📌 ভোলার মেঘনা নদীর বৈরাগীর চরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে সংঘবদ্ধ চক্রের মহিষ চুরির উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। গত দুই বছরে চরাঞ্চলগুলো থেকে তিন শতাধিক মহিষ চুরি হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাথানের রাখাল ও খামারিরা
ভোলার মেঘনা নদীর মাঝখানে অবস্থিত বৈরাগীর চরে বিদ্যুৎ, পাকা রাস্তা বা স্থায়ী বসতি না থাকলেও গড়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী বাথানভিত্তিক মহিষ পালন। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি এখন রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের হানা স্থানীয় রাখাল ও মহিষমালিকদের জীবনসংগ্রামকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে। গত দুই বছরে মেঘনার বিভিন্ন চর থেকে তিন শতাধিক মহিষ চুরির ঘটনা ঘটেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত দুই বছরে মেঘনা নদীর বিভিন্ন জেগে ওঠা চর থেকে সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে তিন শতাধিক মহিষ চুরি হয়েছে।
- 📌 ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাতের আঁধারে চোর-ডাকাত চক্রের উৎপাত আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
- 📌 চরের রাখাল নাগর হাওলাদারের ৪০ বছরের শ্রমে গড়ে তোলা ৪০টি মহিষের মধ্যে ১০টিই চুরি হয়ে গেছে।
- 📌 খামারি কাশেম মাস্টারের ৬৫০টি মহিষের বাথান থেকেও বিভিন্ন সময়ে ৩৫টি মহিষ চুরি করেছে দুষ্কৃতকারীরা।
📰 বিস্তারিত
গত ১ আগস্ট উত্তাল মেঘনা নদী পার হয়ে বৈরাগীর চরে গিয়ে দেখা যায় ৫৫ বছর বয়সী রাখাল নাগর হাওলাদারের সঙ্গে। ৪০ বছরের কঠোর শ্রমে তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকা বাজারমূল্যের গবাদি সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন। আগে তাঁর বাথানে ৪০টি মহিষ থাকলেও চোরেরা ১০টি চুরি করে নিয়ে গেছে। নিজের ৩০টি মহিষ পালনের পাশাপাশি তিনি মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতনে কাশেম মাস্টারের বাথানেও কাজ করেন। গত ৩১ জুলাই রাতেও তাঁর বাথানের আশপাশ থেকে তিনটিসহ মোট ছয়টি মহিষ চুরির ঘটনা ঘটে।
বাথানের জীবন মানেই ২৪ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম। রাতে চরের ঘাস খাওয়া মহিষ পাহারা দেওয়া, জোয়ারের পানিতে ভেসে যাওয়া পশুদের উদ্ধার করা এবং ভোরের আগেই দুধ দোহন ও চিকিৎসার কাজ করতে হয় রাখালদের। আগে নদী ভাঙন ও বন্যাকবলিত জোয়ার নিয়ে প্রধান দুশ্চিন্তা থাকলেও এখন মহিষ চুরি খামারিদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। চোরের ভয়ে নদী থেকে দূরে মহিষ বাঁধলেও রাতের জোয়ারের সুযোগ নিয়ে ট্রলারে করে এসে চোরেরা হানা দেয়।
মহিষমালিক শাজাহান মাস্টার, কাশেম মাস্টার, আবুল হাসান ও ফিরোজ ফরাজী জানান, গত দুই বছরে চরগুলো থেকে নিয়মিত মহিষ চুরি হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ৩ আগস্ট মহিষমালিকেরা ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে খামারিরা নৈশটহল বৃদ্ধি এবং সব মহিষ এক জায়গায় রাখার জন্য সুনির্দিষ্ট চারণভূমি তৈরির দাবি জানান। জবাবে পুলিশ সুপার মহিষমালিকদের সমিতি গঠন, রাখালদের তথ্যভান্ডার তৈরি, লাঠি ও বাঁশি সরবরাহসহ জরুরি সেবা ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
"এহোন আমার বোইষ (মহিষ) ৩০টা, ৪০টা আছিল। চোরেরা নিতে নিতে এই জায়গাত্তেন ১০টা বোইষ নিয়ে গেছে। আমরা হইলাম গরিব মানুষ, অসহায় মানুষ। দিন-রাইত কষ্ট করি, রোইদে পুরি, বিষ্টিত বিজি, জোয়ারে হাতরাই। এইভাবে বোইষ লালন-পালন কইরা কোনো রকম চলি, নিজে খাই, সংসার চালাই। আমার বোইষগুলা নিয়া গ্যাছে, অসহায় হোই গেছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বৈরাগীর চর, মেঘনা নদী, ভোলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাগর হাওলাদার, কাশেম মাস্টার, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: চুরি হওয়া মহিষ ৩ শতাধিক, নাগর হাওলাদারের খোয়া যাওয়া মহিষ ১০টি, কাশেম মাস্টারের চুরি হওয়া মহিষ ৩৫টি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!