📌 ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা। এক বছরে ঋণ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ঋণ পরিশোধের চাপে সরকার নতুন করে ঋণ নিচ্ছে, যা বিপজ্জনক ঋণঝুঁকি সৃষ্টি করছে
২০২৫–২৬ অর্থবছরের শেষে বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। এটি প্রথমবারের মতো এই পরিমাণের বেশি। এক বছরে ঋণ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে **১১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা** — প্রথমবারের মতো সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকার উপরে
- 📌 এক বছরে অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছে **১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা** — লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে **৬ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা বেশি** ঋণ নেওয়া হয়েছে
- 📌 **২০২৪–২৫ অর্থবছরে** সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল **১০ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা** — এবার **১ লাখ ৩১ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা** ঋণ নেওয়া হয়েছে
- 📌 **ব্যাংকব্যবস্থা থেকে** সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে **৫৪ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা** — এক বছরে **২৪ শতাংশের বেশি** বৃদ্ধি
- 📌 **বিদেশি ঋণের স্থিতি** (মার্চ ২০২৬) **৯১ বিলিয়ন ডলার** — দেশীয় মুদ্রায় **১১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা** — দেশি-বিদেশি ঋণ মিলিয়ে **২৩ লাখ কোটি টাকা** বোঝা
- 📌 **২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে** ঋণের সুদ পরিশোধের বরাদ্দ **১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা** — ঋণ পরিশোধ দ্বিতীয় শীর্ষ খাতে পরিণত হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সরকার ব্যাংকব্যবস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সঞ্চয়পত্র থেকে **১ লাখ ৩১ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা** ঋণ নিয়েছে। তবে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল **১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা**। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে **৬ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা বেশি** ঋণ নেওয়ায় সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। অর্থনীতিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো বলেছেন, “আমাদের দেশি-বিদেশি ঋণের বোঝা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এতে সুদ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। ঋণ পরিশোধে নতুন করে ঋণ নিতে হচ্ছে, যা বিপজ্জনক ঋণঝুঁকি সৃষ্টি করছে।”
ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। ফলে সরকার এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বেশি ঋণ নিতে পারেনি। গত অর্থবছরে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল মাত্র **১৯২ কোটি টাকা** — আগের অর্থবছরে ছিল **৪২ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা**। অন্যদিকে, ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে **৫৪ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা**। এছাড়া, ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের স্থিতি **৬ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা** — এক বছরে **২৪ শতাংশের বেশি** বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরকারের বিদেশি ঋণের স্থিতিও দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সরকারের বিদেশি ঋণের পরিমাণ **৯১ বিলিয়ন ডলার** — দেশীয় মুদ্রায় **১১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা**। দেশি-বিদেশি ঋণ মিলিয়ে সরকারের কাঁধে এখন **২৩ লাখ কোটি টাকার বোঝা**। অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধের বরাদ্দ রাখা হয়েছে **১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা**।
“আমাদের দেশি–বিদেশি ঋণের বোঝা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এতে সুদ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে এখন আমাদের ঋণ পরিশোধে নতুন করে ঋণ করতে হচ্ছে। ফলে আমরা বিপজ্জনক এক ঋণঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছি।”
মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেছেন, বড় কিছু ঋণের গ্রেস পিরিয়ডও শেষ হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে। তিনি সরকারকে ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপচয় কমাতে এবং আয় বাড়ানোর দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে বলেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবেদন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোস্তাফিজুর রহমান (সিপিডি ফেলো)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা (অভ্যন্তরীণ ঋণ), ৯১ বিলিয়ন ডলার (বিদেশি ঋণ), ২৩ লাখ কোটি টাকা (মোট ঋণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!