📌 বগুড়ার শেরপুর উপজেলার রামনগর গ্রামে পাখিদের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত গাছ কাটায় শতাধিক ডিম ভেঙে গেছে এবং অসংখ্য ছানা মারা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির গাছ বিক্রির কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার রামনগর গ্রামের করতোয়া নদীর তীরবর্তী এলাকা ‘পাখি কলোনি’ নামে পরিচিত। এখানে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৫০০টি গাছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বাসা রয়েছে। গত শনিবার থেকে স্থানীয় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে থাকা সাতটি বড় গাছ কাটা শুরু হলে ঘটে বিপর্যয়। গাছের মগডালে থাকা শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি বাসায় থাকা শতাধিক ডিম ভেঙে যায় এবং অসংখ্য ছানা মারা যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বগুড়ার শেরপুর উপজেলার রামনগর গ্রামে ‘পাখি কলোনি’ নামে পরিচিত এলাকায় শতাধিক ডিম ও ছানা ধ্বংস হয়েছে গাছ কাটার কারণে
- 📌 স্থানীয় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে থাকা সাতটি বড় গাছ কাটা শুরু হয় গত শনিবার থেকে
- 📌 শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি বাসায় ক্ষতি হয়েছে
- 📌 স্থানীয়দের অভিযোগ, আজাহার আলী ও তাঁর ভাইবোনেরা ১৬ শতক জমিতে থাকা গাছ বিক্রি করেছেন
- 📌 গ্রামবাসীর ভাষ্যমতে, পাখির ছানার কিচিরমিচির শব্দে তাঁদের ঘুম ভাঙত এবং পর্যটকরা পাখি দেখতে আসতেন
📰 বিস্তারিত
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার রামনগর গ্রামের করতোয়া নদীর তীরবর্তী এলাকা ‘পাখি কলোনি’ নামে পরিচিত। স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এখানে প্রায় ৫০০টি গাছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বাসা রয়েছে। শামুকখোল ছাড়াও অন্তত ১৫ থেকে ২০ প্রজাতির পাখি এখানে বসবাস করে। গত শনিবার থেকে স্থানীয় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে থাকা সাতটি বড় গাছ কাটা শুরু হলে ঘটে বিপর্যয়।
স্থানীয় কৃষক কাজেম আলী আকন্দ বলেন, পাখির ছানার কিচিরমিচির শব্দে তাঁদের ঘুম ভাঙত। পাখির জন্যই গ্রামটি অন্য রকম। পাখি দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এই গ্রামে আসতেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাছগুলোর মগডালে শামুকখোলের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বাসা বেঁধেছিল। গাছ কাটার সঙ্গে সঙ্গে বাসাগুলো নিচে পড়ে যায়। অনেক ডিম ভেঙে যায়, মারা যায় ছানা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আজাহার আলী ও তাঁর ভাইবোনেরা ১৬ শতক জমিতে থাকা সাতটি বড় গাছ বিক্রি করেছেন। একজন কাঠ ব্যবসায়ী শনিবার সকাল থেকে গাছগুলো কাটতে শুরু করেন। সোমবার দুপুরে রামনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, করতোয়া নদীর ডান তীরে কয়েকটি বড় গাছ কাটা হচ্ছে। কেটে ফেলা গাছের নিচে পড়ে আছে ডালপালা। সেসবের ফাঁকে ফাঁকে ছড়িয়ে রয়েছে পাখির ভাঙা বাসার অংশ। কোথাও পড়ে আছে ডিমের খোসা। কোথাও নিথর পড়ে আছে ছোট ছোট ছানা।
"গাছগুলো শুধু গাছ নয়, দীর্ঘদিন ধরে এগুলো পাখিদের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। পাখির আবাস রক্ষায় আইন আছে। তবে পাখির কলোনিতে গাছ সংরক্ষণের জন্য ক্ষতিপূরণের কোনো কার্যকর বিধিমালা বর্তমানে নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রামনগর গ্রাম, শেরপুর উপজেলা, বগুড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আজাহার আলী, কাজেম আলী আকন্দ, সালাউদ্দিন পারভেজ, সোহাগ রায়, সাইদুজ্জামান হিমু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০০টি গাছ, ৭০ থেকে ৮০টি বাসা, ১৬ শতক জমি, ১৫ থেকে ২০ প্রজাতির পাখি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!