📌 বগুড়ার মোকামতলা উপজেলায় খাদ্য বান্ধব কার্ডধারীরা চাল পাননি। কার্ড নিয়ে একাধিকবার ঘুরেও চাল না পাওয়ায় কিছু কার্ডধারীদের ৩০ কেজি চালের বদলে ৪৫০ টাকা দেওয়া হয়। ডিলারদের দাবি, সব কার্ডধারীর চাল গুদামে পৌঁছেছে, কিন্তু বঞ্চিতদের কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি
বগুড়ার মোকামতলা উপজেলায় খাদ্য বান্ধব কার্ডধারীরা নতুন কার্ড পেলেও চাল পাননি। কার্ড নিয়ে একাধিকবার ঘুরেও চাল না পাওয়ায় অনেক কার্ডধারীরা বঞ্চিত হয়ে পড়েছেন। কিছু কার্ডধারীদের ৩০ কেজি চালের বদলে ৪৫০ টাকা দেওয়া হয়েছে, যা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নিয়মের বাইরে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মোকামতলা উপজেলায় ৭৬৩ জন কার্ডধারীর মধ্যে ২৬২ জন নতুন কার্ডধারী চাল পাননি
- 📌 ৩০ কেজি চালের বদলে ৪৫০ টাকা দেওয়া হয়েছে ২৬, ২৭ ও ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত চাল পাওয়ার দাবি করলেও দেরিতে আসা কার্ডধারীদের
- 📌 ডিলার মিজানুর রহমানের দাবি, সব কার্ডধারীর বরাদ্দের চাল গুদামে পৌঁছেছে, কিন্তু বঞ্চিতদের কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি
- 📌 উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বলেছেন, চালের পরিবর্তে টাকা দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই
- 📌 মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফাহিমা বেগম বলেছেন, ডিলারদের কিছু সমস্যার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বগুড়ার মোকামতলা উপজেলায় খাদ্য বান্ধব কার্ডধারীরা নতুন কার্ড পেলেও চাল পাননি। গণেশপুর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা রওশন আরা নতুন কার্ড নিয়ে চাল সংগ্রহ করতে গিয়ে একাধিক ডিলারের কাছে ঘুরেও চাল পাননি। প্রথমে মুরাদপুর এলাকার এক ডিলারের কাছে যান, সেখানে চাল না পেয়ে গোডাউন রোডের আরেক ডিলারের কাছে যান। সেখানেও চাল না পেয়ে পুরোনো পুলিশ ফাঁড়ির কাছে আরেক ডিলারের কাছে যান। শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হয় তাঁকে।
এই অভিযোগের সাথে একমত জরিনা বেগমও। তিনি বলেন, ‘কার্ড নিয়ে ডিলারের কাছে দুই দিন ঘুরেছি। চাল পাইনি। তাঁরা বলছেন, পরের মাসে আসেন।’ শাহিদা বেগমের অভিযোগও একই রকম। তিনি বলেন, ‘কার্ড নিয়ে গেছি, কিন্তু চাল পাইনি। ২০ তারিখের পরে আসতে বলছে।’
অন্যদিকে, চালের পরিবর্তে টাকা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন কার্ডধারী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কার্ডধারী জানান, মুরাদপুর এলাকার ডিলারের কাছে চাল নিতে গেলে তাঁকে বলা হয়, সেখানে চাল নেই। চালের পরিবর্তে টাকা নিতে হবে। তিনি টাকা নিতে রাজি না হয়ে চাল দাবি করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে ৩০ কেজি চালের পরিবর্তে ৪৫০ টাকা দেওয়া হয়।
মোকামতলায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার মিজানুর রহমানের ডিলারশিপে মোট কার্ডধারী রয়েছেন ৭৬৩ জন। তাঁদের মধ্যে নতুন কার্ডধারী ২৬২ জন। মিজানুর রহমানের দাবি, সব কার্ডধারীর বরাদ্দের চাল তাঁর ডিলারশিপে পৌঁছেছিল। নতুন কার্ডধারীদের অনেকে চাল না পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২৬, ২৭ ও ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত চাল বিতরণ করেছেন তাঁরা। এরপর যাঁরা দেরিতে এসেছেন, তাঁদের কার্ডপ্রতি ৪৫০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
চালের পরিবর্তে টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সবার সিদ্ধান্তেই টাকা দেওয়া হয়েছে। আমাদের ওপর যেন দোষ না আসে, সে জন্য টাকা দিয়েছি।’ তবে যাঁরা চাল কিংবা টাকা কোনোটিই পাননি, তাঁদের বরাদ্দের চাল কোথায় গেল—এমন প্রশ্নের জবাবে মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি বলতে পারব না।’
সব কার্ডধারীর বরাদ্দের চাল পাওয়ার দাবি করলেও বঞ্চিত ব্যক্তিদের চাল না দেওয়ার বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ফাহিমা বেগম বলেন, ডিলারদের কিছু সমস্যার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা বসেছিলেন। পরে কিছু মানুষ চাল কিংবা টাকা পেয়েছেন। কার্ড নিয়ে কারও কোনো সমস্যা থাকলে তাঁকে জানালে গুরুত্বসহকারে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘প্রথমে একটু সমস্যা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ভালো বলতে পারবেন।’ চালের পরিবর্তে টাকা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চালের পরিবর্তে টাকা দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। আর আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
"কার্ড নিয়ে ডিলারের কাছে দুই দিন ঘুরেছি। চাল পাইনি। তাঁরা বলছেন, পরের মাসে আসেন"
"চালের পরিবর্তে টাকা দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মোকামতলা উপজেলা, বগুড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রওশন আরা, জরিনা বেগম, শাহিদা বেগম, মিজানুর রহমান, ফাহিমা বেগম, মো. ফারুক হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৬৩ জন কার্ডধারী, ২৬২ জন নতুন কার্ডধারী, ৩০ কেজি চাল, ৪৫০ টাকা, ২০ তারিখ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!