📌 আসিয়ান কাপের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ ফুটবল দলের কোচ টমাস ডুলি বলেছেন, প্রবাসী খেলোয়াড়দের স্থানীয়দের চেয়ে সুপারিয়র হতে হবে। তিনি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে প্রতিযোগিতায় দলের অবস্থান যাচাই করার লক্ষ্যে সাফল্যের মাপকাঠি নির্ধারণ করেছেন।
আসিয়ান কাপের জন্য শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের থেকে এগিয়ে থাকা ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে গ্রুপপর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বাংলাদেশ। দলের কোচ টমাস ডুলি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দল ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং নিজেদের অবস্থান যাচাই করার সুযোগ পেয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রবাসী খেলোয়াড়দের মান: কোচ ডুলি বলেছেন, প্রবাসী খেলোয়াড়দের স্থানীয়দের চেয়ে ভালো হতে হবে। শুরুর একাদশে খেলার মতো মানের না থাকলে তাদের ক্যাম্পে ডাকার অর্থহীন বলে মনে করেন তিনি।
- 📌 সাফল্যের মাপকাঠি: নিজেদের ফুটবল খেলা এবং প্রতিপক্ষকে কঠিন করে তোলা হবে সাফল্যের লক্ষ্য।
- 📌 সমর্থকদের বার্তা: ফেসবুকে ছড়িয়ে থাকা মিথ্যাগুলো বিশ্বাস করা উচিত নয়। পেশাদার ফুটবলের কৌশল সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন কোচ।
- 📌 হামজা চৌধুরীর প্রত্যাশা: হামজাকে দলের আর্মব্যান্ড ছাড়াই নেতৃত্বদানকারী হিসেবে দেখেছেন কোচ। তার ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তা ও পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করেছেন ডুলি।
- 📌 ফিলিপাইনের সাফল্য: চার বছরে ফিলিপাইনকে সাফল্যের শীর্ষে নিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, পরবর্তী কোচরা দলকে আবার নিচের দিকে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হন।
📰 বিস্তারিত
আসিয়ান কাপের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ ফুটবল দলের কোচ টমাস ডুলি বলেছেন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দলের বিপক্ষে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দল ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তিনি বলেন, “আমাদের আসল অবস্থান কোথায়, তা যাচাই করার এটিই সেরা সময়। সমর্থকেরা শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলা দেখতে চান এবং আমরা এখন ঠিক সেই সুযোগটাই পেয়েছি। র্যাঙ্কিংয়ের দিকে তাকালেই বুঝবেন, ম্যাচগুলো কতটা কঠিন হবে। তবে এটাই ফুটবল এবং এ কারণেই আমরা ফুটবলকে ভালোবাসি।”
প্রবাসী খেলোয়াড়দের নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে কোচ ডুলি বলেন, “প্রবাসী খেলোয়াড়দের অবশ্যই স্থানীয় খেলোয়াড়দের চেয়ে ভালো হতে হবে। তাদের শুরুর একাদশে খেলার মতো বা একাদশের খুব কাছাকাছি মানের হতে হবে। যে খেলোয়াড় মাত্র কয়েক মিনিট খেলে বা একেবারেই খেলে না, তার পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। আমি বরং সেই অর্থ ব্যবহার করে স্থানীয় খেলোয়াড়দের জন্য ক্যাম্প আয়োজন করব এবং তাদের আরও ভালো করে তুলব। আমাদের বর্তমানে যারা আছে, তার চেয়ে তাদের ভালো হতে হবে। এই কারণেই যখন আমি কোনো খেলোয়াড়ের সেই কোয়ালিটি বা মান নেই, তখন আমরা তাদের ছেড়ে দিই।”
কোচ ডুলি ফুটবল-দর্শনের বাস্তবায়নে সময়ের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “উন্নতি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ফিলিপাইনকে সাফল্যের শীর্ষে নিয়ে যেতে আমার চার বছর সময় লেগেছিল। কিন্তু আমি চলে যাওয়ার পর, পরবর্তী ১২ জন কোচ মিলে দলকে আবার আমার শুরুর জায়গাতেই ফিরিয়ে এনেছিল। বিষয়টা একটু ভেবে দেখুন। যেকোনো দলের টেকসই উন্নতির জন্য সময় ও আস্থা—দুটোই প্রয়োজন।”
সমর্থকদের উদ্দেশ্যে কোচ ডুলি বলেন, “বিপুলসংখ্যক মানুষ ফুটবল ভালোবাসেন, যা চমৎকার। কিন্তু পেশাদার ফুটবল কীভাবে পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণার অভাব। ফেসবুকে যা কিছু পড়েন, সবকিছু বিশ্বাস করবেন না। কারণ, সেখানে প্রচুর মিথ্যা ছড়িয়ে থাকে। বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান না থাকাটা দুঃখজনক হলেও সত্য, তবে দ্রুত হোক বা দেরিতে, সমর্থকেরা সব আসল সত্য বুঝতে পারবেন।”
হামজা চৌধুরীর নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে কোচ ডুলি বলেন, “হামজা একজন প্রকৃত নেতা—আর্মব্যান্ড না থাকলেও সে যেন দলের আসল অধিনায়ক। বাকি খেলোয়াড়েরা তাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে এবং অনুসরণ করে। তার ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তা, কারিগরি দক্ষতা, খেলার স্পিরিট এবং মনোভাব একদম নিখুঁত। শেফিল্ড ইউনাইটেড যে তাকে দলে পেতে এত ব্যাকুল ছিল, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমি শুধু আশা ও প্রার্থনা করি, সে যেন কোনো চোটে না পড়ে এবং কোনো ম্যাচ মিস না করে।”
"আমাদের আসল অবস্থান কোথায়, তা যাচাই করার এটিই সেরা সময়। সমর্থকেরা শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলা দেখতে চান এবং আমরা এখন ঠিক সেই সুযোগটাই পেয়েছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, ইংল্যান্ড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: টমাস ডুলি, হামজা চৌধুরী, আনোয়ার সোহাগ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ জন কোচ, ১৫-১৬ বছর, ৯ নম্বর, ৬৩ বলে, ৮১ রান
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!