📌 দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ মাঠের উন্মুক্তকরণের দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও রেলপথে অবস্থান করে। এক বছর ধরে মাঠে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় এক হাজার মানুষ। জেলা প্রশাসক জানান, আগে স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী গোর-এ-শহীদ মাঠের উন্মুক্তকরণের দাবিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয়রা ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও রেলপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। এক বছর ধরে মাঠে খেলাধুলা ও সামাজিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রায় এক হাজার নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেছেন এই আন্দোলনে। কর্মসূচিটি শুরু হয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এবং শেষ হয় পৌরসভার পাশের রেললাইনে অবস্থান নেয়া দিয়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৮ অক্টোবর দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ মাঠের উন্মুক্তকরণের দাবিতে প্রায় এক হাজার মানুষের মানববন্ধন ও রেলপথে অবস্থান
- 📌 কর্মসূচিতে অংশ নেন খেলোয়াড়, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ
- 📌 ব্যানারে লেখা ছিল: 'গোর-এ-শহীদ মাঠ দিনাজপুরবাসীকে ফিরিয়ে দাও', 'ক্রিকেট খেলার মাঠ অবিলম্বে উন্মুক্ত করতে হবে'
- 📌 জেলা প্রশাসক জানান, বিগত স্মারকলিপি যথাযথ কর্তৃপক্ষে পাঠানো হয়েছে কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি
- 📌 বক্তারা দাবি, মাঠটি উন্মুক্ত না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী গোর-এ-শহীদ মাঠের উন্মুক্তকরণের দাবিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শুরু হয়। কর্মসূচির সঞ্চালনা করেন দিনাজপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রেহাতুল ইসলাম। বড় মাঠ রক্ষা কমিটির নেতা গোলাম নবী দুলাল সভাপতিত্ব করেন। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন দিনাজপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি খালেকুজ্জামান ও আকতারুজ্জামান জুয়েল, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মেহেরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, জেলা নাট্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রহমান এবং জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য স্বাধীন সরকার।
বক্তারা মাঠের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, এই মাঠে ঈদের জামাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন উৎসব, খেলাধুলা, বাণিজ্য মেলা, বিজ্ঞান মেলা, রাজনৈতিক সভা ও ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন হয়। ডায়াবেটিসের রোগীসহ সাধারণ মানুষও মাঠটি ব্যবহার করেন। বড় মাঠ রক্ষা কমিটির নেতা রেহাতুল ইসলাম বলেন, শত বছরের ঐতিহ্যের সাক্ষী এই মাঠ ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের মেলবন্ধন। মাঠের মালিকানা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু খেলাধুলা বন্ধ করা যাবে না।
দিনাজপুর জেলা ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় জাকারিয়া বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়ও এই মাঠে অনুশীলন করতেন। এখন খেলাধুলা বন্ধ। আমরা বলছি, মাঠের মালিকানা নিয়ে নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিন, কিন্তু মাঠে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা দিনাজপুরবাসী মেনে নেবে না।’
"এই মাঠ খেলাধুলা ও সবার জন্য উন্মুক্ত চাই। আমি কিশোর, আমি বড় মাঠে খেলতে চাই"
বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর ধরে মাঠে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত মাঠটি উন্মুক্ত না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্যাম্প করেছিল। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে স্থানীয়রা আগের ন্যায় মাঠ ব্যবহারের দাবিতে মানববন্ধন করে। আজকের কর্মসূচিতে স্মারকলিপি দেয়া হয়নি, তবে আগে স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে এবং সেটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গোর-এ-শহীদ মাঠ, দিনাজপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রেহাতুল ইসলাম, গোলাম নবী দুলাল, সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন, জাকারিয়া, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০০+ (অংশগ্রহণকারী), ১১:০০ (মানববন্ধনের সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!