📌 চট্টগ্রামে ৩ নম্বর রুটের মিনিবাসগুলো ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে চলাচল স্থগিত করেছে পরিবহন মালিকরা। ফলে যাত্রীদের বিকল্প যানে যেতে হচ্ছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। গ্যাস সংকট ও প্রশাসনের অভিযানের কারণে পরিবহন খাতেও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে
চট্টগ্রামের নিউমার্কেট থেকে মুরাদপুর হয়ে চলাচলকারী ৩ নম্বর রুটের মিনিবাসগুলো ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চলাচল স্থগিত করেছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা। ফলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও যাত্রীরা মিনিবাস পাচ্ছেন না। বিকল্প যানে যেতে গিয়ে তাঁদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের ৩ নম্বর রুটের মিনিবাসগুলো ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চলাচল স্থগিত
- 📌 যাত্রীদের বিকল্প যানে যেতে হচ্ছে, অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে ১৭০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত
- 📌 গ্যাস সংকট ও প্রশাসনের অভিযানের কারণে পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে
- 📌 পরিবহন মালিকদের দাবি, গ্যাস ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষা ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ভাড়া সমন্বয়ের প্রয়োজন
- 📌 বিআরটিএ জানিয়েছে, গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি রয়েছে
📰 বিস্তারিত
মোহাম্মদ টিপু নামের এক যাত্রী বৃহস্পতিবার সকালে নিউমার্কেট থেকে মুরাদপুর যাওয়ার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও কোনো মিনিবাস পাননি। শেষ পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। এতে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে ১৭০ টাকা বেশি খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যেখানে ১০ টাকা ভাড়া দিয়ে যেতে পারতাম, সেখানে বাড়তি ১৭০ টাকা খরচ হলো।’
অপর এক যাত্রী মোহাম্মদ মোশাররফ আতুরার ডিপো থেকে ৩ নম্বর রুটের একটি মিনিবাসে ওঠেন। কিন্তু মুরাদপুরে পৌঁছানোর পর তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ভেঙে ভেঙে যেতে হয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর ভাড়া হয়েছে ২০ টাকা, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ১৩ টাকা বেশি। তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে আতুরার ডিপো থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত যেতে ৭ টাকা ভাড়া লাগে।’
পরিবহন মালিকদের দাবি, গ্যাসচালিত গণপরিবহনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘২০১১ সালের পর এই ধরনের গাড়ির ভাড়ার নতুন তালিকা হয়নি। ফলে বিভিন্ন রুটে ভাড়া আদায় নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাসচালিত হিউম্যান হলারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা না থাকায় চালক ও সহকারীরা নিজেদের মতো ভাড়া আদায় করছেন।’
গ্যাস সংকটের কারণে পরিবহন খাতের ব্যয় বেড়েছে বলে দাবি করেন শাহজাহান। তিনি বলেন, ‘ফিলিং স্টেশনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে চালকদের সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।’ তিনি গণপরিবহনকে গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান।
অভিযানের কারণে অনেক মালিক গাড়ি বের করেননি বলে অভিযোগ করেন শাহজাহান। তিনি বলেন, ‘বুধবার অভিযানে ফিটনেস থাকা গাড়িকেও ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে।’
‘ভাড়ার তালিকা না থাকায় বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। বিআরটিএর উচিত গ্যাসের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে ভাড়া নির্ধারণ করা এবং সেই তালিকা প্রতিটি গাড়িতে দৃশ্যমান রাখা।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম, নিউমার্কেট, মুরাদপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ টিপু, মোহাম্মদ মোশাররফ, মোহাম্মদ শাহজাহান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ (রুট), ১৭০ টাকা (অতিরিক্ত ভাড়া), ২০ টাকা (ভাড়া বৃদ্ধি), ৭ টাকা (স্বাভাবিক ভাড়া), ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা (জরিমানা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!