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
"আমি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। অনেক কষ্ট করে নতুন ভিটায় নতুন ঘর করেছিলাম। কিন্তু মাত্র এক মিনিটের ঝড়ে আমার সব শেষ হয়ে গেল।"
গোরকপুর এলাকায় তিনটি ট্রান্সফরমার ও বেশ কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ঝড়ের পর থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে পড়া পরিবারগুলো আরও দুর্ভোগে পড়েছে। ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল দাবি করেন, ‘মুহূর্তের মধ্যেই অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে, গাছপালা উপড়ে গেছে, তাঁতের ক্ষতি হয়েছে। আমরা দ্রুত প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করি।’
ঝড়ের খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেলের একটি প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে। ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের পক্ষ থেকেও একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলের সদস্য ক্বারী আলমাছ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের নেতা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের ভাইয়ের নির্দেশে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা (ধুরাইল ইউনিয়ন, পশ্চিম পাবিয়াজুরী, গোরকপুর, উত্তরপাড়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শফিকুল ইসলাম (দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী), রুবেল, রেনুয়া, হেলাল উদ্দিন, আজি রহমান, মোস্তফা কামাল, সালমান ওমর, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ সেপ্টেম্বর, ৪:৩০ টা, ১১:০০ টা, ১০০ গজ, ৫ নম্বর ওয়ার্ড, ৩টি ট্রান্সফরমার, ১৪ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!